টপ ম্যানেজমেন্ট
থাকতে চাই ইতিহাসের ইতিবাচক লেখায়

প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে আগামীর সময়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। ছবি: আগামীর সময়
শুরুর এক মাসেই অবস্থান চার-এ। যে হাইপ উঠেছিল সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে, তার প্রতিফলন পড়েছে কাজে। এ কারণেই পাঠক পড়ছেন। রাখছেন ঘরে। পারিবারিক কাগজ হয়ে উঠছে।
ডানা আকাশে মেলে দিয়েছেন সম্পাদক মোস্তফা মামুন। চেষ্টা— অবলীলা গতিতে ভাসতে। হাইপটা ধরে রাখতে হবে তো!
সম্পাদকের রুমে রাজ্যের ব্যস্ততা। বিজনেস টিম ঢুকেছে তো গ্রাফিকম্যানরা দাঁড়িয়ে। তাদের অপেক্ষা দেখে দূর থেকেই সটকে পড়ে সেন্ট্রাল ডেস্ক। একটু সুযোগ পেলেই ঢুকে পড়েন ফটোর লোকজন। অংশীজন হয়ে ওঠেন আড্ডা-খাওয়া আর হি হি হি হাসির।
সম্পাদকের সংসারে এর বাইরেও আছেন বিস্তর। কোনো আধাআধির মধ্যে নেই— সহকর্মীদের ধারণ করেন পুরোটাই। সুখে-বিসুখে, স্বস্তিতে-অস্বস্তিতে, প্রাচুর্যে-অনটনে সবসময় পাশে মোস্তফা মামুন। সমঝদার কাজের। সূক্ষ্ম বোধশক্তি। সমবেদনার সমারোহ। নিজের ব্যক্তিগত ভালোলাগা মন্দলাগা উপেক্ষা করতে পারেন অবলীলায়— মেনে নিতে পারেন ভিন্নমত। যার বড্ড অভাব এই সময়ে।
অনেক সময় যুদ্ধ জমানো সহজ, গল্প জমানো নয়। মোস্তফা মামুন গল্প জমাতে পারেন। আড্ডার মতো সেটা পাওয়া যায় আগামীর সময়ের পাতায় পাতায়।
আচরণে কঠোর হতে দেখা মেলে কম। কিন্তু ভুল করেন না সঠিক সিদ্ধান্তে। তার বিরক্তির সর্বোচ্চ প্রকাশ— ‘এটা কোনো কথা!’ এরপর বিরক্তকারীকে সরিয়ে রাখেন আলগোছে। মোস্তফা মামুন সেই কিসিমের।
আবদুস সাত্তার মিয়াজী— প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক। প্যান্ট-শার্ট, স্যুট-টাইয়ে তকতকে ঝকঝকে জুতোয় দেখেছেন কখনো? দেখেননি তো! অথচ ওটাই তার অফিসিয়াল পোশাক। আমলা ছিলেন ডাকসাইটে, সামলেছেন মন্ত্রীর দপ্তর। একজন না, তিন-তিন মন্ত্রীর। বিরাট ঝক্কির কাজ। সেটা সেরেছেন নিপুণভাবে। সেজন্যই কোনো কাজ আর কঠিন মনে হয় না।
তাকে কঠোর মনে হয় প্রথম দৃষ্টিতে। সেটি প্রশাসনিক চেয়ারের কারণে। দায়িত্বের দাসত্ব উপচে দেখলে— দেখা মেলে তার মানবিকতা, ‘এত অল্প টাকায় চলে কীভাবে!’ অন্তরের উত্তাপ চোখে ধরা দেয় বাষ্প হয়ে।
এহসানুল হক— নির্বাহী সম্পাদক। থাকার চেষ্টা সবকিছুতে। প্রশাসনিক কাজে যেমন, তেমনি সাব-এডিটরের ‘সামান্যেও’। হালকা চালে কথার দোলে চেষ্টা ভারী বিষয়ও সরলীকরণের। ‘কী কারবার’— শব্দবন্ধের এই নির্বাহীর বাড়িও কারবারি এলাকা নারায়ণগঞ্জে। মুন্সী সামনে নিয়ে নামকরণ আরেক গঞ্জে আদিবাস।
