থামল হলান্ডদের স্বপ্নযাত্রা

আর্লিং হলান্ড
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে নরওয়ের পাঁড় সমর্থকও হয়তো ভাবেননি এমন কিছু ঘটবে! ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে একের পর এক রেকর্ড ভেঙে শেষ আটে পা রেখেছিল ভাইকিংসরা। আর্লিং হলান্ডের ডানায় ভর করে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেও তাদের স্বপ্নযাত্রা থেমেছে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে। নরওয়ের সোনালি প্রজন্ম এবার বিদায় বললেও বাড়ি ফিরছে একরাশ নতুন স্বপ্ন নিয়ে।
কয়েক বছর আগেও বিশ্বকাপের মঞ্চে পা রাখা ছিল অলীক স্বপ্ন। এক সোনালি প্রজন্মই বদলে দিয়েছে পুরো দেশের ফুটবলের চালচিত্র। হলান্ড, অডেগার্ড, সোরলথদের নিয়ে গড়া এই নরওয়ে বাছাই পর্বে দাপট দেখিয়ে কেটেছিল মূল পর্বের টিকিট। একঝাঁক তরুণ ফুটবলারের ওপর বড় কিছু একটা প্রত্যাশা না থাকলেও স্বপ্ন দেখার কোনো কমতি ছিল না নরওয়ে সমর্থকদের।
সেই স্বপ্ন যে এভাবে সত্যি হবে, তা কল্পনায়ও ভাবেনি। নরওয়ে শুধু কোয়ার্টারেই ওঠেনি, বিশ্বকাপে নিজেদের ছাপটা দারুণভাবে রেখে গেছেন হলান্ডরা। ম্যাচ শেষে তাদের সেই ভাইকিংস রো উদযাপন যেন এই বিশ্বকাপের ট্রেডমার্ক উদযাপন।
এই বিশ্বকাপে নরওয়ের সবচেয়ে বড় অর্জন নিঃসন্দেহে ব্রাজিলকে হারানো। শেষ ষোলোতে হলান্ডের জোড়া গোলে ইতিহাস গড়ে তারা। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ব্রাজিলের বিপক্ষে অপরাজিত থাকার রেকর্ডটিও অক্ষুণ্ণ রাখে নরওয়ে। গ্রুপ পর্ব কিংবা নকআউট, ম্যাচ জিতলেই নরওয়ের ফুটবলাররা মেতেছেন ভাইকিংস রো উদযাপনে। যোগ দিয়েছেন গ্যালারিতে থাকা সমর্থকরাও। স্কুল, হাসপাতাল, ফ্যানজোন; এই উদযাপন ছড়িয়ে গেছে সবখানে।
উদযাপনটা হতে পারত ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও। ১-০ গোলে এগিয়েও গিয়েছিল ভাইকিংসরা। তবে জুড বেলিংহামের নায়ক হয়ে ওঠার দিনে আর পেরে ওঠেনি তারা। হলান্ডও বিশ্বকাপে এই প্রথমবার ছিলেন নিষ্প্রভ। ছয় ম্যাচে ৭ গোল নিয়েই তাই বিশ্বকাপকে বিদায় বলতে হচ্ছে সময়ের এই সেরা স্ট্রাইকারকে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হারের ম্যাচে হতাশার সঙ্গে ছিল বিতর্কও। বেলিংহামের প্রথম গোলটা ঠিক বৈধ কি না, সে নিয়ে আলোচনা চলছেই। নরওয়ে কোচ সোলবাকেনের অভিযোগ, গোলের আগে বল স্কাই ক্যামেরার তারে লেগেছিল, ‘বলটা হাওয়া থেকে একদম সোজা নিচে পড়ে, তার মানে এটার দিক পরিবর্তন হয়েছে। আর ওই ঘটনা আমাদের খেলোয়াড়দের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করে, এটাই বিপদ ডেকে এনেছে। তবে এ নিয়ে আমরা কিছুই করতে পারব না। তাই যা হওয়ার হয়ে গেছে।’
হেরেও নরওয়ের এবারের বিশ্বকাপ যাত্রা নিয়ে গর্বিত সোলবাকেন, ‘আমরা অনেক ভালো মানের ফুটবল খেলছিলাম, ব্যবধানটা আমাদের পক্ষে ছিল না। তবে জীবন এমনই। এখন আমাদের একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে হবে। সবার জন্যই ২০২৬ সালের গ্রীষ্মটা দারুণ কেটেছে এবং আমরা একসঙ্গে ভালো কিছু করতে পেরেছি। পুরো নরওয়ে থেকে দুর্দান্ত সমর্থন পেয়েছি। তাদের আমরা প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছি, যা নিয়ে আমি সত্যিই গর্বিত।’




