কোচের একগুঁয়েমিতেই লজ্জার হার

পিটার বাটলার তারুণ্যের বিকাশ ঘটাতে গিয়েই দেশের নারী ফুটবলে বড় কলঙ্কের দাগ ফেলে দিলেন! উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ১০-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ, এটিই হয়ে গেল সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারের রেকর্ড।
উত্তর কোরিয়া শুধু এশিয়া নয়, বিশ্ব ফুটবলেরই পরাশক্তি। সিনিয়র দল কখনো বিশ্বকাপ না জিতলেও বয়সভিত্তিক পর্যায়ে তাদের একাধিক বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি আছে। জাপানে এশিয়ান গেমসে খেলতে নামার আগে ফিফা র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ যখন ১০৭-এ, তখন উত্তর কোরিয়া ১১ নম্বরে। এমন শক্তিশালী দলের বিপক্ষে পিটার বাটলার দল সাজিয়েছেন তরুণদের নিয়ে। এটি যেন অনভিজ্ঞ ও নতুন খেলোয়াড়দের বাঘের মুখে ঠেলে দেওয়া। কোনো বড় কোচ কখনো এই কাণ্ড করতে পারেন না।
বাংলাদেশের কোচ পিটার বাটলার সবসময় একগুঁয়ে স্বভাবের। অসময়ে তারুণ্যের বিকাশ ঘটাতে গিয়ে যে ভুল করেছেন, সেটাও তিনি মানতে চান না, ‘এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, তরুণদের বিকাশের নীতি বাস্তবায়ন করা ঠিক না ভুল। যখন আপনি তরুণদের খেলার সুযোগ দেবেন, তখন অনেকেই অনেক কথা বলবে। তবে মনে রাখতে হবে, আমাদের একটি পেশাদার লিগ নেই। আমি কিন্তু কোনো অজুহাত দিচ্ছি না; আজকের এই ফলাফলের পুরো দায়ভার আমি নিচ্ছি। কারণ এরাই আমার খেলোয়াড়। তবে আমাদের দলে অভিজ্ঞতা ও তরুণের একটা মিশ্রণ রয়েছে।’
এই দলের পোস্টার গার্ল ঋতুপর্ণা ছিলেন না একাদশে। এ ছাড়া মনিকা চাকমা, শামসুন্নাহার, মুনকি আক্তারের মতো অভিজ্ঞদের বেঞ্চে রেখেই পিটার উত্তর কোরিয়ার ম্যাচে করেছেন পরীক্ষা-নিরীক্ষা। তার ফল পেয়েছেন হাতেনাতে, সাত গোল খেয়ে প্রথমার্ধেই বিধ্বস্ত হয় বাংলাদেশ। যাদের পায়ে দেশের ফুটবলের রঙ বদলাচ্ছে, তারাই খেয়েছে প্রচণ্ড ধাক্কা।
পিটার বাটলারের পছন্দ তারুণ্যে বিকাশ। তবে শুরু থেকেই অভিজ্ঞদের সঙ্গে পিটার বাটলারের লড়াই লেগেই আছে। প্রথমে অপ্রকাশ্যে থাকলেও ২০২৪ সালে নেপালে নারী সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে বিস্ফোরণে রূপ নেয় এই দ্বন্দ্ব। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে এই ইংলিশ কোচ তারকা ও অভিজ্ঞদের বাদ দিয়ে দল সাজিয়েছিলেন। সেই ম্যাচও হারতে হারতে ড্র হয় শেষ সময়ে শামসুন্নাহারের গোলে। এরপরই কোচ পড়েন বিদ্রোহের মুখে। উল্টাপাল্টা একাদশ নির্বাচনের কারণে কর্তৃত্বও হারান তিনি। সাবিনা-মনিকা-মারিয়ারাই দায়িত্ব নিয়ে বাকি ম্যাচগুলো চমৎকার খেলে দেশে ফেরেন শিরোপা জিতিয়ে।
কিন্তু পিটার বাটলার নিজেকে অভিজ্ঞ কোচ হিসেবেই দাবি করেন, ‘আমি একজন পেশাদার ফুটবল কোচ, ইংল্যান্ডে পাঁচশর বেশি ম্যাচ খেলেছি, অভিজ্ঞতা আমার কম নয়। বহু জাতীয় দলের (পুরুষ দল) কোচিং করিয়েছি, তাই আমি বোকা নই। কখন পরিস্থিতি আপনার বিরুদ্ধে চলে যায়, তা আমি বেশ বুঝি। এই তরুণ মেয়েদের জন্য বিষয়গুলো সত্যি হতাশাজনক, কারণ আমি এখানে তাদের জন্যই কাজ করছি।’ তার কথাতেই পরিষ্কার, তরুণ ছাড়া বাকিদের যেন প্রয়োজন নেই। কোচের এ ভুল মানসিকতাই ডুবিয়েছে দলকে।
অথচ মাত্র চার মাস আগে এই দল ৫-০ গোলে হেরেছিল উত্তর কোরিয়ার কাছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে এবার আরও ভালো লড়াই করার কথা ছিল। বাস্তবে হয়েছে আরও বাজে ও লজ্জাকর। এরপর কোচের বিস্ময়কর দাবি, ‘দুর্ভাগ্যবশত আমরা বড় ব্যবধানে হেরে বিধ্বস্ত হয়েছি এবং সত্যি বলতে আমরা এটাই ডিজার্ভ করি। আমাদের পারফরম্যান্স এমনই ছিল।’ পারফরম্যান্স এমন খারাপ হয়েছে তার জন্য। এক কোচের জেদ ও একগুঁয়েমির আগুনে ভস্মীভূত হলো একটা স্বপ্নের দল।