নীরব মশিউর রহমান নিরবধি। জটিল পরিস্থিতিতেও তালপুকুরের জলের মতো কীভাবে স্থির থাকা যায়, তা বুঝতে মিশতে হবে এই ব্যবস্থাপনা সম্পাদকের সঙ্গে। সময়াবদ্ধ কাজে সম্পাদকের ভরসা।
সদা হাস্যময় উপসম্পাদক মঈন উদ্দিন খান সুদর্শনও। তার কড়া কথাও লাগে মিঠে। মিষ্টি কথায় মন ভিজিয়ে সহজেই কাজ হাসিল করতে পারেন।
রফিকুল বাহার আমাদের যুগ্ম সম্পাদক। কাজের সময় অ্যাগ্রেসিভ মুড। লেখার মতো তার রান্নার হাতও দারুণ। অবসরে সহকর্মীদের নিয়ে মেতে থাকেন, নিজে রান্না করে খাওয়ান মনের আনন্দে। দেখে বোঝা যায় না, প্রচণ্ড ধৈর্য তার। রিপোর্টারের নিউজ এডিট করে টোন ঠিক রেখে অর্ধেক করে ফেলা, চমকে দেওয়ার মতো হেডলাইন করতে পারা, সৃজনশীল নিউজ আইডিয়া দেওয়া। একই সঙ্গে আছে নিউজ ট্রিটমেন্ট নিশ্চিত করা এবং ঢাকার মূল অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার দারুণ দক্ষতা।
দিনমান মুখ গুঁজে কাজ করেন আ স ম গোলাম কিবরিয়া। সারা জীবন মিডিয়ার সঙ্গে ছিলেন দূর থেকে। সরাসরি জড়ালেন অফুরান অবসরে এসে প্রশাসনের এই পরিচালক। হাসিমুখের জয় সর্বত্র। ডিরেক্টর (সেলস, মার্কটিং অ্যান্ড অপরাশেন) আহসানুজ্জামান রিমন হাসিমুখ নিয়ে থাকেন সবসময়। এই হাসিমুখের প্রভাব আমাদের অথের্র ঝুলিকে সমৃদ্ধ করবে নিশ্চয়ই।
বাক্যের প্রতিটি শব্দ বানান করে পড়লে কি আর ভাবের ঐক্য থাকে? না অর্থটা বোঝা যায়? কোনোটাই না। টপ ম্যানেজমেন্ট নিয়ে এভাবে গীত গাইলে কি আর তাদের ঐক্যটা বোঝা যাবে? তাদের চিন্তার সাযুজ্য না থাকলেও একটা অন্ত্যমিল আছে কোথাও না কোথাও। সেটা কী? একটা ভালো মিডিয়া করার প্রখর বাসনা। পরিশ্রম দিয়েও তারা কাছাকাছি।
এত এত কথায় আমি কোথায়? কোথাও নেই। কারণ, নিজের কথা তো নিজে বলা যায় না। অন্য কেউ লিখলে তাও নিজের সম্পর্কে দুই লাইন ভালো কিছু শুনতে পেতাম। ভালো কিছু কেন? কারণ, ফরমায়েশি লেখায় কেউ কারও সম্পর্কে খারাপ লেখেন না। তা ছাড়া এ ধরনের লেখায় ঝামেলাও অনেক। সবসময় আমাকে ঠেলে দেওয়া হয় এ কাজে। আগের হাউজগুলোর অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। একজনের সম্পর্কে কেন এক লাইন কম লেখা হলো? নালিশ খোদ সম্পাদক বরাবর।
কেবল শুরু করলাম আমরা। দিন ফুরোবে— সন্ধ্যা হবে। কিন্তু থাকতে চাই ইতিহাসের ইতিবাচক লেখায়।




