Agamir Somoy E-Paper
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
রোগীর জন্য রক্ত সংগ্রহে ছোটেন আইয়ুব
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

advertiseadvertise
আগামীর সময় শুরুর সুবাস

জ্বালানি সংকটমোচনে প্রয়োজন স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ

অধ্যাপক এম শামসুল আলম
agamir somoy
প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ০৬:৪১
জ্বালানি সংকটমোচনে প্রয়োজন স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ

ভূ-প্রকৃতিগত কারণে আমাদের জ্বালানিশক্তি দুর্বল। তদুপরি খাতসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্নীতি ও লুণ্ঠনের ফলে সংকট চরমে উঠেছে। স্বনির্ভর জ্বালানিতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি। স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে কী কী পদক্ষেপ নিলে সুফল মিলবে তারই একটি দিকনির্দেশনা রইল বক্ষ্যমাণ নিবন্ধে

জ্বালানি খাতের সংকট, অনিশ্চয়তা, জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতা— এ ব্যাপারগুলো নতুন কিছু নয়, এসব নিয়ে দেড়-দুই দশক ধরে আমরা বড়ই নাজুক অবস্থার মধ্য দিয়ে আসছি। বিগত সরকারের পরিবর্তে অন্তর্বর্তী সরকার, পরে বর্তমান নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলেও পরিস্থিতি খারাপ ছাড়া ভালো হয়নি। প্রশ্ন হলো, এ পরিস্থিতিতে তাহলে সরকারের কী করণীয়?

রোগীর জ্বর যদি খুব বেড়ে যায়, তাহলে প্যারাসিটামল দিয়ে জ্বর নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। সেটা তো চিকিৎসা নয়। সরকার যা করছে তাতে অবস্থা মোকাবিলা করছে মাত্র। ট্রায়াল অ্যান্ড এরর প্রক্রিয়ায় কিছুদিনের মধ্যেই পরিস্থিতি একটি সহনীয় অবস্থায় চলে আসবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এটাই তো সমাধান নয়। সমাধানের জন্য রাজনৈতিক ঐকমত্য দরকার। সংসদে এ ব্যাপারে আলাদা সিদ্ধান্ত হতে হবে।

এক্ষেত্রে জনগণেরও ভূমিকা রয়েছে। তার জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। সুতরাং প্রতিবাদী হওয়া, সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা এবং সরকারকে দিয়ে সংকট সমাধান করানো তার জন্য জরুরি। যেহেতু এ সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত, সেহেতু জনগণের অভিপ্রায় সরকারের জন্য বাধ্যতামূলক।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এ-খাতকে অবাধ দুর্নীতি ও লুণ্ঠনের খাতে পরিণত করেছে। নিজেরাও অলিগাকর্দের সহায়ক শক্তি হয়ে দনির্ীতি ও লুণ্ঠনে অংশগ্রহণ করেছে। এখন তারা অকার্যকর এবং গণশত্রু; এসব প্রতিষ্ঠান এরকম হওয়ার কারণে সরকারও অনুরূপ— সরকারকে তা বিশেষভাবে অনুধাবন করতে হবে। এবং এসব প্রতিষ্ঠানের শীষর্পদে ব্যপক রদবদল করতে হবে। যোগ্য লোক খুঁজে নিয়ে জায়গামতো বসানো হলে তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতা সরকারকে সফল করবে।

এভাবে সব প্রতিষ্ঠানকে সক্ষম করতে হবে, দক্ষ হতে হবে। সে দক্ষতা যাদের নেই, তাদের দিয়ে হবে না। তারা ট্রেইনড হয়ে গেছে লুটপাট করতে। জনগণের অধিকার খর্ব করার জন্য কী কী করতে হয়, এগুলোই তারা শিখেছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এ-খাতকে অবাধ দুর্নীতি ও লুণ্ঠনের খাতে পরিণত করেছে। নিজেরাও অলিগার্কদের সহায়ক শক্তি হয়ে দুর্নীতি ও লুণ্ঠনে অংশগ্রহণ করেছে। এখন তারা অকার্যকর এবং গণশত্রু

