কেরানীগঞ্জের সাউথ টাউনে মসজিদ নাকি রাজপ্রাসাদ

বুড়িগঙ্গা পেরিয়ে কেরানীগঞ্জের দিকে এগোলে রাজধানীর চেনা দৃশ্যপট ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে। নগরের কোলাহল পেছনে পড়ে থাকে, সামনে খুলে যায় অপেক্ষাকৃত নিরিবিলি এক জনপদ। আর সেই পথেই হঠাৎ যদি চোখে পড়ে অপূর্ব সুন্দর একটি স্থাপনা, প্রথম দেখায় সেটিকে মসজিদ বলে চিনতে ভুল হতে পারে।
রাজপ্রাসাদের মতো তার অবয়ব। বিশাল ফটক, গম্বুজ, ছোট ছোট শাখা গম্বুজ, নান্দনিক কারুকাজ আর প্রশস্ত জানালার সমন্বয়ে দূর থেকে স্থাপনাটিকে মনে হয় কোনো ঐতিহাসিক প্রাসাদ। কাছে গিয়ে অবশ্য ভুল ভাঙে। এটি কোনো রাজপ্রাসাদ নয়, বরং ইবাদতের জন্য নির্মিত দৃষ্টিনন্দন একটি মসজিদ।
রাজধানী ঢাকার অদূরে বুড়িগঙ্গা নদীর ওপারে কেরানীগঞ্জ থানার রাজেন্দ্রপুর এলাকায় সাউথ টাউন আবাসিক প্রকল্পের ভেতরে দাঁড়িয়ে আছে এই অনন্য স্থাপনাটি। ঢাকা জেলার অন্তর্ভুক্ত হলেও রাজধানীর ব্যস্ত নগরজীবন থেকে এর পরিবেশ বেশ আলাদা।
মসজিদটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর বাহ্যিক স্থাপত্য। প্রথম দর্শনে যে বিষয়টি চোখে পড়ে, সেটি হলো এর রাজকীয় অবয়ব। মাঝখানে প্রধান গম্বুজ, আর তার চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে ২০টিরও বেশি ছোট শাখা গম্বুজ। ছোট গম্বুজগুলো বসানো হয়েছে মিনারের মতো দেখতে নকশাদার স্তম্ভের ওপর। ফলে পুরো ভবনটির ওপরের অংশে তৈরি হয়েছে একধরনের ছন্দময় স্থাপত্য বিন্যাস।
মসজিদ ভবনে প্রবেশের জন্য রয়েছে তিনটি প্রধান ফটক। চারপাশের বড় বড় জানালা শুধু ভবনটির সৌন্দর্য বাড়ায়নি, ভেতরের আলো-বাতাস চলাচলেও ভূমিকা রাখে। প্রশস্ত জানালার কারণে মসজিদের অভ্যন্তরে স্বাভাবিক বায়ু চলাচলের সুযোগ রয়েছে।
দূর থেকে তাকালে গম্বুজগুলোর সমন্বিত বিন্যাস আর প্রাসাদসদৃশ অবয়ব স্থাপনাটিকে আশপাশের সাধারণ ভবন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে তোলে।
মসজিদটির নির্মাণকাজ ঠিক কোন সময়ে শুরু হয়েছিল, তার নির্ভরযোগ্য সুনির্দিষ্ট তথ্য স্থানীয়ভাবে পাওয়া যায় না। তবে এলাকাবাসীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এর নির্মাণকাজ ২০১৭ সালের দিকে শেষ হয়।
বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির তত্ত্বাবধানে নির্মিত এই মসজিদ প্রকল্পে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়।
একতলা ভবন হলেও এর আয়তন ও নকশা এমনভাবে পরিকল্পিত যে একসঙ্গে প্রায় সাড়ে ছয়শ মুসল্লি জামাতে নামাজ আদায় করতে পারেন। ফলে স্থাপনাটি আকারে একতলা হলেও ধারণক্ষমতার দিক থেকে ছোট কোনো মসজিদ নয়।





