আশুরার দিন কিয়ামত হবে, এটি কি হাদিস?
- সত্যিই কি আশুরার দিন কিয়ামত হবে?
- আশুরার দিন কিয়ামত প্রসঙ্গে মুহাদ্দিসদের অভিমত

প্রতীকী ছবি
আশুরা ইসলামের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ দিন। মহররম মাসের দশম দিন হিসেবে এই দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এদিনের রোজা, এর ফজিলত এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার আলোচনা মুসলিম সমাজে প্রচলিত রয়েছে। তবে আশুরাকে কেন্দ্র করে কিছু এমন বর্ণনাও সমাজে ছড়িয়ে আছে, যেগুলোর কোনো নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নেই। সেসব বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি, যাতে দ্বীনের নামে ভুল তথ্য প্রচার না হয়।
আশুরার দিন কিয়ামত সংঘটিত হবে—এমন একটি কথা অনেক সময় হাদিস হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, ‘হাদিস শরিফে এসেছে, আশুরার দিন কিয়ামত হবে।’ কিন্তু হাদিস বিশারদদের গবেষণা অনুযায়ী এই বক্তব্য সঠিক নয়। আশুরার দিন কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার যে বর্ণনা পাওয়া যায়, তা মুহাদ্দিসদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়; বরং তা ভিত্তিহীন ও জাল বর্ণনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও ইতিহাসবিদ আল্লামা আবুল ফারজ ইবনুল জাওযী (রহ.) এই বর্ণনা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, ‘এটি নিঃসন্দেহে মওযূ (জাল) বর্ণনা।’ (কিতাবুল মওযূআত, ২/২০২)
পরবর্তী যুগের হাদিস বিশারদ হাফেয জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহ.) এবং আল্লামা ইবনুল আররাক (রহ.) ও ইবনুল জাওযী (রহ.)-এর এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হয়েছেন। (আল-লাআলিল মাসনূআ, ২/১০৯; তানযীহুশ শরীআতিল মরফূআ, ২/১৪৯)
তবে এর অর্থ এই নয় যে, আশুরা দিবসের কোনো মর্যাদা নেই। বরং সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত যে, আশুরার রোজার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) আশুরার রোজাকে গুরুত্ব দিয়েছেন এবং এ রোজার মাধ্যমে পূর্ববর্তী এক বছরের ছোটখাটো গুনাহ ক্ষমার আশা ব্যক্ত করেছেন। তাই আশুরার প্রকৃত মর্যাদা জানতে হলে সহিহ সূত্রের ওপর নির্ভর করাই ইসলামের শিক্ষা।
অন্যদিকে, কিয়ামতের দিন সম্পর্কে সহিহ হাদিসে এসেছে যে, তা শুক্রবারে সংঘটিত হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘শুক্রবার দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে।’ (জামে তিরমিজি, ২/৩৬২; সুনানে আবু দাউদ, ১/৬৩৪; সুনানে নাসায়ি, ৩/১১৩-১১৪)
দ্বীনের বিষয়ে সঠিক জ্ঞান অর্জনের অন্যতম শর্ত হলো, কোনো বক্তব্য প্রচারের আগে তার বিশুদ্ধতা যাচাই করা। বিশেষ করে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নামে কোনো কথা বলার ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্কতা প্রয়োজন। কারণ সহিহ সুন্নাহ অনুসরণই একজন মুসলমানের জন্য হেদায়াতের নির্ভরযোগ্য পথ। তাই আশুরার মর্যাদা বর্ণনা করতে গিয়ে ভিত্তিহীন কোনো বর্ণনা নয়, বরং কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে কথা বলাই আমাদের দায়িত্ব।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক




