আশ্রয়প্রার্থীদের দায়ের ভাগ ধনী ব্রিটিশদেরও নিতে বললেন বার্নহ্যাম

সংগৃহীত ছবি
আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসনের চাপ শুধু দরিদ্র এলাকাগুলোর ওপর না দিয়ে দেশের সচ্ছল ও মধ্যবিত্ত এলাকাগুলোকেও দায়িত্ব ভাগ করে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তার বক্তব্য, আশ্রয়প্রার্থীদের সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার ব্যবস্থায় শুধু দরিদ্র জনগোষ্ঠীই পুরো চাপ বহন করবে—এমন পরিস্থিতি চলতে পারে না।
মঙ্গলবার জিবি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বার্নহ্যাম বলেন, দেশের সব এলাকারই এ ক্ষেত্রে ‘নিজেদের ভূমিকা পালন করা’ প্রয়োজন। অক্সফোর্ডশায়ারের পিডিংটন গ্রামের কাছে সাবেক একটি সামরিক স্থাপনায় প্রায় ১ হাজার ২৫০ জন আশ্রয়প্রার্থীকে রাখার সরকারি পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পিডিংটনে সরকারি পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ রয়েছে। প্রায় ৩৫০ জন মানুষের এই গ্রামটির কাছে সাবেক প্রতিরক্ষা স্থাপনায় প্রায় ১ হাজার ২৫০ জন একক পুরুষ আশ্রয়প্রার্থীকে রাখার পরিকল্পনা করেছে সরকার। স্থানীয়দের অভিযোগ, এত বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য এলাকায় পর্যাপ্ত চিকিৎসা, পরিবহন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নেই।
বার্নহ্যাম বলেছেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগ তিনি শুনবেন এবং যৌক্তিক অভিযোগের জবাব দেওয়া হবে। তবে আশ্রয়প্রার্থী ও শরণার্থীদের আবাসনের দায়িত্ব শুধু তুলনামূলক দরিদ্র শহর বা এলাকার ওপর চাপিয়ে দেওয়া ন্যায্য নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।
তার এই বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিলপ। তিনি বলেছেন, বিষয়টি কোনো এলাকা ধনী না দরিদ্র—তা নয়। যাদের ব্রিটেনে থাকার অধিকার নেই, তাদের কোনো এলাকাতেই আবাসনের ব্যবস্থা করা উচিত নয়। তাদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর পক্ষে মত দিয়েছেন তিনি।
আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ব্যবহৃত হোটেলের সংখ্যা কমিয়ে আনার নীতির অংশ হিসেবেই সাবেক সামরিক ঘাঁটি ও অন্যান্য বড় স্থাপনা ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে ব্রিটিশ সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল পর্যন্ত আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ব্যবহৃত হোটেলের সংখ্যা চার শতাধিক থেকে কমে ১৯০টির নিচে নেমেছে। সরকারের লক্ষ্য, বর্তমান পার্লামেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য হোটেলের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা।
তবে হোটেল বন্ধ করে আশ্রয়প্রার্থীদের কোথায় রাখা হবে, তা নিয়ে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইগ্রেশন অবজারভেটরির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মার্চের শেষে সরকারি আবাসন সহায়তায় থাকা আশ্রয়প্রার্থীদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৯৮ হাজার। তাদের প্রায় ২১ শতাংশ তখনও হোটেলে অবস্থান করছিলেন। লন্ডনে এই হার ছিল আরও বেশি—প্রায় ৫৮ শতাংশ।
এ অবস্থায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় বড় আবাসনকেন্দ্র স্থাপনের সরকারি উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিবাদের মুখে পড়ছে। পিডিংটনের বাসিন্দারাও পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেছেন।
বার্নহ্যামের বক্তব্যে তাই ব্রিটেনে আশ্রয়প্রার্থী আবাসনের বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। সরকারের নীতির মূল প্রশ্ন এখন শুধু হোটেল বন্ধ করা নয়; একই সঙ্গে দেশের কোন কোন এলাকায় আশ্রয়প্রার্থীদের রাখা হবে এবং সেই দায়িত্ব কীভাবে ভাগ করা হবে, সেটিও সামনে এসেছে।




