রিফাত রশিদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচার চালানোর জন্য বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সভাপতি রিফাত রশিদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত অন্যরা হলেন বৈছাআর সাবেক মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মঈনুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন এবং লিগ্যাল সেল সম্পাদক মাহফুজ।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র সিনথিয়া জাহিন আয়েশা।
সংবাদ সম্মেলনে সিনথিয়া জাহিন আয়েশা বলেছেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি কিংবা রাজনৈতিক দলের নয়; এটি সাধারণ জনগণের সংগঠন। এই সংগঠনকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রের অর্থ নিজেদের মতো ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই।’
তার ভাষ্য, ‘হ্যাঁ-এর পক্ষে দেশব্যাপী অনলাইনে প্রচারের আয়োজন করেছিল বৈছাআ। তখন আমি জানতে চেয়েছিলাম, এত বিপুল অর্থের জোগান আসবে কীভাবে। জবাবে বলা হয়েছিল, ব্যক্তিগত অর্থে এমনকি বাবার টাকায় চলবে এই প্রচার। কিন্তু পরে বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা হলেও এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি আমাকে।’ এ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে রাষ্ট্রীয়ভাবে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবহারের ওপর অডিট এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান সিনথিয়া।
সিনথিয়া বলেছেন, ‘সর্বশেষ ১২ এপ্রিল এক কেন্দ্রীয় বৈঠকে একটি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে কমপক্ষে ১ কোটি টাকা সংগ্রহের বিষয়টি স্বীকার করা হয়। তবে ওই অর্থ কোথা থেকে এসেছে এবং কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তার কোনো স্বচ্ছ তথ্য দেওয়া হয়নি বৈঠকে। এমনকি ওই বৈঠকে ব্যয়ের হিসাব উপস্থাপনের আগেই উপস্থিত সদস্যদের মোবাইল ফোন জব্দ করে নেওয়া হয়, যাতে কোনো তথ্য সংরক্ষণ করা না যায়।’
‘উপস্থাপিত হিসাব গোপন রাখায় তা অবিশ্বাস্য, অসংগঠিত ও গোজামিলপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে, পরিকল্পিত আর্থিক অনিয়ম ও সম্ভাব্য আত্মসাতের ইঙ্গিত বহন করে পুরো প্রক্রিয়াটি’, যোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ফান্ডের উৎস ও ব্যয়ের সঠিক তথ্য জানতে চিঠি দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে। সেখান থেকে তথ্য পাওয়ার পর তা উপস্থাপন করা হবে গণমাধ্যমের সামনে।



