Agamir Somoy E-Paper
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
শাহনাজের হাত ধরে স্বাবলম্বী ৭০০ নারী
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় মসজিদ

কেরানীগঞ্জের সাউথ টাউনে মসজিদ নাকি রাজপ্রাসাদ

মুফতি সাইফুল ইসলাম
মুফতি সাইফুল ইসলাম
agamir somoy
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:৫৯
কেরানীগঞ্জের সাউথ টাউনে মসজিদ নাকি রাজপ্রাসাদ

বুড়িগঙ্গা পেরিয়ে কেরানীগঞ্জের দিকে এগোলে রাজধানীর চেনা দৃশ্যপট ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে। নগরের কোলাহল পেছনে পড়ে থাকে, সামনে খুলে যায় অপেক্ষাকৃত নিরিবিলি এক জনপদ। আর সেই পথেই হঠাৎ যদি চোখে পড়ে অপূর্ব সুন্দর একটি স্থাপনা, প্রথম দেখায় সেটিকে মসজিদ বলে চিনতে ভুল হতে পারে।

রাজপ্রাসাদের মতো তার অবয়ব। বিশাল ফটক, গম্বুজ, ছোট ছোট শাখা গম্বুজ, নান্দনিক কারুকাজ আর প্রশস্ত জানালার সমন্বয়ে দূর থেকে স্থাপনাটিকে মনে হয় কোনো ঐতিহাসিক প্রাসাদ। কাছে গিয়ে অবশ্য ভুল ভাঙে। এটি কোনো রাজপ্রাসাদ নয়, বরং ইবাদতের জন্য নির্মিত দৃষ্টিনন্দন একটি মসজিদ।

রাজধানী ঢাকার অদূরে বুড়িগঙ্গা নদীর ওপারে কেরানীগঞ্জ থানার রাজেন্দ্রপুর এলাকায় সাউথ টাউন আবাসিক প্রকল্পের ভেতরে দাঁড়িয়ে আছে এই অনন্য স্থাপনাটি। ঢাকা জেলার অন্তর্ভুক্ত হলেও রাজধানীর ব্যস্ত নগরজীবন থেকে এর পরিবেশ বেশ আলাদা।

মসজিদটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর বাহ্যিক স্থাপত্য। প্রথম দর্শনে যে বিষয়টি চোখে পড়ে, সেটি হলো এর রাজকীয় অবয়ব। মাঝখানে প্রধান গম্বুজ, আর তার চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে ২০টিরও বেশি ছোট শাখা গম্বুজ। ছোট গম্বুজগুলো বসানো হয়েছে মিনারের মতো দেখতে নকশাদার স্তম্ভের ওপর। ফলে পুরো ভবনটির ওপরের অংশে তৈরি হয়েছে একধরনের ছন্দময় স্থাপত্য বিন্যাস।

মসজিদ ভবনে প্রবেশের জন্য রয়েছে তিনটি প্রধান ফটক। চারপাশের বড় বড় জানালা শুধু ভবনটির সৌন্দর্য বাড়ায়নি, ভেতরের আলো-বাতাস চলাচলেও ভূমিকা রাখে। প্রশস্ত জানালার কারণে মসজিদের অভ্যন্তরে স্বাভাবিক বায়ু চলাচলের সুযোগ রয়েছে।

দূর থেকে তাকালে গম্বুজগুলোর সমন্বিত বিন্যাস আর প্রাসাদসদৃশ অবয়ব স্থাপনাটিকে আশপাশের সাধারণ ভবন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে তোলে।

মসজিদটির নির্মাণকাজ ঠিক কোন সময়ে শুরু হয়েছিল, তার নির্ভরযোগ্য সুনির্দিষ্ট তথ্য স্থানীয়ভাবে পাওয়া যায় না। তবে এলাকাবাসীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এর নির্মাণকাজ ২০১৭ সালের দিকে শেষ হয়।

বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির তত্ত্বাবধানে নির্মিত এই মসজিদ প্রকল্পে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়।

একতলা ভবন হলেও এর আয়তন ও নকশা এমনভাবে পরিকল্পিত যে একসঙ্গে প্রায় সাড়ে ছয়শ মুসল্লি জামাতে নামাজ আদায় করতে পারেন। ফলে স্থাপনাটি আকারে একতলা হলেও ধারণক্ষমতার দিক থেকে ছোট কোনো মসজিদ নয়।

বাইরের সৌন্দর্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মসজিদের অভ্যন্তরও সাজানো হয়েছে নান্দনিকভাবে। মেঝেতে ব্যবহার করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন টাইলস। অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জায় রয়েছে পরিমিত অলংকরণের ছাপ। বাইরে থেকে যে রাজকীয় আবহ চোখে পড়ে, ভেতরে প্রবেশ করলেও তার অনেকটাই অনুভব করা যায়।

