যে দুই শর্ত ছাড়া ইবাদত কবুল হয় না

প্রতীকী ছবি
মানুষের জীবনের মূল উদ্দেশ্য আল্লাহর ইবাদত। কিন্তু শুধু বেশি বেশি ইবাদত করলেই তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না। কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে আলেমরা এ ব্যাপারে একমত যে, কোনো ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য দুটি মৌলিক শর্ত অপরিহার্য। এর একটি অনুপস্থিত থাকলে সেই ইবাদত আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না।
প্রথম শর্ত হলো আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠতা (ইখলাস)। অর্থাৎ ইবাদতের উদ্দেশ্য হবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। লোক-দেখানো, প্রশংসা লাভ, সামাজিক মর্যাদা বা অন্য কোনো পার্থিব স্বার্থ যদি ইবাদতের সঙ্গে মিশে যায়, তবে তার সওয়াব নষ্ট হয়ে যায়। মহান আল্লাহতাআলা বলেছেন,
وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ
‘তাদেরকে এ ছাড়া আর কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি যে, তারা একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে।’ (সুরা আল-বাইয়্যিনাহ, আয়াত : ৫)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ
‘সব কাজের ফলাফল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।’ (বুখারি, হাদিস : ১; মুসলিম, হাদিস : ১৯০৭)
দ্বিতীয় শর্ত হলো রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহর অনুসরণ (মুতাবাআহ)। অর্থাৎ যে ইবাদত আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.) যেভাবে শিখিয়েছেন, ঠিক সেভাবেই তা আদায় করতে হবে। নিজের ইচ্ছামতো নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করে ইবাদত করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। মহান আল্লাহতাআলা বলেছেন,
قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ
‘বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমার অনুসরণ করো। আল্লাহও তোমাদের ভালোবাসবেন।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ৩১)
রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন,
مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ
‘যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল, যার ব্যাপারে আমাদের নির্দেশনা নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৭১৮)
এ দুই শর্তের সারসংক্ষেপ তুলে ধরে শাইখ আবদুল আজিজ ইবন বায (রহ.) বলেছেন, ‘ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য দুটি শর্ত রয়েছে, এক. একমাত্র আল্লাহর জন্য ইখলাস; দুই. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনুসরণ।’ (মাজমুউ ফাতাওয়া ইবন বায)
অতএব, ইবাদতের পরিমাণ নয়, বরং তার বিশুদ্ধতাই আল্লাহর কাছে মুখ্য। তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত প্রতিটি ইবাদতের আগে নিজের নিয়ত শুদ্ধ করা এবং কোরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী তা আদায়ের চেষ্টা করা। তখনই আল্লাহর কাছে সেই ইবাদত কবুল হওয়ার আশা করা যায়।





