সম্মান নিয়ে ফেরার তৃপ্তি

ডারউইন টেস্টটা ছিল স্বপ্নের মতো। ম্যাকাইয়ে সেটা পরিণত হয়েছে দুঃস্বপ্নে। দুই দিনেই টেস্ট হেরেছে বাংলাদেশ। গতকাল তাই মাঠের বদলে ম্যাকাই শহরে ঘুরে দিন কেটেছে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের।
অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে টানা দুই টেস্ট দাপটে খেলার আশা করেননি প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনও। তাই বলে দুই দিনে হারবেন, ভাবেননি সেটিও। টিম হোটেলে গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হতাশাটা লুকালেন না হাবিবুল বাশার, ‘প্রত্যাশা তো আসলেই বেশি ছিল। একটা সুযোগ তৈরি করেছিলাম সিরিজ জেতার। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া টেস্টের এক নম্বর দল। আমরা জানতাম তারা তাদের সর্বশক্তি নিয়ে এই ম্যাচটি খেলবে এবং অবশ্যই প্র্যাকটিক্যালি ২-০ তে হারানোটা একটু বেশি হয়ে যায়। তবে আমরা আরও ভালো ক্রিকেট খেলতে পারতাম।’
ম্যাকাইয়ে টস জিতে শুরুতে বোলিং করতে পারলে অন্যরকমও হতে পারত ম্যাচের ফল। তাই কিছুটা আফসোস ঝরল হাবিবুলের কণ্ঠে, ‘আমরা সবাই দেখেছি টসটা একটু বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেছে। টসের ওপর তো কারও হাত নেই, আপনি হারতেও পারেন জিততেও পারেন। কিন্তু এত পার্থক্য সবসময় তৈরি করে না। অস্ট্রেলিয়ানদেরও ব্যাটিং করতে কষ্ট হয়েছে। আমরা যদি আগে বোলিং করতাম তাহলে হয়তো ডিফারেন্ট স্টোরি হলেও হতে পারত।’
হাবিবুল আরও যোগ করলেন, ‘আমরা অনেক সময় যেমন স্পিনিং ট্র্যাক বানাই, ওরা ওই রকমই ফাস্ট ট্র্যাক বানিয়েছে। টসের ভাগ্যটা ওদের পক্ষেই গিয়েছে, যেটা ওদের সাহায্য করেছে। কিন্তু আমরা আরও একটু বেটার ব্যাটিং করতে পারতাম। সব মিলিয়ে আরও একটু ভালো হতে পারত। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া এসে সিরিজ ড্র করে যাওয়াটা অনেক বড় অর্জন বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য। ট্রফি নিয়ে যাচ্ছি আমরা, সঙ্গে র্যাংকিংয়ের ৬ নম্বরে উঠে গেছি। ম্যাকাই টেস্টের ফলাফলের জন্য এসব নিয়ে কথা কম হচ্ছে। এটা কিন্তু অনেক বড় অর্জন।’
অস্ট্রেলিয়ায় আসার আগে বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল সম্মান নিয়ে ফেরা। সেই লক্ষ্য পূরণ হয়েছে বলে মনে করেন হাবিবুল, ‘আমরা আসার আগে বলেছিলাম, যখন দেশে ফিরে যাব, একটা রেসপেক্ট নিয়ে যেতে চাই। মনে হয় সেটি নিয়ে দেশে ফিরতে পারছি। সবাই এই অর্জনকে অনেক ওপরের দিকে দেখছে। আমরা এখন নিজেদের একটা স্টেটমেন্ট দিতে পেরেছি। শুধু অস্ট্রেলিয়া টেস্ট নয়, যদি আমাদের আগের টেস্ট ম্যাচগুলো দেখেন পাকিস্তানের সঙ্গে বা তার আগের টেস্টগুলো দেখেন, আমরা নিয়মিত জিতেছি। বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেট অনেক দূর এগিয়ে গেছে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপেও আমরা এখন খুব ভালো অবস্থায় আছি। তবে এখনই বলব না, আমরা খুব ভালো টেস্ট দল হয়ে গিয়েছি। আমাদের আরও অনেক দূর যেতে হবে।’
ম্যাকাই টেস্টে ইনিংসে ৭ উইকেট নেওয়া শরিফুলকেও প্রশংসায় ভাসিয়েছেন হাবিবুল, ‘ম্যাকাই টেস্টে ৩০টি উইকেট পড়েছে। কিছু অসাধারণ ডেলিভারি ছিল, তবে শরিফুল যেভাবে ক্যামেরন গ্রিনকে আউট করেছে, সেটা এই টেস্ট ম্যাচের সেরা বল। তিন বছর আগে, যখন শরিফুল ভালো করছিল, তখনো সে লাল বলের ক্রিকেট নিয়ে অতটা উৎসাহ দেখাত না। গত এক বছর ধরে দেখছি শরিফুল লাল বলের ক্রিকেট নিয়েও আগ্রহ দেখাচ্ছে।’
অস্ট্রেলিয়ান উইকেটরক্ষক অ্যালেক্স ক্যারিও মুগ্ধ বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিরিজ ছিল। সবার মধ্যে ইতিবাচক স্পিরিট ছিল। আশা করছি সামনে বাংলাদেশের বিপক্ষে আরও টেস্ট ম্যাচ খেলা হবে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে আরও বেশি সিরিজ খেলতে পছন্দ করব। এ ছাড়া ম্যাচ শেষে তাদের সঙ্গে আলাপ করতে পেরেও বেশ ভালো লেগেছে।’
এদিকে দুই দিনে টেস্টে শেষ হলেও ম্যাকাইয়ের পিচটি নাকি পেতে যাচ্ছে সর্বোচ্চ সম্ভাব্য গ্রেডিং।







