কোটার কারণে যেতে পারবেন না অন্তত ২৫ হাজার হজযাত্রী

সংগৃহীত ছবি
আগামী বছর পবিত্র হজের কোটা পূরণ হলেও বাড়তি অন্তত ২৫ হাজার বেসরকারি হজযাত্রী রয়ে যাবেন। তারা চাইলেও কোটা সীমার কারণে হজে যেতে পারবেন না। গতকাল বৃহস্পতিবার হজের নিবন্ধনের শেষ দিনে সরকারি-বেসরকারি হজযাত্রীর নিবন্ধনের হিসাবে এমন চিত্র দেখা গেছে। গতকাল রাত পর্যন্ত হজে যেতে নিবন্ধন করেছেন ৭৫ হাজার ৬০৭ জন। আগামী হজে বাংলাদেশের জন্য সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার ৫০০ জনের কোটা নির্ধারণ করেছে সৌদি সরকার। সেই হিসাবে কোটার চেয়েও অন্তত ২৫ হাজারের বেশি বেসরকারি প্রাক-নিবন্ধনকারী হজযাত্রী রয়েছেন।
ধর্ম মন্ত্রণালয় ও এজেন্সি মালিকদের সংগঠন হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) বলছে, কোটা পূরণ হওয়ার পর প্রাক-নিবন্ধন করা অন্তত ২৫ হাজার হজযাত্রী অতিরিক্ত থেকে যাবেন। তারা চাইলেও কোটার সীমাবদ্ধতার কারণে আগামী বছর হজে যেতে পারবেন না। তবে অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, নির্ধারিত সময় শেষে হলেও নিবন্ধনের অ্যাপস বাড়তি দুই-তিন দিন চালু থাকে। এ কারণে এবারও কোটা পূরণের পরও বাড়তি হজ নিবন্ধন হবে।
সরকার চাইছে, কোটা যাই থাকুক, অ্যাপস চালু থাকা পর্যন্ত নিবন্ধন করা সব হজযাত্রী যেন হজে যেতে পারেন, সেজন্য সৌদি সরকারের কাছে অনুরোধ করা হবে।
ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘অতীতে সৌদি সরকারের বেঁধে দেওয়া সময় শেষ হলেও নিবন্ধনের অ্যাপস দুই-তিন দিন খোলা থাকত। এবারও এ রকম হতে পারে। কোটার চেয়ে বেশিসংখ্যক হজযাত্রীর নিবন্ধন হলে আমরা সৌদি সরকারের কাছে কোটা বাড়িয়ে নিবন্ধন করাদের হজ পালনের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানাব।’
সৌদি সরকার ২০২৭ সালের হজের জন্য বাংলাদেশকে ৭৮ হাজার ৫০০ হজযাত্রীর কোটা দিয়েছে। এর মধ্যে বেসরকারিদের কোটা ৭২ হাজার ৫০০ জন। বাকি কোটা সরকারি। দেখা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯টা পর্যন্ত নিবন্ধন করেছেন সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ৭৫ হাজার ৬০৭ জন। এর মধ্যে বেসরকারি ৭০ হাজার ৬১৪ এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৯৯৩ জন।
বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রী সংগ্রহে এবার ২৮টি লিড এজেন্সির সর্বনিম্ন কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার করে। আর ৬৭৩টি সমন্বয়কারী এজেন্সির সর্বনিম্ন কোটা ৪৫ জন। তবে অনেক এজেন্সি কয়েক বছরেও একজন হজযাত্রীও নিবন্ধন করাতে পারেনি। এরপরও তালিকায় থাকা এসব এজেন্সিকে এবার নির্দিষ্টসংখ্যক হজযাত্রী নিবন্ধনের শর্তে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী, সমন্বয়কারী এজেন্সিগুলোকে কমপক্ষে ৪৫ জন হজযাত্রী নিবন্ধন করাতে হবে। কোনো এজেন্সি ৪৪ জনও নিবন্ধন করাতে না পারলে মন্ত্রণালয় নির্ধারিত শাস্তি মেনে নেওয়ার বিষয়ে চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। তবে লিড এজেন্সিগুলোর ক্ষেত্রেও চিত্র খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়।
হাব মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার গতকাল রাতে আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘এবার বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭২ হাজার ৫০০ কোটা পূরণ হয়ে আরও কয়েক হাজার হজযাত্রী বাড়তি থাকবেন। কোটার কারণে তারা চাইলেও আগামী বছর হজে যেতে পারবেন না। আমরা ধর্ম মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি জানিয়েছি। আশা করি, সরকার এ বিষয়ে সৌদি সরকারকে জানাবে।’



