টেস্ট ইতিহাসে যেখানে বাংলাদেশ তৃতীয় সফল দল

নাহিদ রানা নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। ছবি: আগামীর সময়
চতুর্থ দিন শেষে বাংলাদেশকে খোঁচা দিয়েছিলেন সালমান আলী আগা। সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন,‘বাংলাদেশ যদি সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে ২৬০ রানে ইনিংস ঘোষণা করে তাহলে আমরা অবশ্যই জিতব। কিন্তু আমার মনে হয় না ওরা এটা করবে।’
সালমানকে জবাব দিতেই কিনা ২৬৭ রানে লিড নিয়ে ইনিংস ঘোষণা করেন নাজমুল হোসেন শান্ত। নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদ, তাইজুল ইসলামদের ওপর আস্থা ছিল তার। সেই আস্থার প্রতিদান দিয়ে বোলাররা পাকিস্তানকে অলআউট করেন ১৬৩ রানে। আর বাংলাদেশ পায় ১০৪ রানের ঐতিহাসিক জয়।
দেশের মাটিতে এটাই পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয় বাংলাদেশের। ১৮৭৭ সাল থেকে শুরু হওয়া টেস্ট ইতিহাসে এমন সিদ্ধান্ত, সাহসের গৌরবগাঁথাই হয়ে থাকবে। কেননা বাংলাদেশের চেয়ে কম রানে ইনিংস ঘোষণা করে জয়ের নজিরই আছে কেবল দুটি।
এর একটি নিউজিল্যান্ডের, আরেকটি পাকিস্তানের। ১৯৮৪ সালে ক্যান্ডি টেস্টে ২৬২ রানের লিড নিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিতেছিল নিউজিল্যান্ড। জয়ের ব্যবধান ১৬৫ রানের। আর পাকিস্তান ১৯৯৩ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে করচি টেস্টে ১৩১ রানে জিতেছিল ২৬৫ রানের লিড নিয়ে। বাংলাদেশ মিরপুরে পাকিস্তানকে হারালো ২৬৭ রানের লিড নিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে। এটা তৃতীয় সর্বনিম্ন রানে ইনিংস ঘোষণা করে জয় পাওয়ার অনন্য নজির।
পাকিস্তানের বিপক্ষে এ নিয়ে টানা তৃতীয় টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ। ২০২৪ সালে তাদেরই মাঠে নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে ২-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে হ্যাটট্রিক জয় নেই ভারতেরও।
বাংলাদেশের কাছে এভাবে নাস্তানাবুদ হয়ে ক্ষুব্ধ পাকিস্তানের সাবেক তারকা উইকেটরক্ষক কামরান আকমল। নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে কামরান বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটা লজ্জাজনক পারফরম্যান্স। এখন আর কোন দল আমাদের আয়না দেখাবে? ঘরের মাঠে হোক বা বিদেশে, আমাদের একতরফা জেতা উচিত। আগে আমরা জিততাম। কারণ, তখন মেধা ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে দল গঠন করা হতো। তারা এখন ভালো হয়ে গেছে আর আমরা ভালো থেকে খারাপ হয়ে গেছি।’