সরকারের প্রতি মোটা দাগে পরামর্শ: ১) প্রথমেই এ-খাতকে বাণিজ্যিক খাত থেকে আবার সেবা খাতে ফিরিয়ে আনতে হবে; ২) সরকারকে মুনাফাভোগীর কলঙ্ক থেকে মুক্ত হতে এবং সরকারি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সেবা মুনাফামুক্ত হতে হবে; ৩) মূল্যবৃদ্ধির পরিবর্তে গণশুনানির ভিত্তিতে লুণ্ঠনমূলক ব্যয় ও মুনাফা কমিয়ে ঘাটতি সমন্বয়ের জন্য সরকার বিইআরসিকে (BERC) নির্দেশ দেবে এবং বিইআরসি-আইন সংস্কার করতে হবে; এবং ৪) সর্বোপরি দুর্নীতি, লুণ্ঠন, আত্মসাৎ ও পাচারের মাধ্যমে যারা এ-খাতকে বিপর্যস্ত করেছে, দ্রুত বিচার ট্রাইবু্যনালে তাদের ‘জ্বালানি অপরাধী’ হিসেবে বিচার করতে হবে এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে তাদের দেশ-বিদেশে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। ফলে এমন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো লুটেরা চক্রের জন্ম হবে না।

২০৫০ সাল নাগাদ শতভাগ কার্বনমুক্ত অর্থনীতি তথা জ্বালানিতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে জার্মানিতে জ্বালানি রূপান্তর চলছে। এ রূপান্তরে একদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নের মাধ্যমে পরমাণু বিদ্যুৎ ও ফসিল ফুয়েল দ্রুত প্রতিস্থাপিত হচ্ছে, অন্যদিকে জ্বালানি দক্ষতা ও সংরক্ষণ উন্নয়নের ফলে জ্বালানি চাহিদা ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। সে সঙ্গে গড়ে ৩ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অব্যাহত আছে। তাতে দূষণমুক্ত পরিবেশ এবং দুর্নীতি ও লুণ্ঠনমুক্ত অর্থনীতির বিকাশ হচ্ছে। ফলে রূপান্তরিত জ্বালানিতন্ত্রের কারণে আগামী বিশ্বে বৈষম্যহীন একতা ও সমতাভিত্তিক সমাজব্যবস্থার উত্থান হচ্ছে। ২০৫০ সালে জ্বালানিতন্ত্রে এমন রূপান্তরই আমাদের লক্ষ্য। সে লক্ষ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে প্রত্যাশিত কাঠামোগত রূপান্তরের জন্য প্রথমেই জ্বালানিতন্ত্রকে দুর্নীতি ও লুণ্ঠনমুক্ত করতে হবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উন্নয়নে রাষ্ট্রের দর্শন ও নীতি-কাঠামোতে রূপান্তর হতে হবে। তাতে অবকাঠামো উন্নয়ন হবে ব্যক্তি খাত বিনিয়োগে; কিন্তু মালিকানায় নয়; এবং জ্বালানি সুবিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জ্বালানি অপরাধীদের বিচার ও লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধারে জ্বালানি সার্বভৌমক্ষমতা ব্যবহারে সরকারকে সক্ষম হতে হবে।

স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার লক্ষ্য হবে লুণ্ঠনমূলক ব্যয় কমিয়ে সংকট মোকাবিলা করা। মধ্যমেয়াদে স্থিতিশীলতার জন্য গ্যাস, সৌরশক্তি, বায়ুশক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং নমনীয় ও অভিযোজনক্ষম বিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য গ্রিড ও সাশ্রয়ী জ্বালানির জন্য দক্ষতা বাড়ানো

বাংলাদেশ এখনো ঋণ, বৈদেশিক মুদ্রাসংকট ও উচ্চমূল্য স্ফীতির চাপের মধ্যে আছে। আইএমএফের ঋণের ওপর নির্ভরশীল। সাধারণ মানুষের মধ্যে বিদ্যুৎসংকট, গ্যাসের ঘাটতি, উচ্চমূল্য, বেকারত্ব ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সফল হতে হবে। তাহলেই ২০৫০ সালের মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বেরিয়ে এসে স্বল্প-কার্বন ও বিকেন্দ্রীভূত লুণ্ঠনমুক্ত জ্বালানিতন্ত্রে রূপান্তর হবে, আমদানিনির্ভরতা হ্রাস পাবে এবং স্বনির্ভর জ্বালানিতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে।

