সেই গামিনিতেই পদকের আশা!

এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের পিচ তৈরি করেছেন বাংলাদেশের সাবেক কিউরেটর গামিনি ডি সিলভা
‘মিরপুরে খেলে ব্যাটার হিসেবে অনেকেরই ক্যারিয়ার ডাউন হয়ে গেছে’, বছরখানেক আগেই একটা সংবাদ সম্মেলনে কথাটা বলেছিলেন লিটন কুমার দাস। এরপর পদ্মা মেঘনায় অনেক জল গড়িয়েছে, দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রভাবে বদল এসেছে ক্রিকেট প্রশাসনেও। বিদায় নিয়েছেন মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ‘কুখ্যাত’ কিউরেটর গামিনি ডি সিলভা। তবে খুব বেশি দিন এই শ্রীলঙ্কানকে এড়িয়ে থাকতে পারলেন না লিটন। তার নেতৃত্বে এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে অংশ নিতে জাপানের আইচি প্রদেশে যাবে বাংলাদেশ পুরুষ ক্রিকেট দল। এবারের এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটের মাঠ ও উইকেট প্রস্তুত করেছেন লিটনদের বহুদিনের চেনা শ্রীলঙ্কান কিউরেটর গামিনি। পুরুষ দলের প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন মনে করেন, গামিনি আছেন বলেই পদক জয়ের আশা আছে বাংলাদেশের!
২০১০ সালের গুয়ানজু এশিয়ান গেমস থেকে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হয় এই মাল্টি-ডিসিপ্লিন স্পোর্টস ইভেন্টে। শুরুতে ভারত এই প্রতিযোগিতায় দল পাঠাত না, অংশ নেওয়া অন্যান্য দেশও ঠিক জাতীয় দল না পাঠিয়ে তরুণদের সুযোগ দিত এসব আসরে, ম্যাচগুলোরও ছিল না আন্তর্জাতিক মর্যাদার। প্রথম ক্রিকেট ইভেন্টেই আফগানিস্তানকে হারিয়ে সোনা জিতেছিল বাংলাদেশ, যা এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের এশিয়ান গেমসে জেতা একমাত্র সোনা। ২০১৯ সালের পর থেকে আইসিসি যেকোনো দুটি সদস্য দেশের ম্যাচকে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির মর্যাদা দেয়, ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির বৈঠকে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকে ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে অন্তর্ভুক্ত করে। এ ঘটনাপ্রবাহই ভারতকে আগ্রহী করে এশিয়ান গেমসে দল পাঠাতে, ২০২৩ সালে (২০২২-এর গেমস হয় পরের বছর) হাংজুতে ভারত জাতীয় দলের বাইরের ক্রিকেটারদের নিয়ে দল গড়ে কাছাকাছি সময়ে ওয়ানডে বিশ্বকাপ থাকায়। প্রথমবার অংশ নিয়েই সোনা জেতে ভারত আর বাংলাদেশ সেবার পেয়েছিল ব্রোঞ্জ। এবার ভারত আরও শক্তিশালী, তারা প্রায় জাতীয় দলই পাঠাচ্ছে জাপানে, যেখানে তারা এশিয়ান গেমসের আগে জাপানের বিপক্ষে একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচও খেলবে। দলে শ্রেয়াশ আইয়ার, সঞ্জু স্যামসন, ঈশান কিষাণ, বৈভব সূর্যবংশীর মতো তারকারা আছেন, আছেন জসপ্রিত বুমরাহ, হর্ষিত রানা, বরুণ চক্রবর্তীর মতো বোলাররাও। তারকায় ঠাসা এই দলটি রীতিমতো ‘অজেয়’, তবে বাংলাদেশ সাহস জোগাচ্ছে গামিনি ফ্যাক্টর। জাপানের কন্ডিশন নিয়ে জানতে চাইলে সালাউদ্দিন বলেছেন, ‘মাঠ কেমন হবে জানি না, তবে কে বানিয়েছে সেটা জানি’। গামিনির ‘কালো জাদু’র উইকেটে এসে বসে গেছে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড কিংবা ভারতেরও জয়রথ। সালাউদ্দিন বলেছেন যে, দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটাররাই টি-টোয়েন্টি খেলার মধ্যে নেই, গত কিছুদিন টেস্ট ম্যাচের প্রস্তুতিতেই ব্যস্ত ছিলেন বেশিরভাগ ক্রিকেটার। তবে গামিনির হাতে বানানো উইকেটে খেলার অভিজ্ঞতা তো কারোরই নেই। কাদামাখা ধানক্ষেতে ফেরারি বা ল্যাম্বোর্গিনির চেয়ে অটোরিকশাই কিন্তু এগিয়ে থাকবে, তাই বলা যায়, গামিনি যদি মিরপুরের ধারাবাহিকতা করোগি স্পোর্টস পার্কে ধরে রাখতে পারেন, তাহলে অজেয় ভারতীয় দলকেও হারিয়ে দেওয়ার একটি সুযোগ পেয়ে যেতে পারে লিটন দাসের দল!
বাংলাদেশ খেলবে সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে, প্রথম ম্যাচে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া, হংকং অথবা ওমানের কোনো এক দল। সেমিফাইনালে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ পাকিস্তান আর ফাইনালে দেখা হতে পারে ভারতের সঙ্গে। বাংলাদেশ দলে শেখ মেহেদি, রিশাদ হোসেন আর নাসুম আহমেদ— এই তিন স্পিনার আছেন। গামিনির হাতে গড়া উইকেটে তাদের চেয়ে বেশি কজন খেলেছেন! ভারতের বিধ্বংসী ব্যাটিং লাইনআপকে থামিয়ে দিতে পারেন এ ত্রয়ীই, যদি উইকেটটি ট্রেডমার্ক ‘মেড বাই গামিনি’ হয়!





