অস্ট্রেলিয়ায় চিকিৎসা নেবেন তাসকিন-নাহিদ-শান্ত
ভবিষ্যতে দেশে উন্নত চিকিৎসার আশা বিসিবির

সংগৃহীত ছবি
লিটন দাসের চোটের চিকিৎসায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মেডিকেল বিভাগ বা ফিজিওথেরাপিস্টদের কোনো গাফিলতির প্রমাণ পায়নি বোর্ডের শৃঙ্খলা কমিটি। একই সঙ্গে দেশের সীমিত স্পোর্টস মেডিসিন অবকাঠামোর কথা মেনে নিয়েছে বিসিবির মেডিক্যাল বিভাগের প্রধান ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম। তাই তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা ও নাজমুল হোসেন শান্তরা পুরোনো চোটের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন অস্টেলিয়ায়।
বিসিবির দাবি, লিটনের চিকিৎসায় শুরু থেকে নির্ধারিত মেডিকেল প্রটোকলই অনুসরণ করা হয়েছে। এমআরআই রিপোর্ট অনুযায়ী তাঁকে প্রয়োজনীয় সময় বিশ্রামে রাখা হয়েছিল এবং পরবর্তী রিপোর্টেও চোটের কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। তবে পরে সিঙ্গাপুরে উন্নতমানের স্ক্যানে তাঁর পেশির ভেতরে পানি জমে থাকার বিষয়টি শনাক্ত হয়, যা দেশের স্ক্যানে ধরা পড়েনি।
বোর্ডের মতে, চিকিৎসক ও ফিজিওথেরাপিস্টরা এমআরআই রিপোর্টের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাই চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় অবহেলা বা দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগের কোনো ভিত্তি শৃঙ্খলা কমিটি খুঁজে পায়নি।
এদিকে খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদি ইনজুরি ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় পুরোনো চোটের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন —তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা ও নাজমুল হোসেন শান্ত।
বাংলাদেশ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে যাচ্ছে। আসন্ন এই সফরকে কাজে লাগিয়ে তিন ক্রিকেটারের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ইনজুরি মূল্যায়নের ব্যবস্থা করেছে বিসিবি। বোর্ডের বিশ্বাস, অস্ট্রেলিয়ার উন্নত স্পোর্টস মেডিসিন সুবিধা কাজে লাগিয়ে ক্রিকেটারদের দীর্ঘদিনের চোট সম্পর্কে আরও নির্ভুল মূল্যায়ন সম্ভব হবে।
জানা গেছে, বর্তমানে দেশে বিসিবির নিজস্ব স্পোর্টস মেডিকেল ল্যাব, স্পোর্টস রেডিওলজিস্ট কিংবা নির্দিষ্ট ক্রীড়া-ইনজুরির জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। ফলে জটিল বা সূক্ষ্ম ধরনের ইনজুরি শনাক্ত ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে অনেক সময় বিদেশি বিশেষজ্ঞদের ওপর নির্ভর করতে হয়।
তবে বিসিবির মেডিকেল বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. মাহবুব আহমেদ শামীম আগামীর সময়কে মঙ্গলবার জানিয়েছেন, ‘ভবিষ্যতে দেশের মধ্যেই আধুনিক স্পোর্টস মেডিসিন সুবিধা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে করে ক্রিকেটারদের চিকিৎসার জন্য বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসাসেবা দেশেই নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’
লিটনের চিকিৎসা নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনা এবং তিন ক্রিকেটারকে অস্ট্রেলিয়ায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত—দুই ঘটনাই বাংলাদেশের ক্রিকেটে উন্নত স্পোর্টস মেডিসিন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। বিসিবির আশা, ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে উঠলে খেলোয়াড়দের ইনজুরি ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর ও আধুনিক হবে।




