এশিয়াডে আনন্দভ্রমণে ২৬০ সদস্যের দল

সংগৃহীত ছবি
দুয়েকজন অকপটেই স্বীকার করে নিলেন নিজেদের আগাম ব্যর্থতা। কেউ কেউ ইতস্তত করে বললেন ভালো করার কথা। একটু সাহসীরা একধাপ এগিয়ে অনেক সমীকরণ মিললে দিলেন পদকের প্রতিশ্রুতি। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কর্তারাও জোর গলায় শোনাতে পারেননি কোনো আশার কথা। মোটা দাগে ২০তম এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের ২৬০ সদস্যের বিশাল বহরের হতে যাচ্ছে লক্ষ্যহীন যাত্রা।
গেমস এলেই কর্মকর্তাদের তোড়জোড় শুরু হয়। সেটা অ্যাথলেটদের প্রস্তুতির জন্য নয়, নিজেদের আনন্দভ্রমণ নিশ্চিতে। এক্ষেত্রে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে এবার। আসল কোচ ছেঁটে কর্মকর্তারা নকল কোচ সেজে প্রস্তুতি নিচ্ছেন জাপান সফরের, যা দেখেও চুপ করে থাকছেন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কর্তারা।
তিনটি ফেডারেশনের খোদ সাধারণ সম্পাদক যাচ্ছেন কোচ পরিচয়ে। কয়েকটি খেলায় নকল কোচ বানানো হয়েছে প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের। এসব নিয়ে সোমবার সংবাদ সম্মেলনে হয়েছে বিস্তর আলোচনা। সংবাদকর্মীদের প্রশ্নবাণে জর্জর হতে হয়েছে বিওএ ও বিভিন্ন ফেডারেশনের কর্তাদের।
টেবিল টেনিস দলকে প্রস্তুত করছেন অভিজ্ঞ কোচ মোহাম্মদ আলী। অথচ তাকে বাদ দিয়ে কোচ বানানো হয়েছে একজন নির্বাহী সদস্যকে, যাকে খুব কমই অনুশীলনের সময় দেখা গেছে পল্টন ইনডোরে। এই দলের দলনেতা ছিলেন বিগত কমিটির একজন কর্মকর্তা। নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইদুল হক সাদি নানা চেষ্টায় সেই কর্তাকে হটিয়ে হয়েছেন দলনেতা। নির্বাহী সদস্য মোহসিনুল আলম যাচ্ছেন কোচ হয়ে! সাদীকে এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেললেন, ‘আসলে দল নির্বাচন আমরা করিনি, করেছে আগের কমিটি। তাই কোচ হিসেবে মোহাম্মদ আলীর নাম দেওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে এমনটা যাতে না হয় সেদিকে আমাদের দৃষ্টি থাকবে।’
একই ঘটনা ঘটিয়েছেন ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী হাসিবুর রহমান। পাঁচ শাটলার ভারতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে আছেন বেশ কজন অভিজ্ঞ ব্যাডমিন্টন কোচ। অথচ নিজেই কোচ হয়ে যাচ্ছেন জাপানে। হাসিবুরের যুক্তি, ‘আমি অতীতে কোচিং করাতাম। তা ছাড়া আমাদের হাতে সময় ছিল না ভারত থেকে শাটলারদের এনে দেশে কোনো কোচের অধীনে ট্রেনিং করানোর এবং সেই কোচের নাম যুক্ত করার।’ অথচ হাসিব নিজেই চেষ্টা-তদবিরে নাম তুলেছেন তালিকায়। উশু ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক, জুডো ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক, কুস্তি ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক, শুটিং ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক যাচ্ছেন কোচ পরিচয়ে।
অলিম্পিক মহাসচিব জোবায়দুর রহমান রানা ও সহসভাপতি এবং বাংলাদেশ বহরের শেফ দ্য মিশন ইমরোজ আহমেদ সরকারের কাছ থেকে অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় বেশি সময় ফেডারেশনগুলোকে প্রস্তুতির জন্য অর্থ সহায়তা দিতে না পারার কথা বলেছেন। সরকারের দিকে আঙুল তুলে অবশ্য নিজেদের পিঠ বাঁচানোর সুযোগ নেই। বিলম্বে সরকারি বরাদ্দের সংস্কৃতি এ দেশে নতুন ঘটনা নয়। অতীতে বিওএ আগেভাগেই প্রস্তুতির অর্থ নিজস্ব তহবিল থেকে দিয়ে দিত। পরে সরকারি বরাদ্দের সঙ্গে সমন্বয় করত। এবার বিওএ কর্তারা আগেভাগে সেই উদ্যোগ নেননি বলে বেশিরভাগ খেলোয়াড় পাননি পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সময় ও সুযোগ-সুবিধা।
১৯ সেপ্টেম্বর নাগোয়ায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পতাকা বহন করবেন অভিজ্ঞ শুটার আব্দুল্লাহ হেল বাকি ও কারাতেকা হুমায়রা আক্তার।





