টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল সত্যি না মরীচিকা?

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে এই ট্রফি জিততেই হবে নাজমুলদের। ছবি: মোশারফ হোসেন
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল—বাংলাদেশের জন্য এখনো দূরের স্বপ্ন। তবে সেই স্বপ্ন একেবারে অসম্ভবও নয়। বাকি ছয় টেস্টে কঠিন সমীকরণ মিলিয়ে নিতে পারলে প্রথমবারের মতো বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার সুযোগ তৈরি হবে বাংলাদেশের। কিন্তু সেই সম্ভাবনা নিয়ে এখনই দূরের হিসাব কষতে রাজি নন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তার ভাবনায় আপাতত ফাইনাল নয়, একেকটি ম্যাচ ও একেকটি সেশন।
সংবাদ সম্মেলনে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শান্ত বলেন, ‘আমি অনেক দূরে এখনই চিন্তা করছি না। আমরা যদি ভালো ক্রিকেট খেলতে থাকি, অবশ্যই আমাদের অ্যাচিভ করা সম্ভব। আমরা প্রতি ম্যাচ, প্রতিটা সেশনের দিকে নজর দিচ্ছি। দিনশেষে যদি আমরা একটা টেস্ট ম্যাচ পরেও ভালো রেজাল্ট নিয়ে আসতে পারি, ওইটা আমাদের জন্য হেল্প করবে ভবিষ্যতের জন্য।’
অর্থাৎ ফাইনালের স্বপ্নটা তিনি উড়িয়ে দিচ্ছেন না, আবার সেটিকে সামনে রেখে বাড়তি চাপও নিতে চাইছেন না। বাংলাদেশের সামনে এখন যে সমীকরণ, সেটি এমনিতেই কঠিন। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাকি ছয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অন্তত চারটি জয় ও একটি ড্র দরকার বাংলাদেশের। তাহলেই ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা তৈরি হবে। বাস্তবতার বিচারে কাজটি কঠিন। তাই শান্তও দূরের লক্ষ্য না ভেবে ছোট ছোট লক্ষ্যেই এগোতে চান।
শান্তর কথায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের আরেকটি দিকও। কঠিন পরিস্থিতিতে ভেঙে পড়ার প্রবণতা আগের তুলনায় কমেছে বলে মনে করেন তিনি। ড্রেসিংরুমে এ নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হয় বলেও জানিয়েছেন অধিনায়ক। ‘রিসেন্ট টাইমে এই জিনিসটা একটু কমে এসেছে। আমি বলব না যে অনেক ভালো, বাট অনেকটাই কমে এসেছে,’ বলেন শান্ত।
তবে উন্নতির জায়গা যে এখনো আছে, সেটিও স্বীকার করেছেন তিনি। বিশেষ করে সাম্প্রতিক দুই-তিনটি টেস্টে আগের মতো ভালো ক্রিকেট খেলতে পারেনি বাংলাদেশ। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে প্রয়োজন ধারাবাহিকতা। সেই ধারাবাহিকতা ফেরাতে দলের ভেতরে নিয়মিত আলোচনা ও পরিকল্পনা চলছে বলে জানান অধিনায়ক।
শান্তর আশা, বর্তমান অবস্থান থেকে বাংলাদেশ আরও ২০-৩০ শতাংশ উন্নতি করতে পারবে। আর সেই উন্নতিই দলকে ভবিষ্যতে আরও ভালো জায়গায় নিয়ে যাবে।
বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে সমর্থকদের আগ্রহও শান্তকে আশাবাদী করছে। তার কাছে এটি আনন্দের এবং একই সঙ্গে অনুপ্রেরণার বিষয়। ‘টেস্ট ক্রিকেট সবাই টেস্ট ক্রিকেটের জন্য অপেক্ষা করে, টেস্ট ক্রিকেট দেখে, টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে কথা বলে। আমার মনে হয়, এটা অনেক বড় ইন্সপায়ারিং আমাদের জন্য,’ বলেন তিনি।
ফাইনালের সমীকরণ তাই বাংলাদেশের জন্য কঠিন। কিন্তু অধিনায়ক যখন ছয় টেস্টের হিসাব না কষে একেকটি ম্যাচ, একেকটি সেশন ধরে এগোতে চান, তখন স্বপ্নটাকে পুরোপুরি মরীচিকাও বলা যায় না। বরং সামনে থাকা কঠিন পথটা পেরোতে পারলে সেই দূরের ফাইনালই একদিন বাস্তব হয়ে উঠতে পারে।



