ইফার উদ্যোগে প্রথম জাতীয় তাফসির প্রতিযোগিতা, অংশ নিচ্ছেন ২,৫৮০ জন

সংগৃহীত ছবি
পবিত্র কোরআনের আয়াতের অর্থ অনুধাবন ও ব্যাখ্যাবিষয়ক জ্ঞানচর্চাকে সামনে রেখে দেশে প্রথমবারের মতো জাতীয় তাফসির প্রতিযোগিতার উদ্যোগ নিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। আট বিভাগের ২ হাজার ৫৮০ জন নিবন্ধিত প্রতিযোগীকে নিয়ে শুরু হয়েছে এ আয়োজন। জাতীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে বিজয়ীদের জন্য রাখা হয়েছে ১৬ লাখ ২০ হাজার টাকার পুরস্কার।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে একযোগে লিখিত পরীক্ষার মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতার প্রাথমিক পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। সব কেন্দ্রে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ শাখা থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের আগ্রহের দিক থেকে বিভাগগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা। এ বিভাগে নিবন্ধিত প্রতিযোগীর সংখ্যা ৯১০। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চট্টগ্রামে নিবন্ধন করেছেন ৫৪৩ জন। সিলেটে ২৫০, রাজশাহীতে ১৯৬, ময়মনসিংহে ১৮৭, খুলনায় ১৭৯, রংপুরে ১৬৭ এবং বরিশালে ১৪৮ জন প্রতিযোগী এ আয়োজনের অংশ হয়েছেন।
লিখিত পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে পরবর্তী ধাপে নেওয়া হবে মৌখিক পরীক্ষা। বিভাগীয় পর্যায়ে বিজয়ীদের মধ্য থেকে নির্বাচিত প্রতিযোগীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় পর্যায়ের লড়াই। এ পর্যায়ে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি জোরদার করতে আট বিভাগের ৪৮ জন বিজয়ীর জন্য ঢাকায় সাত দিনের আবাসিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
পুরস্কারের কাঠামো অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে দুটি গ্রুপে তিনটি করে মোট ছয়টি পুরস্কার দেওয়া হবে। দুই গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন, প্রথম রানার্সআপ ও দ্বিতীয় রানার্সআপদের জন্য যথাক্রমে ২ লাখ, দেড় লাখ ও ১ লাখ টাকা করে বরাদ্দ রয়েছে। অর্থাৎ জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার বাবদ ব্যয় হবে ৯ লাখ টাকা। প্রত্যেক বিজয়ীকে নগদ অর্থের পাশাপাশি ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেওয়া হবে।
বিভাগীয় পর্যায়েও থাকছে পুরস্কারের সুযোগ। আট বিভাগের প্রতিটিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীকে পুরস্কৃত করার কথা রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। প্রতি বিভাগে প্রথম পুরস্কার ২০ হাজার, দ্বিতীয় পুরস্কার ১৫ হাজার এবং তৃতীয় পুরস্কার ১০ হাজার টাকা।
বিভাগীয় পর্যায়ের পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ঢাকায় মদীনাতুল উলূম মডেল ইনস্টিটিউট কামিল মাদরাসা, চট্টগ্রামে নেছারিয়া কামিল (এমএ) মাদরাসা, খুলনায় মেট্রোপলিটন জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং রাজশাহীতে মদীনাতুল উলুম কামিল মাদরাসা ছিল। অন্যদিকে সিলেটে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় কার্যালয় ও ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি, বরিশালে কাশিপুর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, রংপুরে জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং ময়মনসিংহে নাসিরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে পরীক্ষা নেওয়া হয়।
দেশে প্রথমবারের এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে কোরআনের তাফসিরবিষয়ক জ্ঞান যাচাইয়ের পাশাপাশি এ বিষয়ে অধ্যয়ন ও চর্চায় আগ্রহীদের জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রতিযোগিতার পরবর্তী ধাপগুলো শেষে চূড়ান্ত বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।



