রোনালদোর কথা রাখেননি কোচ

বাংলাদেশের লম্বা কোচিং বহরে নতুন যুক্ত হয়েছেন আরেকজন। দক্ষিণ আফ্রিকার মালিবোংওয়ে মাকেতা। তার বিশেষত্ব ক্রিকেটার তৈরিতে। দক্ষিণ আফ্রিকার বর্তমান দলের অনেক ক্রিকেটারই মাকেতার প্রশিক্ষণে উঠে এসেছেন। আফগানিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজ থেকে দুই বছরের জন্য বাংলাদেশ দলের সঙ্গে অভিযান শুরু হবে তার।
আসন্ন দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ সামনে রেখেই মাকেতাকে নিয়োগ দিয়েছে বিসিবি। সঙ্গে যোগ হয়েছে এই কোচের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনস ম্যানেজার শাহরিয়ার নাফীস বলেছেন, ‘মোহাম্মদ সালাউদ্দিনকে এইচপিতে নিয়োগ দেওয়ার পর জাতীয় দলে আমাদের একজন সহকারী কোচ প্রয়োজন ছিল। যিনি পুরো দলের সমন্বয়ে ভূমিকা রাখবেন। এ ছাড়া তার সিভি যখন আমরা দেখলাম, অনেক অভিজ্ঞতা, সেটিও গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি। তিনি শুধু জাতীয় দলের হয়ে নয়, এইচপি, যুব দল— সব ক্ষেত্রেই সুযোগমতো কাজ করবেন।’
৪৬ বছর বয়সী মাকেতার সবচেয়ে বড় শক্তি তার দীর্ঘ কোচিং অভিজ্ঞতা। তরুণদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে তার দক্ষতা অনেক। ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার লেভেল-৪ কোর্স করা মাকেতা দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কোচিংয়ের সঙ্গে যুক্ত। দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলের সহকারী কোচ, ‘এ’ দলের প্রধান কোচ, অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রধান কোচ, ন্যাশনাল একাডেমির প্রধান এবং ঘরোয়া দল ওয়ারিয়র্সের কোচ হিসেবেও তাকে দেখা গেছে।
নানা পর্যায়ে কাজ করেছেন বলেই ক্রিকেটারদের এগিয়ে যেতে কোন দিকটায় জোর দেওয়া প্রয়োজন, তা জানা আছে মাকেতার। নাফীস বলছিলেন, ‘আমাদের জাতীয় দলে তিন ফরম্যাটের তিন গ্রুপ ক্রিকেটার। তাদের অনেকেই তরুণ। একসঙ্গে তাদের গাইড করার দায়িত্ব থাকবে মাকেতার। তার অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি ভালোভাবে জানেন কোন পর্যায়ের ক্রিকেটারদের কোনদিকে জোর দেওয়া জরুরি।’
২০১৯ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার সাফল্য ছিল না। তবে বিশ্বকাপের আগে-পরে প্রোটিয়া সহকারী কোচ ছিলেন মাকেতা। ওই সময়ে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয় এবং শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় সিরিজেও দলের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপ, প্রস্তুতি এবং ম্যাচ পরিস্থিতি সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা কম নয়।
তবে বাংলাদেশের জন্য মাকেতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকার বয়সভিত্তিক ও উদীয়মান ক্রিকেটারদের নিয়ে কাজ করার সময়টা। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’, অনূর্ধ্ব-১৯ ও ন্যাশনাল একাডেমিতে কাজ করার সময় তার মূল দায়িত্বের একটি ছিল প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের উপযোগী করে তোলা। ২০২৩-২৪ মৌসুমে তার অধীনে দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দল সিএসএ ওয়ানডে কাপের দ্বিতীয় বিভাগে চ্যাম্পিয়নও হয়। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেও তার দল সেমিফাইনালে উঠেছিল।
এ অভিজ্ঞতাই বাংলাদেশের বর্তমান দলের জন্য বড় সম্পদ হতে পারে। তিন ফরম্যাটেই বাংলাদেশের দলে এখন বেশ কিছু তরুণ ক্রিকেটার রয়েছেন। তাদের শুধু একাদশে সুযোগ পাওয়ার জন্য নয়, দীর্ঘ সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টিকে থাকার জন্যও প্রস্তুত করতে হবে। মাকেতা সেই জায়গায় ক্রিকেটারভেদে আলাদা পরিকল্পনা তৈরি করতে পারেন— কার কোথায় ঘাটতি, কোন শট বা টেকনিক উন্নত করা প্রয়োজন, ম্যাচের নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কীভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কিংবা চাপের মধ্যে কীভাবে পারফর্ম করতে হবে, সেসব নিয়ে কাজ করতে পারেন।



