কিয়ামতের দিন যারা নবীজির সবচেয়ে কাছে থাকবে

প্রতীকী ছবি
মানুষের জীবনে অনেক আকাঙ্ক্ষা থাকে। কেউ সম্পদ চায়, কেউ সম্মান, কেউ সফলতা। কিন্তু একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা হওয়া উচিত কিয়ামতের দিন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সান্নিধ্য লাভ করা। কারণ সেই দিন মানুষ যখন ভয়, উৎকণ্ঠা ও হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত থাকবে, তখন প্রিয় নবীর নৈকট্য হবে সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য।
এই সৌভাগ্য অর্জনের একটি সহজ কিন্তু গভীর পথ দেখিয়ে দিয়েছেন স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.)। তিনি বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে সে-ই কিয়ামতের দিন আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী হবে, যার চরিত্র সবচেয়ে উত্তম।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২০১৮)
এই হাদিস আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য স্মরণ করিয়ে দেয়। ইসলামে শুধু ইবাদতের পরিমাণ নয়, চরিত্রের সৌন্দর্যও মর্যাদার অন্যতম মাপকাঠি। নামাজ, রোজা ও অন্যান্য ইবাদতের পাশাপাশি একজন মুসলমানের কথা, আচরণ, নম্রতা, সততা, ধৈর্য, ক্ষমাশীলতা ও মানুষের সঙ্গে ব্যবহারই তার প্রকৃত ব্যক্তিত্বের পরিচয় বহন করে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহতাআলা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রশংসা করে বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী।’ (সুরা আল-কলম, আয়াত : ৪)। অর্থাৎ মহানবী (সা.)-এর জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি ছিল তাঁর অনন্য চরিত্র। তাই তাঁকে ভালোবাসার প্রকৃত দাবি হলো তাঁর চারিত্রিক আদর্শ অনুসরণ করা।
ভালো চরিত্র শুধু হাসিমুখে কথা বলার নাম নয়। এটি সত্যবাদিতা, আমানতদারি, প্রতিশ্রুতি রক্ষা, অন্যের অধিকার আদায়, ক্রোধ সংযম, ক্ষমা, বিনয় এবং মানুষের প্রতি দয়া ও সম্মানের সমন্বিত রূপ। যে ব্যক্তি মানুষের সঙ্গে সুন্দর আচরণ করে, কাউকে কষ্ট দেয় না, অন্যের ভুল ক্ষমা করতে শেখে এবং নিজের আচরণ দিয়ে মানুষের হৃদয় জয় করে, সে-ই প্রকৃত অর্থে উত্তম চরিত্রের অধিকারী।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুমিনদের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ইমানের অধিকারী সেই ব্যক্তি, যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৬৮২) অন্য হাদিসে তিনি বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন মুমিনের আমলনামায় উত্তম চরিত্রের চেয়ে ভারী আর কিছু থাকবে না।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২০০২)
দুঃখজনক হলেও সত্য, আজ আমরা অনেক সময় বাহ্যিক ইবাদতের প্রতি যতটা যত্নবান, চরিত্র গঠনের প্রতি ততটা নই। অথচ রূঢ় ভাষা, প্রতারণা, অহংকার, পরনিন্দা, অসহিষ্ণুতা ও অসৌজন্যমূলক আচরণ একজন মানুষের বহু নেক আমলের সৌন্দর্য নষ্ট করে দিতে পারে। তাই পরিবার, কর্মক্ষেত্র, প্রতিবেশী, সহকর্মী কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম- সর্বত্র ইসলামী চরিত্রের প্রকাশ ঘটানো একজন মুমিনের দায়িত্ব।
কিয়ামতের দিন নবীজির নৈকট্য লাভ কোনো কল্পনা নয়; এটি তাঁরই দেওয়া সুসংবাদ। সেই সৌভাগ্য অর্জনের জন্য আমাদের প্রয়োজন উত্তম চরিত্রকে জীবনের অলংকারে পরিণত করা। কারণ সুন্দর চরিত্র শুধু মানুষকে মানুষের কাছে প্রিয় করে না, বরং কিয়ামতের দিন তাকে প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সান্নিধ্যেও পৌঁছে দেয়। তাই আসুন, ইবাদতের পাশাপাশি চরিত্রকেও সুন্দর করি। এ পথেই নিহিত রয়েছে দুনিয়ার সম্মান এবং আখিরাতের মহাসাফল্য।