২০৫০ সালে সম্ভাব্য ৩০ হাজার মেগাওয়াট বায়ু এবং ৫০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা শতভাগ উন্নয়ন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া সম্ভব। ফলে ১৭০ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন হতে পারে। বায়ুবিদ্যুৎ বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন সম্ভাবনা কক্সবাজার, কুয়াকাটা, পটুয়াখালী, কুতুবদিয়া, ভোলা ও চট্টগ্রাম উপকূল এবং অফশোর অঞ্চলে বেশি। কক্সবাজারে ৬০ মেগাওয়াট বাণিজ্যিক বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প রয়েছে। বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১৭০০ মেগাওয়াট। কাপ্তাইয়ে রয়েছে ২৩০ মেগাওয়াট হাইড্রো বিদ্যুৎ প্রকল্প। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, কৃষি-সৌর ও শিল্প-সৌর প্রকল্প ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে গ্রিড বিদ্যুৎ সরবরাহ হয় ১০১ ইউনিট। অতএব, ২০৪০ সাল নাগাদ সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ বিদ্যুতের প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ উৎস হওয়া অসম্ভব নয়। অতএব, বাংলাদেশের জ্বালানি রূপান্তরের দর্শন : সেবাধর্মী জ্বালানিতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব, সাশ্রয়িতা ও টেকসইকেন্দ্রিক লুণ্ঠনমুক্ত জ্বালানি রূপান্তর।

বাংলাদেশের স্বল্পমেয়াদি (২০২৬-৩০) জ্বালানি রূপান্তর : এ পর্যায়ের রূপান্তরের মূল লক্ষ্য লুণ্ঠনমূলক ব্যয় কমিয়ে সংকট মোকাবিলা করা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, জীবাশ্ম জ্বালানি ত্যাগ করা নয়। বাংলাদেশের বাস্তবতায় স্বল্পমেয়াদি রূপান্তরের কয়েকটি প্রধান দিক হতে পারে— (১) মূল্য ও ভর্তুকি বৃদ্ধির পরিবর্তে লুণ্ঠনমূলক ব্যয় কমিয়ে ঘাটতি কমানো; (২) গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দক্ষতা বৃদ্ধি; (৩) এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ এবং নিজস্ব জ্বালানি সম্পদ উন্নয়নে অগ্রাধিকার; (৪) তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো phase-out; (৫) বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ লস কমানো; (৬) শিল্প ও ভবনে energy efficiency বৃদ্ধি; (৬) ব্যাপক সৌরবিদ্যুৎ ও উপকূলীয় অঞ্চলে সীমিত আকারে বায়ুবিদ্যুৎ বিস্তার; (৭) কৃষি ও জলাশয়ভিত্তিক ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ পরীক্ষামূলক সম্প্রসারণ; (৮) স্মার্ট গ্রিড উন্নয়ন ও ব্যাটারি স্টোরেজের প্রাথমিক ব্যবহার শুরু এবং (৯) আঞ্চলিক বিদ্যুৎ-বাণিজ্যে গুরুত্ব দেওয়া।

বাংলাদেশের স্বল্পমেয়াদি জ্বালানি রূপান্তরে সম্ভাব্য energy mix হবে একটি balanced transational mix— যেখানে জীবাশ্ম জ্বালানি এখনো dominant থাকবে, তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ দ্রুত বাড়তে শুরু করবে। Energy mix-এর সম্ভাব্য চিত্র হতে পারে— প্রাকৃতিক গ্যাস (দেশীয়+এলএনজি): ৪০-৫০ শতাংশ; নবায়নযোগ্য জ্বালানি (মূলত সৌর) : ১৫-২০ শতাংশ; কয়লা : ১০-১৫ শতাংশ; আমদানি করা বিদ্যুৎ : ১০-১৫ শতাংশ এবং তেল : ০-৫ শতাংশ। অতএব, বাংলাদেশের স্বল্পমেয়াদি জ্বালানি রূপান্তরের মূল দর্শন : জীবাশ্ম জ্বালানির দক্ষতা উন্নয়ন ও সীমিত ব্যবহার বজায় রেখে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দ্রুত সম্প্রসারণ।

