‘এমপি হওয়ার পর জীবনটা একদিনও উপভোগ করতে পারিনি’

ডা. মাহমুদা আলম মিতু। ছবি: সংগৃহীত
সংসদ সদস্য হওয়ার পর আমার নতুন জীবনটা একদিনও উপভোগ করতে পারিনি। বরং রাজনীতির পথে চলতে গিয়ে কোথাও যেন নিজেকেই হারিয়ে ফেলেছি।
গতকাল রবিবার গভীর রাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা আলম মিতু নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে এসব কথা বলেছেন।
পোস্টে মিতু জানান, একসময় তার জীবন ছিল সুন্দর, হাসিখুশি ও প্রাণবন্ত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাস্যরস, ব্যঙ্গ, আড্ডা আর নানা লেখায় মানুষকে আনন্দ দিতেন। কিন্তু ২০২৪ সালের ঘটনাপ্রবাহ তার জীবন আমূল বদলে দিয়েছে।
‘দেশের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করতে করতে নিজের অজান্তেই সেই জীবনটা অন্য এক জীবনে রূপ নিল। শুধু আমার নয়, আমার মতো আরও অনেকের জীবনই হয়তো বদলে গেছে। মনের ভারের পাশাপাশি শরীরেও নানা রোগ বেঁধেছে।’—জানালেন তিনি।
সংসদ সদস্য হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বললেন, ‘অনেকেই মনে করেন এমপি হওয়ার মাধ্যমে আমি অনেক কিছু অর্জন করেছি। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।
তার ভাষায়, আমার এমন একটি ক্যারিয়ার, পরিচিতি এবং কাজের অভিজ্ঞতা ছিল, যা দিয়ে চাইলে আজকের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থ উপার্জন করতে পারতাম। হয়তো আল্লাহর পরিকল্পনা ছিল ভিন্ন। এমপি হওয়ার পর এই জীবনটাকে আমি একদিনও উপভোগ করতে পারিনি।
তিনি আরও লিখেছেন, ‘আগে যেমন নিজের ইচ্ছামতো কথা বলতে পারতেন, এখন আর তা পারি না। আমি মাথা না নোয়ানো মেয়ে। আজকাল মাথা নোয়াতে হয়, সবার ভালোর জন্য কম্প্রোমাইজ করতে হয়। এখন আর মন চাইলেই প্রতিবাদ করতে পারি না।’
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে মিতু বললেন, ‘সংসদে যখনই জুলাই নিয়ে আলোচনা হয়, তখনই তার ভেতরটা ভেঙে যায়। ‘কান্না পায়। সেই ছেলেগুলোর লাশ চোখে ভাসে। কিন্তু সেই কান্নাটুকুও চেপে রাখতে হয়। হেরে যাচ্ছি—এটা কাউকে বুঝতে দিতে মন চায় না।’
ক্ষমতা সম্পর্কে নিজের উপলব্ধি জানিয়ে তিনি লেখেন, ক্ষমতা মানুষকে সবসময় শক্তিশালী করে না। কখনও কখনও সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয় নিজের স্বাভাবিক হাসি, নিজের স্বাধীনতা আর নিজের সত্তাকে। সেই মূল্যটা যারা দেয়, তারাই জানে এর ভার কতটা।’
পোস্টের শেষ অংশে রাজনৈতিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে মিতু বললেন, ‘আজ হয়তো অনেকেই এর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন না। কিন্তু সময়ই একদিন এর মূল্য বুঝিয়ে দেবে। দিন শেষে সবচেয়ে বড় আশ্রয় একটাই—আল্লাহ আছেন। তিনি মানুষের উচ্চারিত শব্দের চেয়েও নীরব দীর্ঘশ্বাস বেশি জানেন। তিনি সব দেখেন, সব জানেন এবং তার বিচারই সর্বোত্তম।’






