দরবার-ই-জহুর সাংবাদিকতার ছাত্রদের জন্য অবশ্যপাঠ্য

ছবি: আগামীর সময়
তীক্ষ্ণ মেধা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং নির্ভীক সাংবাদিকতার মাধ্যমে জহুর হোসেন চৌধুরী প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন একজন অগ্রজ কলমযোদ্ধা হিসেবে। সিরাজগঞ্জের একটি উচ্চবিদ্যালয় থেকে ১৯৩৮ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন। তারপর কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে আইএতে ভর্তি হন। ১৯৪০ সালে আইএ পাস করেন এবং ১৯৪২ সালে ইতিহাসে অনার্সসহ বিএ পাস করেন। ১৯৪৩ সালে শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। ফলে এমএ পরীক্ষা দিতে পারেননি।
জহুর হোসেন চৌধুরীর সাংবাদিক জীবনের হাতেখড়ি হয়েছিল হাবীবুল্লাহ বাহার সম্পাদিত ‘বুলবুল’ পত্রিকায়। এরপর ১৯৪৫ সাল থেকে দেশভাগ পর্যন্ত তিনি কলকাতার নামি পত্রিকা ‘দ্য স্টেটসম্যান’, ‘কমরেড’ ও ‘স্টার অব ইন্ডিয়া’-তে কাজ করে সাংবাদিকতার মৌলিক পাঠ গ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ঢাকায় চলে আসেন এবং বিচিত্র অভিজ্ঞতা শেষে পুনরায় সাংবাদিকতায় থিতু হন।
পূর্ব পাকিস্তান সাংবাদিক ইউনিয়ন ও জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য
১৯৫১ সালে ‘দৈনিক সংবাদ’ পত্রিকায় সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তার জীবনের স্বর্ণালি অধ্যায় শুরু হয়। ১৯৫৪ সালে তিনি ‘দৈনিক সংবাদ’ পত্রিকার সম্পাদক নিযুক্ত হন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে সংবাদ অফিস ভস্মীভূত হওয়ার আগ পর্যন্ত অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর তিনি ‘কাউন্টার পয়েন্ট’ নামে একটি ইংরেজি সাময়িকী সম্পাদনা করেন। ‘দৈনিক সংবাদ’ পত্রিকার সম্পাদকীয় পাতায় তার নিয়মিত কলাম ‘দরবার-ই-জহুর’ ছিল তৎকালীন পাঠকসমাজে অত্যন্ত জনপ্রিয়। সমকালীন রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতির গভীর ব্যবচ্ছেদ ঘটানো এই কলামগুলো আজও সাংবাদিকতার ছাত্রদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পাঠ্য।
জহুর হোসেন চৌধুরী ছাত্রজীবনে মুসলিম ছাত্রলীগ ও এমএন রায়ের ‘র্যাডিক্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি’র সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে তিনি বামপন্থী রাজনীতিতে ঝুঁকে পড়েন। ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)-এর প্রাদেশিক কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। কেবল সাংবাদিক হিসেবেই নয়; একজন দূরদর্শী সংগঠক হিসেবেও ভূমিকা রেখেছেন জহুর হোসেন চৌধুরী। তিনি ‘পাক-চীন মৈত্রী সমিতি’ ও ‘পাক-সোভিয়েত মৈত্রী সমিতি’র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। পূর্ব পাকিস্তান সাংবাদিক ইউনিয়ন ও জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রতিষ্ঠায় তার বিশেষ ভূমিকা ছিল।
স্বৈরাচার আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে আওয়ামী লীগ ও বামপন্থী দলগুলোর মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি এবং ঐক্যমোর্চা গঠনে তিনি নেপথ্যে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আপাদমস্তক একজন অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল মানুষ হিসেবে জহুর হোসেন চৌধুরী সারা জীবন কলমের মাধ্যমে অন্যায়ের প্রতিবাদ করে গেছেন।