মধ্যমেয়াদের ‘transition management’ থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশের low-carbon energy system-এ প্রবেশ করার কথা। এর মূল লক্ষ্য হবে— টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, জলবায়ু দায়বদ্ধতা এবং প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন— এ চারটির মধ্যে ভারসাম্য সৃষ্টি করা।

বাংলাদেশে মধ্যমেয়াদি (২০৩০-২০৪০) জ্বালানি রূপান্তরের মূল সূত্র হওয়া উচিত : (১) স্থিতিশীলতার জন্য গ্যাস, (২) ব্যাপক পরিসরে বিদ্যুতায়নের জন্য সৌরশক্তি, (৩) জ্বালানি উৎসের বহুমুখীকরণের জন্য বায়ুশক্তি, (৪) নমনীয় ও অভিযোজনক্ষম বিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য গ্রিড ও (৫) সাশ্রয়ী জ্বালানির জন্য দক্ষতা। অর্থাৎ জীবাশ্মের দক্ষ ব্যবহার, নবায়নযোগ্যের দ্রুত বিস্তার। মধ্যমেয়াদে সম্ভাব্য জ্বালানি মিক্স হতে পারে— গ্যাস : ৩৫-৪০ শতাংশ, নবায়নযোগ্য : ২৫-৩০ শতাংশ, কয়লা : ১৫-২০ শতাংশ, নিউক্লিয়ার : ১০-১৫ শতাংশ এবং আমদানি বিদ্যুৎ : ১০-১৫ শতাংশ।

বাংলাদেশের মধ্যমেয়াদি জ্বালানি রূপান্তর বাস্তবতা বিবেচনায় ‘হঠাৎ fossil fuel phase-out’ নয়; বরং ধাপে ধাপে hybrid transition model-এ হাওয়াই সবচেয়ে বেশি বাস্তবসম্মত। কারণ বাংলাদেশের অর্থনীতি, শিল্পায়ন, গ্রিড সক্ষমতা ও জ্বালানি নিরাপত্তা— এখনো সবই জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর। অতএব, বাংলাদেশের মধ্যমেয়াদি জ্বালানি রূপান্তরের মূল দর্শন হতে পারে : মধ্যমেয়াদে জীবাশ্মের দক্ষ ব্যবহার, নবায়নযোগ্যের বিস্তার।

দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের (২০৪০-৫০ ও তদূর্ধ্ব) জ্বালানি রূপান্তর মধ্যমেয়াদের ‘transition management’ থেকে বেরিয়ে low-carbon energy system-এ প্রবেশ করার কথা। এর মূল লক্ষ্য হবে— টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, জলবায়ু দায়বদ্ধতা এবং প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন— এ চারটির মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা।

দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের জ্বালানি রূপান্তরের সম্ভাব্য রূপরেখা : দীর্ঘমেয়াদে সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ আর ‘supplementary’ থাকবে না; বরং জ্বালানিতন্ত্রের প্রধান অংশ হবে। সম্ভাব্য লক্ষ্য— (১) মোট বিদ্যুতের বড় অংশ নবায়নযোগ্য উৎস; (২) প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লা ধীরে ধীরে হ্রাস পাবে, অর্থাৎ fossil fuel তখন base energy নয়, backup energy হবে; (৩) জ্বালানিতন্ত্রে renewable dominance-এর জন্য storage ছাড়া high renewable system স্থিতিশীল রাখা কঠিন; (৪) রূপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের মতো বিদ্যুৎকেন্দ্র দীর্ঘমেয়াদে baseload দিতে পারে এবং তা হবে স্থিতিশীল বিদ্যুৎ; (৫) দীর্ঘমেয়াদে শিল্পকারখানা ও ভারী পরিবহনে green hydrogen হবে গুরুত্বপূর্ণ; (৬) গ্রিড হবে intelligent গ্রিড এবং decentralized energy system গড়ে তুলবে; (৭) বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক গ্রিডের অংশ হতে পারে, এতে supply diversification বাড়বে এবং (৮) আন্তঃসীমান্ত জ্বালানি বাণিজ্য (ভারত, নেপাল ও ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আমদানি) দীর্ঘমেয়াদি টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদে Energy Mix-এর সম্ভাব্য কাঠামো— নবায়নযোগ্য : ৫০-৬০ শতাংশ, নিউক্লিয়ার : ১৫-২০ শতাংশ, গ্যাস : ১০-১৫ শতাংশ, আমদানি : ১০-১৫ শতাংশ ও কয়লা : ০-৫ শতাংশ।

