রোগীর সেবায় রয়েছে অভাবনীয় সওয়াব

প্রতীকী ছবি
মানুষের জীবনে সুস্থতা মহান আল্লাহতাআলার দান করা অন্যতম বড় নেয়ামত। সেই সঙ্গে অসুস্থতাও মানুষের জীবনের একটি বাস্তবতা। রোগাক্রান্ত হলে মানুষ শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি মানসিকভাবেও দুর্বল হয়ে পড়ে। এ সময় তার প্রয়োজন হয় চিকিৎসার, পাশাপাশি স্নেহ, সহমর্মিতা ও আন্তরিক পরিচর্যা। অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তার খোঁজখবর নেওয়া এবং প্রয়োজন পূরণে সহযোগিতা করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ মানবিক দায়িত্ব; তেমনি ইসলামের দৃষ্টিতেও তা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত। রোগীর সেবা ও পরিচর্যার মাধ্যমে একজন মুমিন আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং অভাবনীয় সওয়াব অর্জন করতে পারেন।
ইসলাম মানুষের প্রতি দয়া, ভালোবাসা ও সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়। বিশেষ করে অসুস্থ ব্যক্তির সেবা করার প্রতি রাসুলুল্লাহ (সা.) বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলিম যখন তার অসুস্থ মুসলিম ভাইকে দেখতে যায়, তখন সে ফিরে না আসা পর্যন্ত জান্নাতের ফল আহরণ করতে থাকে।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৫৬৮)। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, রোগীকে দেখতে যাওয়ায় সাধারণ সামাজিক সৌজন্য রক্ষার পাশাপাশি এটি এমন এক নেক আমল, যার প্রতিদান আল্লাহর কাছে অত্যন্ত মূল্যবান।
রোগীর সেবার মর্যাদা বোঝাতে সহিহ মুসলিমের আরেকটি হাদিস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহতাআলা বলবেন, ‘হে আদম সন্তান! আমি অসুস্থ হয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমাকে দেখতে আসনি।’ বান্দা বলবে, হে আমার রব! আপনি তো বিশ্বজগতের প্রতিপালক, আমি কীভাবে আপনাকে দেখতে যেতাম? আল্লাহ বলবেন, তুমি কি জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা অসুস্থ হয়েছিল? তুমি তাকে দেখতে যাওনি। যদি তাকে দেখতে যেতে, তবে সেখানে আমাকে পেতে। (মুসলিম, হাদিস : ২৫৬৯)
এই হাদিসে আল্লাহর অসুস্থ হওয়ার বিষয়টি উদ্দেশ্য নয়; বরং অসুস্থ বান্দার প্রতি যত্ন ও সহমর্মিতার গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে। এর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে রোগীর সেবার বিশেষ মর্যাদা প্রকাশ পেয়েছে।
রোগীর পরিচর্যা শুধু তাকে দেখতে যাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং তার প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ সংগ্রহ, চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ,



