স্যামসন বদলে গেছেন টেন্ডুলকারের ছোঁয়ায়

স্যামসনকে অভিনন্দন জানাাচ্ছেন রোহিত শর্মা। ছবি: সংগৃহীত
গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও জিতেছিলেন। এটা গৌরবের, তবে বিশ্বকাপ জুড়ে বেঞ্চে বসে থাকাটা কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছিল তাকে। পুরো বিশ্বকাপে একটা ম্যাচও ছিলেন না একাদশে। তখনই স্যামসন স্বপ্ন দেখেন ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে বিশেষ কিছু করার।
স্বপ্ন দেখলেই তো হবে না। এবারের বিশ্বকাপেও শুরুতে বেঞ্চেই ছিলেন স্যামসন। এরপর সুযোগ পেয়ে সেটা কাজে লাগালেন দুই হাতে। সুপার এইটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ভারতের বাঁচা–মরার ম্যাচে করেছিলেন ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪২ বলে ৮৯।
সেই ধারাবাহিকতায় ফাইনালেও খেললেন ৪৬ বলে ৮৯ রানের বিস্ফোরক ইনিংস। ২০০৯ সালে শহীদ আফ্রিদি ও ২০১৪ সালে বিরাট কোহলির পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের একই আসরের সেমিফাইনাল ও ফাইনালে ফিফটি করার কীর্তি এখন তারও।
তার এই বদলে যাওয়ার পেছনে অবদান আছে অনেকের। তবে বিশ্বকাপ সেরার পুরস্কার নিয়ে শচীন টেন্ডুলকারের নামটা আলাদাভাবেই নিলেন স্যামসন,‘সাবেক অনেক খেলোয়াড়ই সাহায্য করেছেন আমাকে। সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তবে গত কয়েক মাস শচীন টেন্ডুলকার স্যারের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ রেখেছিলাম। যখনই বাইরে বসে থেকেছি, খেলার সুযোগ পাইনি, তখনই তার সঙ্গে লম্বা সময় ধরে কথা বলেছি। টেন্ডুলকারের মতো কারও কাছ থেকে দিক নির্দেশনা পেলে আর কী চাই?’
বিশ্বকাপের আগে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে সুযোগ পেলেও রান পাননি সঞ্জু। তাই তিনি বিশ্বকাপের দলে থাকলেও প্রথম একাদশে থাকবেন না, তা পরিষ্কার ছিল। কিন্তু অভিষেক একের পর এক ম্যাচে ব্যর্থ হওয়ায় ওপেনিংয়ে সুযোগ পান সঞ্জু।
সেই সুযোগ কাজে লাগানো নিয়ে বললেন,‘নিউজিল্যান্ড সিরিজের পর ভেঙে পড়েছিলাম। স্বপ্ন ভেঙে গিয়েছিল। বুঝতে পারছিলাম না কী করব। কিন্তু ঈশ্বরের অন্য পরিকল্পনা ছিল। আবার সুযোগ পাই। এ বার আর সুযোগ নষ্ট করতে চাইনি।”
এ বার বিশ্বকাপে মাত্র পাঁচটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছেন সঞ্জু। তাতেই ৩২১ রান করে হলেন টুর্নামেন্ট সেরা। মেরেছেন সবচেয়ে বেশি ২৪টি ছক্কা। শেষ তিন ম্যাচে করেছেন ৯৭, ৮৯ ও ৮৯ রান।
বিশ্বকাপ সেরার পুরস্কার হাতে সঞ্জু ফিরিয়ে আনলেন দুই বছর আগের স্মৃতি ‘স্বপ্নপূরণ হয়েছে। সত্যি বলতে, এই স্বপ্ন দুই বছর আগে দেখেছিলাম। ২০২৪ সালের বিশ্বকাপে একটা ম্যাচও খেলার সুযোগ পাইনি। স্বপ্ন দেখতাম। পরিশ্রম করতাম। সে বারও এটাই করতে চেয়েছিলাম। এ বার পেরেছি।”