অতএব, বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি রূপান্তরের মূল দর্শন হতে পারে : মধ্যমেয়াদে জীবাশ্মের দক্ষ ব্যবস্থাপনা, দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্যের নেতৃত্ব।

প্রতি বছর জাতিসংঘ বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন করে। ২০১৫ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত জলবায়ু সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্ত মতে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বব্যাপী জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত হবে। সে লক্ষ্যে, দেশে দেশে জ্বালানি রূপান্তরে (Energy Transition) জ্বালানি সংরক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং পরিবহন, কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য ও আবাসিকে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। গ্রিড বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানি নবায়নযোগ্য জ্বালানি দ্বারা দ্রুত প্রতিস্থাপিত হচ্ছে। এ ব্যাপারে জার্মানি, চীন, ভারত ও ভিয়েতনামের অগ্রগতি সন্তোষজনক। ২০২৩-২৫ তথ্যমতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ চীনে ৩৭০০-৪৩০০ বিলিয়ন ইউনিট (৩৮-৪০ শতাংশ), ভারতে ৩৫৬ বিলিয়ন ইউনিট (২২-২৫ শতাংশ), জার্মানিতে ২৫৭ বিলিয়ন ইউনিট (৫৯ শতাংশ), ভিয়েতনামে ১৩৩ বিলিয়ন ইউনিট (৪৫-৫০ শতাংশ), এমনকি পাকিস্তানে ৪২ বিলিয়ন ইউনিট (৩০-৩৫ শতাংশ)। বাংলাদেশের অগ্রগতি মোটেও সন্তোষজনক নয়।

টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তার নিশ্চয়তায় ২০৩০ সাল নাগাদ দুর্নীতি ও লুণ্ঠনমুক্ত জ্বালানিতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে এ প্রবন্ধে বর্ণিত পরিপ্রেক্ষিতে কাঠামোগত সংস্কার সম্পন্ন করে ২০৫০ সাল নাগাদ স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনের জন্য সরকারকে বিবেচনায় রাখতে হবে যে,

(১) কার্বন মার্কেট ও হাইড্রোজেন অর্থনীতি লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হতে পারে;

(২) জ্বালানি নিরাপত্তা ছাড়া রপ্তানিমুখী অর্থনীতি টেকসই হয় না;

(৩) এলএনজি তথা জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা বাড়লে জ্বালানি নিরাপত্তায় ঝুঁকি বাড়ে এবং জ্বালানি সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হয়,

(৪) শিল্পায়নের আগে বিদ্যুৎ সরবরাহ সক্ষমতা বাড়ানো বাধ্যতামূলক;

(৫) নবায়নযোগ্য জ্বালানি দ্রুত উন্নয়ন সম্ভব;

(৬) বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতির স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ,

(৭) যেহেতু ২০৫০ সাল পর্যন্ত কার্বনযুক্ত বিদ্যুৎ বাজার টিকে নাও থাকতে পারে, সেহেতু ফসিল ফুয়েলভিত্তিক প্ল্যান্টগুলোর যন্ত্র-যন্ত্রাংশ বাজারে না পাওয়া গেলে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কঠিন হবে;

(৮) গ্রিড সম্প্রসারণ, ব্যাটারি স্টোরেজ উন্নয়ন এবং পরিবহন বিদ্যুতায়ন ও চার্জিং অবকাঠামো উন্নয়ন দ্রুত না হলে লক্ষ্য অর্জনে ঝুঁকি বাড়বে,

(৯) ক্রমবর্ধনশীল জ্বালানি বাজারের কারণে বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ: উন্নয়ন, বিদ্যুৎ প্রবেশাধিকার, শিল্পায়ন, দুর্নীতি-লুণ্ঠন উচ্ছেদ ও জ্বালানি অপরাধ দমন এবং জ্বালানির উচ্চমূল্য রোধ— এ ছয়টি লক্ষ্য একসঙ্গে মোকাবিলা করা।

