যে ছবি বলছে অনেক না বলা কথা

যে ছবিটি দেখছেন, সেটি প্রকাশ করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম তার সামাজিক মাধ্যমে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর যে আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তা এই ছবিটি দেখলেই অনুমান করা যায়। তার ফেসবুক হ্যান্ডেল ঘাঁটলেই বোঝা যায় যে তিনি তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর নিয়ে ভীষণ উচ্ছ্বসিত।
দেখুন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিজের সামাজিক মাধ্যমে কী লিখেছেন, ‘আজ সকালে পুত্রজায়ায় দুই দিনের সরকারি সফরে মালয়েশিয়ায় এসেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আমি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিদেশ সফরের প্রথম সরকারি গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়ায় তারেক রহমানের এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা না করে পারছি না। এটি মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক বিশ্বাসের সম্পর্কের প্রতিফলন। এটি আমাদের দেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং একই সঙ্গে সম্মানের বিষয়।’
‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ মালয়েশিয়া সফর আমাদের জন্য গর্ব ও আশাবাদের এক অনন্য মুহূর্ত। এই সফর শুধু দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও গভীর সম্পর্ককেই আরও সুদৃঢ় করেনি, বরং একটি সমৃদ্ধ, সংযুক্ত ও যৌথ ভবিষ্যতের অভিন্ন স্বপ্নকেও সামনে তুলে ধরেছে।’
আনোয়ার ইব্রাহিমের শরীরী ভাষা এবং তাঁর লেখায় যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ পেয়েছে, তাতে করে এই সফরের তাৎপর্য দীর্ঘমেয়াদি হবে—এমনটাই মনে করছেন দুই দেশের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীরা।
জহির খান নামের একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী আনোয়ার ইব্রাহিমের সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করেছেন, ‘আমরা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যিনি অসাধারণ আন্তরিকতা ও উষ্ণ আতিথেয়তার মাধ্যমে এই সফরকে অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ করে তুলেছেন। একই সঙ্গে তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব এই সফরের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সফরকালে স্বাক্ষরিত যুগান্তকারী দ্বিপক্ষীয় চুক্তি আমাদের ক্রমবর্ধমান অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার শক্তিশালী প্রমাণ। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোকে ঘিরে সম্পাদিত এসব চুক্তি অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে, বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়তা করবে এবং সাংস্কৃতিক ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগকে আরও গভীর করবে।’
জহিরের ভাষ্য, ‘বাংলাদেশ যখন ধারাবাহিক উন্নয়ন, অগ্রগতি ও রূপান্তরের পথে এগিয়ে চলেছে, তখন মালয়েশিয়ার অব্যাহত সমর্থন ও অংশীদারিত্ব আমাদের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। আমরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক সফরের সফল ও নিরাপদ সমাপ্তি কামনা করছি এবং আশা করছি, এই চুক্তিগুলোর সুফল উভয় দেশের জনগণের জীবনে বাস্তব সমৃদ্ধি ও কল্যাণ বয়ে আনবে।’
সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীরা এই ছবির প্রশংসা করছেন। প্রশংসা করছেন ছবির পেছনের গল্প, আনোয়ার ইব্রাহিম ও তারেক রহমানের হৃদ্যতাপূর্ণ কথোপকথন; তাদের একসঙ্গে হেঁটে চলা নিয়ে। তারা বলছেন, এই ছবিই প্রকাশ করে আগামীর সময়টা মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের জন্য অমিত সম্ভাবনার সময়।
এদিকে, বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার সকালে পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ এবং দ্রুত শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছি। পাশাপাশি অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণ এবং আটক বাংলাদেশিদের সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও উত্থাপন করেছি। আমরা একমত হয়েছি যে শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমে এবং শ্রমিকদের ব্যয় হ্রাস পায়।’




