মেসি বিরহের আগে গোল উৎসব

মেসির মতো উদযাপন আলভারেস
বাতিলও হতে পারত প্রীতি ম্যাচটি! ফ্লাইট জটিলতায় বুরকিনা ফাসোর খেলোয়াড়রা বেঁকে বসেন আর্জেন্টিনা আসতে। কোচ আমির আব্দোউ বাধ্য হয়েই ডাকেন অনূর্ধ্ব-২৩ দলের খেলোয়াড়দের। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিলেন শুধু চেক বেবেল দৌউম্বিয়া। সেই দলও প্রায় ১২ ঘণ্টা ভ্রমণ করে আর্জেন্টিনা এসেছিল ম্যাচ শুরুর ৫ ঘণ্টা ১৫ মিনিট আগে।
কোনোরকমে হোটেলে লাগেজ রেখে বিশ্রাম ছাড়া তারা চলে যান মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে। ফলাফল যা হওয়ার তাই হয়েছে। মেসির বিদায়ী ম্যাচের আগে বুরকিনা ফাসোকে ৭-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে গত বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা আর্জেন্টিনা। একটি করে গোল লাউতারো মার্তিনেস (চতুর্থ মিনিট), জিয়ানলুকা প্রেসতিয়ানি (১২), নিকো পাস (৩৫), হুলিয়ান আলভারেস (৩৬), ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়ানো (৫৭) ও জুলিয়ানো সিমিওনের (৯০+৩)। অষ্টম মিনিটে অন্য গোলটি ছিল আত্মঘাতী।
সর্বশেষ ২০২৩ সালের ২৮ মার্চ প্রীতি ম্যাচে কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ৭-০ গোলে জিতেছিল আর্জেন্টিনা। তাদের ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয় ১৯৪২ কোপা আমেরিকায়। সেবার ইকুয়েডরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা জিতেছিল ১২-০ গোলে
বুরকিনা ফাসোর খেলোয়াড়দের করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন দর্শকরা। ম্যাচ শেষে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন কোচ লিওনেল স্কালোনিও, ‘বুরকিনা ফাসোকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তারা ফুটবলের মর্যাদা রক্ষা করেছে। ওরা চাইলে না-ও আসতে পারত, আর ম্যাচটি বাতিল হয়ে যেত। ম্যাচটিকে আমরা ফাইনালের মতোই খেলার চেষ্টা করেছি, যেন তাদের প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো হয়।’
স্কালোনি এখন প্রস্তুতি নিচ্ছেন মেসির বিদায়ী ম্যাচের। মেসিকে ছাড়া টানা দুই ম্যাচে ৪-০ ও ৭-০ গোলে জিতেছে আর্জেন্টিনা। তবে মেসির জায়গা যে কোনোভাবে পূরণ করা সম্ভব নয়, সেটা স্মরণ করিয়ে দিলেন স্কালোনি, ‘বুঝতে পারছি সবাই কত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছে। মনুমেন্তালে পা রাখার মুহূর্ত থেকেই দিনটি সবার জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। মেসির এই বিশেষ দিনের অংশ হতে পেরে আমি কৃতজ্ঞ। মেসি আসলে এমন এক শূন্যতা রেখে যাচ্ছে, যা পূরণ হবে না। তার বিদায়ী ম্যাচের জন্য এমন পাঁচটি মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের টিকিটও সম্ভব ছিল বিক্রি করা।’
মেসি-পরবর্তী অধ্যায় নিয়ে স্কালোনি বললেন, ‘সে সবসময় সবার আগে আসত এবং সবার শেষে মাঠ ছাড়ত। তবে সে না থাকলেও আমাদের তো খেলা চালিয়ে যেতে হবে। আর্জেন্টিনা জাতীয় দল তার নিজস্ব গতিতে চলবে।’
ম্যাচে এক গোল করে আর্জেন্টিনার হয়ে সের্হিয়ো আগুয়েরোর ৪১ গোলের কীর্তি ভেঙেছেন লাউতারো মার্তিনেস। তার গোল এখন ৪২টি। সামনে শুধু গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা ও লিওনেল মেসি। পাশাপাশি দুটি অ্যাসিস্টও করেছেন মার্তিনেস।
আতলেতিকো মাদ্রিদ ছাড়ার বিতর্ক পেছনে ফেলে ৮৪ দিন পর গোল করেছেন হুলিয়ান আলভারেস। এরপর ‘স্পাইডারম্যান’ উদযাপনের পাশাপাশি দুই হাত আকাশে তুলে লিওনেল মেসির মতো করে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এই ফরোয়ার্ড।



