জামায়াত আমির
উচ্ছেদ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়

কথা বলছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান
রাজধানীর মিরপুরে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের পর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিকল্প জায়গা দেওয়ার পাশাপাশি চাঁদাবাজি, দখলদারি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকালে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেছেন, ‘রাস্তা মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত ও পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। তবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকার কথাও বিবেচনায় নিতে হবে।’
শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘দেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন জায়গায় চাঁদা দিতে হয়। চাঁদাবাজি বন্ধের পাশাপাশি তাদের উপযুক্ত স্থানে ব্যবসার সুযোগ করে দিতে হবে, যাতে তারা জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন।’
এতে উভয়পক্ষেই আহত হয়েছেন। সরকারি যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনাও দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এসব যানবাহন কোনো ব্যক্তির সম্পত্তি নয়, জনগণের করের টাকায় পরিচালিত হয়। ফলে সরকারি সম্পদ নষ্ট হলে দেশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও ক্ষতি হয়।’
তিনি শুধু মিরপুর বা কাফরুল নয়, ‘সারা দেশে চাঁদাবাজি, দখলদারি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মাদক ও অন্যান্য অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, গ্রাম থেকে রাজধানীতে এসে জীবিকার তাগিদে অনেক মানুষ ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। তাদের অনেককেই বিভিন্ন পর্যায়ে চাঁদা দিতে হয়। এই পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে নির্ধারিত স্থানে তাদের ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।’
মিরপুর-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম, এই সমস্যার টেকসই ও সমন্বিত সমাধান করতে হবে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা করে দিতে হবে। সেখানে তারা ব্যবসা করবেন, সিটি করপোরেশন যৌক্তিক হারে ট্যাক্স পাবে; কিন্তু কোনো ধরনের চাঁদাবাজি চলবে না।’
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘প্রশাসন একা সব সমস্যা সমাধান করতে পারবে না, এ ক্ষেত্রে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। তবে প্রশাসনের উদ্যোগে অন্যায়ের পক্ষ নেওয়ার পরিবর্তে ন্যায়সংগত ও জনকল্যাণমূলক ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তিনি।
মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের শুরু থেকেই সম্পৃক্ত করা হলে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে উদ্যোগ নেওয়া হলে শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হতো।’
ভবিষ্যতে জনকল্যাণমূলক কোনো উদ্যোগ নেওয়ার আগে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করার আহ্বান জানান। সবশেষে সুষ্ঠু সমাধানের আশায় সবাইকে শান্ত থেকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।




