২০তম এশিয়ান গেমস
ব্যর্থতার ব্যাখ্যায় বোমা ফাটালেন সারওয়ার ইমরান

পাকিস্তানের কাছে ৩১ রানে হেরে এশিয়ান গেমসের ব্রোঞ্জপদক হাতছাড়া হয়েছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের। এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটারদের দেশে ফিরতে হচ্ছে শূন্য হাতে। এর কিছুদিন আগে আরব আমিরাতে এশিয়া কাপেও ভালো খেলেনি দল। জোড়া ব্যর্থতার স্বাভাবিকভাবেই দলের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। ব্যর্থতার শলুক সন্ধানে হয়ত কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে দলের কোচকেও। তার আগেই অভিজ্ঞ কোচ সারওয়ার ইমরান দলের ব্যর্থতার ব্যাখ্যায় বোমা ফাটালেন। তুললেন, টুর্নামেন্ট চলাকালে কোচ-অধিনায়ককে সরিয়ে দেওয়ার আলোচনা ওঠার গুরুতর অভিযোগ।
নাগোয়ার করোগি স্পোর্টস পার্ক ক্রিকেট গ্রাউন্ডে পাকিস্তানের কাছে হারের কষ্টে শুরুতে মিক্সড জোনে আসতে চাননি কোচ সারওয়ার ইমরান। অনেক অনুরোধের পর যখন এলেন, তাকে দেখে ভীষণ বিধ্বস্ত মনে হলো। জানালেন, কেবল ক্রিকেটারদের সামর্থ্য বা পারফরম্যান্স নয়, বাইরের অনেক কিছুই এই ব্যর্থতার নেপথ্যের কারণ, ‘আমাদের আসলে সমস্যার শুরু হয়েছে এশিয়া কাপ থেকে। আমরা এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ক্লোজ ম্যাচ হারি। হারার পর থেকেই আমাদের কাছে বিভিন্ন জায়গা থেকে নানারকম খবর আসতে শুরু করে। অনেক কথাই শুনেছি। আমরা ইন্দোনেশিয়া এবং ইউএই-র মতো দলের সঙ্গেও ১২০-১৩০ করতে পারিনি এবং ওই জিনিসটা এশিয়ান গেমসে বয়ে বেড়িয়েছি।’
গেমস শুরুর আগে অধিনায়ক নিগার সুলতানা টি-২০ দলের দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন। এরপর থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ভেতর-বাইরে, নানা সংবাদ মাধ্যমে নানারকম গুঞ্জন শোনা যায়। যার নেতিবাচক প্রভাব দলে পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি সারওয়ার ইমরান- ‘এটা হয়ত দলের ওপর, খেলোয়াড়দের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। আমার মনে হয়, আমি শিওর না, তবে এটা একটা কারণ হতে পারে। তবে এটা ওনো অযুহাত নয়। বড় কথা হলো, আমরা কোনোভাবেই ওই লেভেলে যেতে পারছি না। আপনি দেখেন, যে কোনো দল ছয় মারছে সহজেই। আমাদের দল কিন্তু ছয় মারতেই পারছে না। যে আগে মারতো, এখন সে সেই জায়গাতেও নেই। সমাধানটা আমার মনে হয় সাইকোলজিক্যাল। বুস্ট আপ করতে হবে, আমরা বুস্ট আপ করতে পারছি না।’ এর পরেই বোমা ফাটালেন সারওয়ার ইমরান, ‘আমরা যখন একটা টুর্নামেন্ট খেলছি, হেড কোচ আর ক্যাপ্টেনদের আপনি সাইজ করে দিলেন, তো কীভাবে আপনি (ভালো কিছু) আশা করেন?’
পাকিস্তানের বিপক্ষে ব্যাট করতে নেমে পাওয়ার প্লে’র সুযোগ হাতছাড়াও হারের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এই কোচ, ‘আজকে আমরা যদি পাওয়ার প্লেতে ভালো ব্যাটিং করতে পারতাম, ম্যাচটা জেতা সম্ভব ছিল। পাওয়ার প্লেতে মোটামুটি ৪০-৪৫ এর মতো একটা সংগ্রহ... ৬০-৭০ লাগবে না, ৪০-৪৫। তারপর ১৫ ওভারে ১০০ রান। অথচ দল পাওয়ার প্লেতে ২৪ রান করছে, যেটা অনেক পিছিয়ে পড়া। পাওয়ার প্লের রানটাই আমাদের হারিয়েছে।’
নারী ক্রিকেটে বাংলাদেশ একটা জায়গায় আটকে আছে দাবি করে সারওয়ার ইমরান একটা শক্ত অবকাঠামো গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন, ‘(নারী ক্রিকেট) একটা জায়গায় আটকে আছে। দল নেট প্র্যাকটিস করল, তারপর খেলতে গেল— এটা কিন্তু এই রকম না। এখানে প্রসেস আছে। শ্রীলঙ্কায় শত শত মেয়ে স্কুল ক্রিকেট খেলছে। আমাদের কিন্তু ওই রকম কোনো স্ট্রাকচার নেই। নতুন কোনো প্লেয়ার নেই, আমরা ৩০জনের বেশি প্লেয়ার বের করতে পারি না। এই জিনিসগুলো একটু খেয়াল করতে হবে। স্কুল ক্রিকেট, অনূর্ধ্ব-১৮ ক্রিকেট, বয়সভিত্তিক ক্রিকেট এগুলো করতে হবে, ট্রেনিং ফ্যাসিলিটি মেয়েদের আলাদা করতে হবে। এগুলো কিছুই করা হয় না। এগুলো যখনই করবে, তখনই আমাদের নতুন নতুন প্লেয়ার আসবে।’