তবে এই সৌন্দর্যের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক সম্ভবত এর অবস্থান।

কারণ মসজিদটির চারপাশে এখনো ঘনবসতি গড়ে ওঠেনি। আবাসিক প্রকল্পের বিস্তীর্ণ এলাকার অনেকাংশই অপেক্ষাকৃত নির্জন। আর বর্ষা ও শরৎকালে আশপাশের কাশবন যখন সাদা ফুলে ভরে ওঠে, তখন রাজপ্রাসাদের মতো মসজিদটির সঙ্গে চারপাশের প্রকৃতির এক অপূর্ব বৈপরীত্য তৈরি হয়।

একদিকে স্থাপত্যের জাঁকজমক, অন্যদিকে বিস্তীর্ণ কাশবন। নগরের এত কাছে এমন দৃশ্য যে-কাউকে কিছুক্ষণের জন্য থামিয়ে দিতে পারে।

মসজিদটি যে আবাসিক প্রকল্পের ভেতরে অবস্থিত, সেখানে এখনো পর্যাপ্ত জনবসতি গড়ে ওঠেনি। ফলে প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে এখানে খুব বেশি মুসল্লির সমাগম হয় না। অনেক সময় মসজিদ বন্ধও থাকে।

তবে শুক্রবারের চিত্র একেবারেই আলাদা।

জুমার নামাজ আদায় করতে দূর-দূরান্ত থেকে মুসল্লিরা এখানে আসেন। তাদের কারও কাছে এটি নামাজের স্থান, আবার কারও কাছে নামাজের পাশাপাশি একটি সুন্দর স্থাপনা দেখার সুযোগ।

জুমার জামাত শেষে অনেকে মসজিদের চারপাশে কিছু সময় কাটান। কেউ স্থাপত্যের ছবি তোলেন, কেউ চারপাশের পরিবেশ দেখেন, কেউ আবার কাশবনের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন। ফলে সপ্তাহের অন্যান্য দিনের নীরবতার বিপরীতে শুক্রবার মসজিদ প্রাঙ্গণে তৈরি হয় প্রাণচাঞ্চল্য।

মসজিদের খাদেম হাফেজ জহিরুল ইসলামের প্রত্যাশা, সাউথ টাউন আবাসিক প্রকল্পে ভবিষ্যতে জনবসতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মসজিদটিতেও নিয়মিত মুসল্লির সংখ্যা বাড়বে।

এই মসজিদের গল্প শুধু তার স্থাপত্যের গল্প নয়। এর গল্প এক পরিবর্তনশীল এলাকারও। একসময় যেখানে ছিল অপেক্ষাকৃত ফাঁকা প্রান্তর, সেখানে ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে আবাসিক এলাকা। ভবিষ্যতে জনবসতি বাড়লে আজকের নির্জন পরিবেশও বদলে যাবে।

তখন হয়তো কাশবনের জায়গা নেবে বাড়িঘর, কমে আসবে খোলা জায়গা, বাড়বে মানুষের কোলাহল। কিন্তু তার আগেই রাজেন্দ্রপুরের এই মসজিদ যেন নিজের চারপাশে একটি স্বতন্ত্র দৃশ্যপট তৈরি করে নিয়েছে।

বুড়িগঙ্গার ওপারে ঢাকার এত কাছে থেকেও যেখানে নগরের ব্যস্ততা পুরোপুরি পৌঁছায়নি, সেখানেই দাঁড়িয়ে আছে রাজপ্রাসাদের মতো দেখতে এই মসজিদ।

প্রথম দর্শনে বিস্ময়, একটু কাছে গেলে স্থাপত্যের মুগ্ধতা, আর কিছুক্ষণ অবস্থান করলে চারপাশের প্রকৃতির প্রশান্তি—সব মিলিয়ে এটি কেরানীগঞ্জের এমন একটি স্থাপনা, যার সৌন্দর্য শুধু মসজিদের দেয়াল-গম্বুজে আটকে নেই। তার সৌন্দর্য ছড়িয়ে আছে চারপাশের নীরবতা, কাশফুল আর দূরে গড়ে উঠতে থাকা নতুন জনপদের মধ্যেও।

আর তাই হঠাৎ করে এই মসজিদের সামনে এসে পড়লে আপনার প্রথম প্রশ্নটি হয়তো হবে—এটি কি সত্যিই একটি মসজিদ, নাকি কোনো রাজপ্রাসাদ?

সাউথ টাউন জামে মসজিদ
    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন: