অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সিরিজ জয়

ছবি: আগামীর সময়
মিরপুরে দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের কীর্তি বাংলাদেশের। বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে স্বাগতিকদের জয় ৫ উইকেটে। আগে ব্যাট করা অস্ট্রেলিয়া বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হওয়া পর্যন্ত ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৭ রান তোলে। বৃষ্টির পর আর তাদের ইনিংস ফেরানো সম্ভব হয়নি। ডাকওয়ার্থ লুইস মেথডে বাংলাদেশের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪১ ওভারে ১৯২ রান। ৬ ওভার হাতে রেখেই ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ২-০ তে সিরিজে এগিয়ে গিয়ে সিরিজ জিতল টাইগাররা।
ট্রাভিস হেড, জস হ্যাজেলউড, মিচেল স্টার্ক, মিচেল মার্শরা আসেননি তো কি হয়েছে! তাদের না আসা তো বাংলাদেশের ব্যাপার নয়। অস্ট্রেলিয়াই তাদের সেরা তারকাদের দলে রাখেনি। বাংলাদেশকে ঠিক ভারতের মতো গুরুত্ব দেয়নি। তার মাশুল দিতে হলো হাতেনাতে। বাংলাদেশের মাটিতে ২১ বছর পর খেলতে এসে ২০১১ আর এখনকার বাংলাদেশের পার্থক্য টের পেল অজিরা। জেনে গেল বাংলাদেশকে হালকাভাবে নেওয়া ঠিক হয়নি।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে সাম্প্রতিক সময়ের ধারাবাহিক সাফল্যের মুকুটে যুক্ত হলো আরেকটি পালক। টানা চারটি ওয়ানডে সিরিজ জিতে বাংলাদেশের আধিপত্য আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল। আর এই সাফল্যের কেন্দ্রে থাকল টাইগারদের বোলিং বিভাগ, যারা দ্বিতীয় ম্যাচেও অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপকে কার্যত শ্বাস নেওয়ার সুযোগই দেয়নি।
এই সিরিজে বাংলাদেশের সাফল্যের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বোলিং ইউনিটের সম্মিলিত পারফরম্যান্স। শুধু একজন বা দুজন নন, প্রায় প্রত্যেক বোলারই নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘরের মাঠের সিরিজেও একই চিত্র দেখা গেছে। প্রতিপক্ষকে সীমিত রানের মধ্যে আটকে রেখে ম্যাচ জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছেন বোলাররাই।
তবে ম্যাচটি শুধুই বোলিংয়ের গল্প নয়। রান তাড়ায় নেমে শুরুতে চাপে পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ফেরার সুযোগও করে দিয়েছিল স্বাগতিকরা। নতুন বলের সুবিধা কাজে লাগিয়ে সফরকারীদের পেসাররা কিছু সময়ের জন্য ম্যাচের রং বদলে দেন।
কিন্তু এখানেই দেখা যায় এই দলের পরিণত মানসিকতা। শুরুর ধাক্কা সামলে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ান মিডল অর্ডারের ব্যাটাররা। অযথা ঝুঁকি না নিয়ে পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করেন তারা। উইকেট ধরে রেখে ধীরে ধীরে রান তোলার কৌশলই শেষ পর্যন্ত কাজে দেয়। প্রয়োজনীয় জুটি গড়ে ওঠায় চাপ কমে আসে, আর ম্যাচও ধীরে ধীরে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।
ঘরের মাঠে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ওয়ানডে সাফল্যের গল্পে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেরই অবদান রয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে থাকবেন বোলাররাই। তাদের নিয়ন্ত্রিত, পরিকল্পিত ও আক্রমণাত্মক বোলিংই এনে দিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায়।






