ক্রিকেটারদের নাইট ক্লাব কেলেঙ্কারি বন্ধে কঠোর শাস্তির দাবি

ইংলিশ ক্রিকেটে শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা যেন থামছেই না। হ্যারি ব্রুক, বেন স্টোকসদের পর এবার নাইট ক্লাবের বাইরে মদ্যপান ও পুলিশের হাতে আটক হয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ফাস্ট বোলার ব্রাইডন কার্স। আর এই বারবার ঘটে চলা শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় পুরো ইংল্যান্ড দলকে বার্তা দিতে কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন।
গত শনিবার রাতে ডার্বিতে কাউন্টি দল ডারহামের সতীর্থদের সঙ্গে বাইরে গিয়ে বিপাকে পড়েন ৩১ বছর বয়সী পেসার ব্রাইডন কার্স। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তাকে হাতকড়া পরানো অবস্থায় পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। ডার্বিশায়ার পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার রাতে ডার্বির কেন্দ্রস্থল থেকে মাতাল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে ত্রিশোর্ধ্ব এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে নির্দিষ্ট এলাকা ত্যাগ করতে রাজি হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এই ঘটনার পর ক্রিকেট রেগুলেটর তদন্ত শুরু করায় আসন্ন পাকিস্তান সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের দল থেকে কার্সকে বাদ দিয়েছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। লর্ডসে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এই টেস্টে তার বদলি হিসেবে নেওয়া হয়েছে সনি বেকারকে। মাঠের পারফরম্যান্সের বিচারে ২০২৩ সালের অক্টোবর টেস্ট অভিষেকের পর থেকে ইংল্যান্ডের হয়ে ৫৮ উইকেট নিয়েছেন ব্রাইডন কার্স।
গত এক বছরে ইংল্যান্ডের চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের জড়িয়ে পড়া এটি চতুর্থ বড় ধরনের নাইট ক্লাব বিতর্ক। এর আগে গত অক্টোবরে নিউজিল্যান্ডে নাইট ক্লাবের বাইরে মারধরের শিকার হন হ্যারি ব্রুক। অস্ট্রেলিয়ায় অ্যাশেজ সিরিজের সময় বেন ডাকেটের মদ্যপানের ভিডিও ভাইরাল হয়। এছাড়া জুনে লন্ডন নাইট ক্লাবে সিকিউরিটি স্টাফের ওপর হামলার ঘটনায় উপস্থিত ছিলেন টেস্ট দলের সাবেক অধিনায়ক বেন স্টোকস ও পেসার গাস অ্যাটকিনসন।
সব মিলিয়ে গত এক বছরে ইংল্যান্ডের ৩০ জন কেন্দ্রীয় চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারের মধ্যে আটজনই এ ধরনের নৈশকালীন বিতর্কে জড়িয়েছেন। বারবার এমন ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক মাইকেল ভন। বিবিসি রেডিও ফাইভকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘দায়ীদেরএমন শাস্তি দিতে হবে যা পুরো ইংল্যান্ড দল এবং পুরো ক্রিকেট কাঠামো সতর্ক হয়ে যায়। সবাইকে পরিষ্কার বার্তা দিতে হবে যে, দলের সুনাম ক্ষুণ্ন করলে বা শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে কী পরিণতি হতে পারে।’
কার্সকে বলির পাঁঠা বানানো হলে কিছুটা সমবেদনা প্রকাশ করলেও ভন মনে করেন, এ ধরনের আচরণ আর বরদাস্ত না করার একটি নজির স্থাপন করা জরুরি। সাবেক ইংলিশ স্পিনার ফিল টুজফেলও ভনের সুরেই কথা বলেছেন। তার মতে, খেলোয়াড়দের আচরণ ঠিক করার একমাত্র পথ হলো নিষিদ্ধ করা। তিনি বলেন, ‘এটা বন্ধ করার একটাই উপায়—সেই ক্রিকেটারকে বলতে হবে “তুমি পাঁচ ম্যাচ খেলতে পারবে না।” আমার ক্যারিয়ারেও এ ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছিল। এভাবে কড়াকড়ি করলে এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দ্রুত কমে যাবে।’
জো রুটের দ্বিতীয় মেয়াদের টেস্ট অধিনায়কত্বের শুরুতেই এই বিতর্ক বড় ধাক্কা নিয়ে এসেছে। হেডিংলিতে পাকিস্তানকে ইনিংস ব্যবধানে হারানোর আগে রুট তার সতীর্থদের ‘ভালো মানুষ ও রোল মডেল’ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু মাঠের বাইরের এসব কাণ্ডে এখন লর্ডস টেস্টের আগে ক্রিকেট ছাপিয়ে শৃঙ্খলার প্রশ্ন সামলাতেই ব্যস্ত থাকতে হবে রুটকে। ভন মনে করেন, রুট নিশ্চয়ই এতে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছেন এবং লর্ডসে এসে এখন তাকে কারফিউ, মদ্যপান ও শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।









