আগন্তুক জাকেরই এখন ভরসা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ফের জাতীয় দলের কোচিং প্যানেলে ঢুকলেন আর জাকের আলী অনিকও একাদশের বাইরে থেকে ঢুকে পড়লেন। হয়তো নিয়তিই টেনে এনেছে জাকেরকে। প্রথমে আহত লিটন দাসের বদলে উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়েছেন। এরপর মাথায় আঘাত পাওয়া মুমিনুল হকের বদলে ব্যাটিংয়েও নেমেছেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং ধসে শেষ স্বীকৃত ব্যাটার হিসেবে জাকেরই টিকে আছেন ১৮ রানে। চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশ কত রানের টার্গেট দেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে, তার অনেকটাই নির্ভর করবে চতুর্থ দিনে জাকের কতক্ষণ ব্যাট করবেন তার ওপর।
তৃতীয় দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৭৯ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৪৫ রানে অলআউট করে দেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে বাংলাদেশ। ২৭ রানের লিড আর হাতে থাকা ৪ উইকেট নিয়ে ৭৯ রানের সঙ্গে আর কত রান যোগ করতে পারে বাংলাদেশ, সেটাই চতুর্থ দিন সকালের দৃশ্যপট। অলৌকিক কিছু না ঘটলে বাংলাদেশের ইনিংসটা ১২০-১৩০ রানের বেশি হওয়ার সম্ভাবনা কম, সেক্ষেত্রে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে চতুর্থ ইনিংসে লক্ষ্য দাঁড়াবে ১৬০ রানের আশপাশে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং কোচ ফ্লয়েড রেইফার মনে করেন, ১৫০-১৭৫ রান তাড়া করে জেতার সামর্থ্য তার ব্যাটারদের আছে।
দ্বিতীয় দিন পড়েছিল ১১ উইকেট, তৃতীয় দিনে ১২। সকালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের তেজনারায়ণ চন্দরপলকে স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর আরেকটা অসাধারণ ক্যাচ বানিয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরিয়েছেন শরিফুল ইসলাম। মধ্যাহ্ন বিরতির কিছু আগে বিদায় নিয়েছেন জাস্টিন গ্রিভসও। বিরতির পর ‘নাঈম শো’, লেজটা ছেঁটে ফেললেন এই অফস্পিনার, সঙ্গে মিরাজের বলে লিটনের দারুণ স্টাম্পিংয়ে জশুয়া বিশপের বিদায়ে ২১৩/৬ থেকে ২৪৫ রানে অলআউট ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশ পেল ২৭ রানের লিড। কিন্তু এরপর যে ব্যাটিংটা করলেন সাদমান-শান্তরা, তাতে নিজের পায়ে নিজেরাই কুড়াল মেরেছেন।
টেস্টের তৃতীয় দিনের উইকেটে বল বাঁক খাবেই। ফাটলের মুখগুলো খুলবে, মাটি ঝুরঝুরে হবে। কিন্তু কিছু শটের ব্যাখ্যা উইকেটের অজুহাতে ঢাকার উপায় নেই। তাওহীদ হৃদয় কী বুঝে ব্যাট চালিয়ে বলটা হাওয়ায় তুলে দিলেন, সেটা তিনিই ভালো জানেন। এই টেস্টের দুই ইনিংসে তার আউট হওয়ার ধরনের পর নির্বাচকরা ভুলে যাবেন দক্ষিণ আফ্রিকায় তার সাড়ে তিনশ রানের ইনিংসের কথা।
রোস্টন চেজের বলে সোজা ব্যাটে ডিফেন্স করতে গিয়ে লেগ বিফোর উইকেট হলেন শান্ত, রিভিউ নিয়েও লাভ হলো না। সাদমানেরও ব্যাট প্যাডের মাঝের ফাঁকা দিয়ে ঢুকে গেল চেজের হাত থেকে আসা বল। উইন্ডিজ অধিনায়ক ৩ উইকেট নিয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ধ্বংসযজ্ঞে। শামার জোসেফের বলটা বুঝতেই পারেননি তানজিদ তামিম, ব্যাট নামানোর আগেই বল ব্যাট ছুঁয়ে চেজের হাতে। দুই ইনিংসে ৭ এবং শূন্য তানজিদের, একটা বড় ইনিংসের পিঠে কতটা ব্যর্থতার বোঝা তাকে বইতে হবে তিনিই জানেন। বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিকানের বলে লেগ বিফোর উইকেট লিটন দাস। সাদমান ১৩ আর শান্ত করেছেন ১০, বাকিরা কেউ দুই অঙ্কে যেতে পারেননি। অথচ একটা জুটি হলে ম্যাচটা জয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যেত বাংলাদেশের, উইকেটের ঘরে ৬-এর বদলে ৩ বা ৪ হলেও ভরসার জায়গাটা আরেকটু শক্ত হতো। এখন এক প্রান্তে ‘কনকাশন সাব’ জাকের আর অন্য প্রান্তে অফস্পিনার নাঈম; তাই খুব বেশি আশাবাদী হওয়ারও উপায় নেই। যদিও নাঈম সাহস দিচ্ছেন, ‘আমরা চেষ্টা করব যত বেশি রান করতে পারি। আল্লাহর রহমতে আমি এবং জাকের ভাই ব্যাট করছি। এখন যদি লম্বা করতে পারি ইনশাআল্লাহ, যত বেশি রান করব ততই আমাদের জন্য ভালো। ২০০ রান হলে ইনশাআল্লাহ খুবই ভালো হয়’, তবে স্বীকৃত ব্যাটারদের অবস্থা দেখেই তার কথায় খুব একটা ভরসা করা যাচ্ছে না।
গত বছরের জুনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সবশেষ টেস্ট খেলা জাকেরই তাই ভরসা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে করেছিলেন ৩০ রান। আজ আগের দিনের ১৮ রানের সঙ্গে যদি আরও ৩০ রানও করতে পারেন, সঙ্গে ১৮ রান করা নাঈম যদি কিছুটা সঙ্গ দেন, তাহলে বোলারদের সামনে একটা লড়াইয়ের পুঁজি হয়। নিয়তির পরিহাস হচ্ছে, ব্যাট হাতে সেই পুঁজিটা জোগাড় করতে হবে বোলারদেরই।



