হারারেতে ব্যাটিং ব্যর্থতায় ব্যাকফুটে বাংলাদেশ

ব্যাটিং ব্যর্থতার দিনে মুমিনুল ছাড়া বলার মতো স্কোর নেই আর কারও। ছবি: সংগৃহীত
গত দুই সিরিজ টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের গল্পটা ছিল আত্মবিশ্বাস আর ধারাবাহিকতার। ঘরের মাঠে ভালো ফল, ২০২৪ সালে বিদেশেও জয়ের পূর্ণতা —সব মিলিয়ে নাজমুল হোসেন শান্তর দল যেন বদলে যাওয়া এক বাংলাদেশ। কিন্তু সেই ছবিটাই হঠাৎ উল্টে গেল হারারেতে। প্রায় সাত মাস পর দেশের বাইরে টেস্ট খেলতে নেমে আবারও পুরোনো ব্যাটিং দুর্বলতার মুখোমুখি বাংলাদেশ।
হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই জিম্বাবুয়ের পেসারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে চাপে পড়ে সফরকারীরা। তবে উইকেট যতটা কঠিন ছিল, তার চেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠবে বাংলাদেশের শট নির্বাচনের দিকে। অফ স্টাম্পের বাইরের বল খোঁচা দেওয়া, শরীর থেকে দূরের বল ড্রাইভ করতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ দেওয়া কিংবা অযথা আগ্রাসন দেখাতে গিয়ে উইকেট ছুড়ে দেওয়া—ব্যাটসম্যানদের আউটের ধরন হতাশাই বাড়িয়েছে।
৮১ বল খেলে সর্বোচ্চ ৬০ রান করেছেন মুমিনুল হক। বাকিদের কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। মাঝের সারির অভিজ্ঞ ব্যাটাররাও ইনিংস গড়ার বদলে নিজেদের ভুলেই বিদায় নিয়েছেন। ফলে ১৪০ রানে গুটিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের ইনিংস ছিল ব্যাটিং পরিকল্পনা ও মানসিকতার ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। এতে ২০১৮ সালের প্রথমবার টেস্টে জিম্বাবুয়ের কাছে দেড়শ রানের নিচে অলআউট হয় বাংলাদেশ।
ব্যাটিংয়ের এই ব্যর্থতার পর বোলারদের সামনে ছিল দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ। কিন্তু জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনার শুরু থেকেই স্বচ্ছন্দ ছিলেন। নতুন বলে প্রত্যাশিত সুইং কিংবা বাউন্স কাজে লাগাতে পারেননি বাংলাদেশের পেসাররা। স্পিনও প্রথম দিন বড় কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। দিনের খেলা শেষে স্বাগতিকরা ১ উইকেটে ১৩৬ রান তুলে বাংলাদেশের ১৪০ রানের কাছাকাছি পৌঁছে যায়, হাতে তখনও ৯ উইকেট।
বেন কারেনকে ৪২ রানে ফিরিয়ে একশ রানের আগে উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন খালেদ আহমেদ। ৮৯ রানে ওই উইকেট ছাড়া আর সাফল্যের সুযোগও তৈরি করতে পারেননি বোলাররা। ইনোসেন্ট কাইয়া ১০৮ বলে ৭৬ ও ব্রেন্ডন টেলর ১৭ রানে অপরাজিত আছেন। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের চেয়ে মাত্র ৪ রানে পিছিয়ে স্বাগতিকরা।
প্রথম দিনের শেষে তাই ম্যাচে নয়, মানসিক লড়াইয়েও পিছিয়ে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিনে ঘুরে দাঁড়াতে হলে বোলারদের অসাধারণ কিছু করতে হবে, আর ব্যাটসম্যানদের দ্বিতীয় ইনিংসে প্রথম দিনের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়াটাই হবে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।




