এমএলসিতে ছন্দহীন সাকিব, এলপিএলের আগে বাড়ছে প্রশ্ন

সাকিব আল হাসান কি তবে ফুরিয়ে যাচ্ছেন! সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে আগের দ্যুতি নেই তার। এ বছর জানুয়ারির পর মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়েই আবার মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেটে মুম্বাই নিউ ইয়র্কের হয়ে খেললেও ভালো করতে পারছেন না ব্যাটে-বলে।
এমআই এমিরেটসের হয়ে দুই ম্যাচে মিডল অর্ডারে ব্যর্থ হওয়ার পর তৃতীয় ম্যাচে ৮ নম্বরে নামতে হয়েছে সাকিবকে। এবার অবশ্য আগের দুই ম্যাচের চেয়ে কিছুটা ভালো ছিল তার পারফরম্যান্স। ১৩ বলে ১৮ রানের ছোট্ট ক্যামিও খেললেন সাকিব। বল হাতেও পেলেন এবারের মেজর লিগ ক্রিকেটে নিজের প্রথম উইকেট। কিন্তু ব্যক্তিগত ছোট্ট সাফল্যেও জয়ের দেখা পায়নি তার দল এমআই নিউ ইয়র্ক। ৯ বল হাতে রেখেই ৫ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে ওয়াশিংটন ফ্রিডম। এমআই নিউ ইয়র্কের করা ৮ উইকেটে ১৮৭ রান ১৮ দশমিক ৩ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯০ রান করে টপকে যায় তারা।
তবে ম্যাচের ফলের চেয়েও এখন আলোচনায় সাকিবের সাম্প্রতিক ফর্ম। এমএলসির তিন ম্যাচে ব্যাট হাতে এখনো কোনো উল্লেখযোগ্য ইনিংস খেলতে পারেননি বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক। আসরের প্রথম ম্যাচে তারে ৫ নম্বরে নামায় নিউ ইয়র্ক, ৩ বলে করেছিলেন মাত্র ১ রান। পরের ম্যাচে চারে নেমে ১৪ বলে করেন ১৫ রান। উইকেটশূণ্য ছিলেন দুই ম্যাচেই।
এমন পারফরম্যান্সের পর প্রশ্ন উঠছে সাকিব কি ফুরিয়ে যাচ্ছেন! চলতি মাসেই জাফনা কিংসের হয়ে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে খেলতে শ্রীলঙ্কায় যাওয়ার কথা রয়েছে সাকিবের। কিন্তু এমএলসির পারফরম্যান্স এলপিএলের আগে খুব বেশি স্বস্তি দিচ্ছে না তাকে। টি-টোয়েন্টির বড় মঞ্চে প্রতিযোগিতামূলক আসরে একজন অলরাউন্ডারের কাছ থেকে যে ধারাবাহিক অবদান প্রত্যাশা করে দল, সেটির দেখা মিলছে না।
শুধু পরিসংখ্যান নয়, তার ফিটনেস নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। আগের তুলনায় সাকিবকে কিছুটা ধীরগতির মনে হয়েছে বলে অনেক ক্রিকেট–বিশ্লেষকের পর্যবেক্ষণ। ফিল্ডিংয়ের সময়ও আগের সেই চেনা ক্ষিপ্রতা খুব বেশি চোখে পড়ছে না। অবশ্য এর পেছনে ম্যাচ ফিটনেস, দীর্ঘ বিরতির প্রভাব, বয়স কিংবা টুর্নামেন্টভেদে ভূমিকার পরিবর্তনের মতো একাধিক কারণও থাকতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেও সাকিবের খেলার সংখ্যা আগের তুলনায় কমেছে। নিয়মিত প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট এবং ধারাবাহিক ম্যাচ অনুশীলনের ঘাটতি তার পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে।
অবশ্য সাকিবের ক্যারিয়ার বলে দেয়, সমালোচনার জবাব তিনি বহুবার মাঠেই দিয়েছেন। তাই এশিয়ার মাটিতে হতে যাওয়া এলপিএল হতে পারে তার জন্য নতুন করে ছন্দে ফেরার মঞ্চ। কিন্তু সেটি করতে হলে ব্যাট, বল এবং ফিল্ডিং— তিন বিভাগেই আগের ধার ফিরে পাওয়া জরুরি। নইলে বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডারের ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাবে।