জ্বালানি রূপান্তরের গতি ও প্রকৃতি অনুধানে বোঝা যায়, প্রথাগত জ্বালানিতন্ত্র (Energy System) দ্রুত বিলুপ্ত হচ্ছে। দেশে দেশে জন্ম নিচ্ছে কার্বনমুক্ত অর্থনীতি ও নতুন জ্বালানিতন্ত্র। এ জ্বালানিতন্ত্রের ব্যবস্থাপনায় জ্বালানি খাতে সুশাসন এবং সমতাভিত্তিক জ্বালানি বাজারব্যবস্থা নিশ্চিত হবে। তাতে বৈষম্যহীন সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। সে সুযোগে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ তথা সংকট মোকাবিলায় জাতীয় সক্ষমতা অর্জনই এখন আমাদের মূল বিবেচ্য বিষয়।

 

লেখক: জ্বালানি বিশেষজ্ঞ

 

জ্বালানিশক্তিঅন্তর্বর্তী সরকারশুরুর সুবাস
    শেয়ার করুন:
    Advertisement
    কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে ডাক না পেয়ে মিঠুনের খোঁচা, ‘আমি তো তুচ্ছ শিল্পী’

    কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে ডাক না পেয়ে মিঠুনের খোঁচা, ‘আমি তো তুচ্ছ শিল্পী’

    ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫২

    ইতালির জাদুঘর থেকে রেনেসাঁ যুগের ৪ শিল্পকর্ম চুরি

    ইতালির জাদুঘর থেকে রেনেসাঁ যুগের ৪ শিল্পকর্ম চুরি

    ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫১

    মুনাফা করেও ৭ মিউচুয়াল ফান্ডে লভ্যাংশ নেই

    মুনাফা করেও ৭ মিউচুয়াল ফান্ডে লভ্যাংশ নেই

    ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৩

    তদন্তভার সিআইডিতে হস্তান্তরের দাবি পরিবারের

    তদন্তভার সিআইডিতে হস্তান্তরের দাবি পরিবারের

    ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১৪:০৩

    ‘থানা পুড়িয়েছি’ বলা সেই মাহাদী পুলিশ হেফাজতে

    ‘থানা পুড়িয়েছি’ বলা সেই মাহাদী পুলিশ হেফাজতে

    ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১৮:১৮

    তিস্তা মহাপরিকল্পনা ‘অবাস্তব’, ভারতের সঙ্গে চুক্তির পক্ষে আইনুন নিশাত

    তিস্তা মহাপরিকল্পনা ‘অবাস্তব’, ভারতের সঙ্গে চুক্তির পক্ষে আইনুন নিশাত

    ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১৮:৫৭

    পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ নিয়ে ডিজিটাল জালিয়াতি

    পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ নিয়ে ডিজিটাল জালিয়াতি

    ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১৮:৪৯

    মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের চুক্তির মেয়াদ বাড়ল

    মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের চুক্তির মেয়াদ বাড়ল

    ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১৬:৩৫

    একযোগে উপসচিব হলেন ২৯০ কর্মকর্তা

    একযোগে উপসচিব হলেন ২৯০ কর্মকর্তা

    ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১৮:৩০

    রাস্তায় ফেলে যাওয়া প্রবাস ফেরত সেই জামাল উদ্দিন মারা গেছেন

    রাস্তায় ফেলে যাওয়া প্রবাস ফেরত সেই জামাল উদ্দিন মারা গেছেন

    ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১৮:৪০

    আইয়ুব বাচ্চুর জন্য এলিজি

    আইয়ুব বাচ্চুর জন্য এলিজি

    ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১৮:২৭

    তিয়েনআনমেনের বিক্ষোভ দমনকে দৃঢ় সমর্থন শির

    তিয়েনআনমেনের বিক্ষোভ দমনকে দৃঢ় সমর্থন শির

    ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১৪:০৫

    লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৪৩০০ ছাড়াল

    লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৪৩০০ ছাড়াল

    ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১৮:১০

    শিশুদের সঙ্গে মহানবী (সা.)-এর সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ

    শিশুদের সঙ্গে মহানবী (সা.)-এর সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ

    ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১৮:১৭

    পাবিপ্রবির নারী হলগুলোতে নেই ক্যান্টিন

    পাবিপ্রবির নারী হলগুলোতে নেই ক্যান্টিন

    ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১৪:০৪

    advertiseadvertise