৭ দ্রষ্টা
ডাক্তার ইব্রাহিম বুঝেছিলেন, ডায়াবেটিস আমাদের ভোগাবে

ডাক্তার মোহাম্মদ ইব্রাহিম (১ জানুয়ারি ১৯১১ – ৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮৯)
ডায়াবেটিক সমিতি ও বারডেম হাসপাতাল— এই দুই প্রতিষ্ঠানের নাম উচ্চারণ করলেই যার নাম চলে আসে তিনি ডাক্তার মোহাম্মদ ইব্রাহিম। পুরো নাম শেখ আবু মোহাম্মদ ইব্রাহিম।
দরদি এই ব্যক্তির জন্ম ভারতের পশ্চিমবঙ্গে, ১৯১১ সালে। জেলা মুর্শিদাবাদ। সাধারণ মানুষের সেবা করার মানসিকতা খুব ছোটবেলাতেই গড়ে ওঠে তার মধ্যে। সেবার বীজটি তার পরিবার মনের গভীরে বোপন করে দিয়েছিল।
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন এবং শিক্ষার প্রসারের প্রভাব তার মানসগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্কুল-কলেজের আঙিনা পেরিয়ে পা রাখেন কলকাতা মেডিকেল কলেজে। সেখান থেকে এমবিবিএস। পরে স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গ থেকে এমআরসিপি সম্পন্ন করেন।
ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ যে একদিন এই অঞ্চলের মানুষের অন্যতম প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে, এই আশঙ্কা তিনি তখনই করেছিলেন। ১৯৫৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সেগুনবাগিচায় নিজের বাড়িতে ছোট্ট একটি টিনের ঘরে নোমানী, সলিমুল্লাহ ফাহমী, মিসেস দোহানী প্রমুখ সমাজসেবীকে নিয়ে গঠন করেন পাকিস্তান ডায়াবেটিক সমিতি, যা পরে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি নামে পরিচিতি পায়। সমিতির প্রেসিডেন্ট ডা. দবিরউদ্দিন নিজেও একজন ডায়াবেটিসের রোগী ছিলেন।
ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশনের সাফল্যের পর থামলেন না ডা. ইব্রাহিম। স্বাধীন বাংলাদেশে কাঁধে তুলে নিলেন নতুন দায়িত্ব। বুঝতে পারলেন, দেশে আরও সংগঠিত ও গবেষণাধর্মী একটি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন, যেখানে ডায়াবেটিস এবং অন্যান্য অন্তঃস্রাবী গ্রন্থিসংক্রান্ত রোগ নিয়ে গভীর গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়া যাবে। তাই ১৯৮০ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করলেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ইন ডায়াবেটিস, এন্ডোক্রাইন অ্যান্ড মেটাবলিক ডিজঅর্ডারস, যাকে আমরা আজ বারডেম নামে চিনি।
বৈচিত্র্যময় দায়িত্বে যুক্ত ছিলেন ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম। ছিলেন বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের সভাপতি ও বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সের সহসভাপতি।
১৯৭৫-৭৭, এ সময়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রীর পদমর্যাদায় রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও একাডেমিক কাউন্সিলেরও সদস্য ছিলেন ডা. ইব্রাহীম। ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করে। ১৯৮৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নিজ বাসভবনে মারা যান এই দরদি চিকিৎসক।




