সম্পাদকীয় লিখে জেল খাটেন আবদুস সালাম

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
আপসহীনভাবে কেবল একটি সংবাদপত্র পরিচালনা করেননি, বাংলাদেশের সাংবাদিকতা জগতের কিংবদন্তি পুরুষ আবদুস সালাম একটি জাতির অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্বও দিয়েছেন। স্বাধীনতা-উত্তরকালে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি)-এর প্রতিষ্ঠাতা মহাপরিচালক হিসেবে তার অবদান দেশের গণমাধ্যম ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশিকা পরীক্ষায় চট্টগ্রাম বিভাগে প্রথম হয়েছিলেন আবদুস সালাম। কর্মজীবনের শুরুতে ফেনী কলেজে অধ্যাপনা এবং পরে বেঙ্গল সরকারের আয়কর, সিভিল সাপ্লাইজ ও অডিট বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। দেশভাগের পর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের উপ-মহা হিসাব পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। কিন্তু তার মন পড়ে ছিল দেশ ও মানুষের মুক্তির চিন্তায়।
লোভনীয় সরকারি চাকরি ছেড়ে সালাম যোগ দেন ‘পাকিস্তান অবজারভার’ পত্রিকায়
লোভনীয় সরকারি চাকরি ছেড়ে তাই যোগ দেন ‘পাকিস্তান অবজারভার’ (বর্তমানে বাংলাদেশ অবজারভার) পত্রিকায়। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ঠিক আগে একটি সম্পাদকীয় লেখার জেরে তৎকালীন নুরুল আমীন সরকারের রোষানলে কারারুদ্ধ হন এবং পত্রিকাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের মনোনয়নে সংসদ সদস্য হন আবদুস সালাম। স্বৈরাচার আইয়ুব খানের সামরিক শাসনামলেও তিনি ছিলেন অবিচল। আইয়ুব খানের আত্মজীবনী ‘ফ্রেন্ড নট মাস্টার : আ পলিটিক্যাল অটোবায়োগ্রাফি’র সমালোচনা করায় অবজারভার পত্রিকার সরকারি বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেওয়া হয়।
১৯৭১ সালের ২৪ জানুয়ারি ‘মর্নিং নিউজ’ পত্রিকার কার্যালয়ে বিক্ষুব্ধ জনতা আগুন দেয়। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আবদুস সালামকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে গ্রেপ্তার করে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার কারণে তার সুনাম অক্ষুন্ন ছিল। আবদুস সালাম ‘পাকিস্তান কাউন্সিল অব নিউজপেপার এডিটরস’-এর সভাপতি নির্বাচিত হন এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের আজীবন সদস্যপদ লাভ করেন।
স্বাধীনতার পর ‘দি সুপ্রিম টেস্ট’ নামক একটি গঠনমূলক সম্পাদকীয়র কারণে তাকে পদচ্যুত হতে হলেও তার জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার কদর কমেনি। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তারই ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি)।সাংবাদিকতায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৬ সালে তাকে দেশের প্রথম ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত করা হয়।
আবদুস সালাম কেবল একজন সম্পাদক ছিলেন না; তিনি ছিলেন একজন শিক্ষক। তার হাত ধরেই তৈরি হয়েছেন ওবায়েদ উল হক, এস এম আলী, এবিএম মূসা এবং আতাউস সামাদের মতো দিকপাল সাংবাদিক।




