কথার আঘাতও এক ধরনের জুলুম

প্রতীকী ছবি
মানুষের শরীরে আঘাত করলে ক্ষত সৃষ্টি হয়, রক্ত ঝরে, ব্যথা অনুভূত হয়। কিন্তু কথার আঘাত অনেক সময় শরীরে কোনো ক্ষতচিহ্ন না রাখলেও মানুষের হৃদয়ে গভীর ক্ষত তৈরি করে। একটি কটু কথা, অপমানজনক মন্তব্য কিংবা তুচ্ছতাচ্ছিল্যপূর্ণ আচরণ কারও আত্মমর্যাদাবোধকে ভেঙে দিতে পারে। কখনো কখনো সেই ক্ষত দীর্ঘদিন বয়ে বেড়াতে হয়। অথচ আমরা অনেকেই কথার মাধ্যমে কাউকে কষ্ট দেওয়াকে তেমন অপরাধ মনে করি না। ইসলাম মানুষের শারীরিক নিরাপত্তার পাশাপাশি তার সম্মান, মর্যাদা ও মানসিক প্রশান্তির সুরক্ষাকেও অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। তাই কথার আঘাতও এক ধরনের জুলুম।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘হে মুমিনগণ! কোনো সম্প্রদায় যেন অন্য সম্প্রদায়কে উপহাস না করে। হতে পারে তারা উপহাসকারীদের চেয়ে উত্তম। আর নারীরাও যেন অন্য নারীদের উপহাস না করে। হতে পারে তারা তাদের চেয়ে উত্তম। তোমরা একে অপরকে দোষারোপ করো না এবং একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না।’ (সুরা হুজুরাত, আয়অত : ১১)।
এই আয়াতে উপহাস, বিদ্রূপ, দোষারোপ ও অপমানজনক নামে ডাকার মতো সামাজিক আচরণকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অর্থাৎ মানুষের সম্মানহানি হয় এমন কথাবার্তা ইসলামের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়।
কথার মাধ্যমে কাউকে কষ্ট দেওয়া, অপমান করা কিংবা তার দুর্বলতা নিয়ে বিদ্রূপ করা যে কতটা গুরুতর অপরাধ, তা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি হাদিসে স্পষ্ট হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে।’ (বুখারি, হাদিস: ১০; মুসলিম, হাদিস: ৪০)।
লক্ষণীয়, রাসুলুল্লাহ (সা.) এখানে হাতের পাশাপাশি জিহ্বার নিরাপত্তাকেও প্রকৃত মুসলিমের পরিচয় হিসেবে তুলে ধরেছেন। অর্থাৎ শুধু শারীরিকভাবে কাউকে আঘাত না করলেই একজন মানুষ ভালো মুসলিম হয়ে যায় না; তার কথাবার্তাও অন্যের জন্য নিরাপদ হতে হবে।
অনেক সময় মানুষ রাগের মাথায় এমন কথা বলে ফেলে, যা পরে চাইলেও ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয় না। স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়ায় অপমানজনক মন্তব্য, সন্তানকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করে হেয় করা, কর্মচারীকে সবার সামনে অপদস্থ করা, অধীনস্থ ব্যক্তির ভুল নিয়ে বিদ্রূপ করা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাউকে নিয়ে কটাক্ষ করা, সবই কথার মাধ্যমে জুলুমের বিভিন্ন রূপ। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই না করে কারও সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য



