১৩ মাস পর বাড়ি ফিরলেন কারামুক্ত আইভী

সংগৃহীত ছবি
জামিনে মুক্তি পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। আজ বুধবার রাত ১০টা ১০ মিনিটে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় নারী কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।
আইভীর বিরুদ্ধে থাকা ১২টি মামলার জামিনসংক্রান্ত কাগজপত্র ও সর্বশেষ জামিননামা যাচাই-বাছাই শেষে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের জেলার শিরিন আক্তার মুক্তি।
এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন। তিনি আরও জানান, মুক্তির পর রাত ১২টা ৩০ মিনিটে নিজ বাসভবনে প্রবেশ করেন আইভি। এ সময় স্বজন ও সমর্থকরা ঘিরে ধরেন তাক। রাত পৌনে ১টার দিকে বাসার মূল ভবনে প্রবেশ করেন তিনি, সাক্ষাৎ করেন পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে।
পরে সাংবাদিকদের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার মানবিক সরকার গঠনের কথা বলেছে। তিনি বলেন, ‘আমি চাই সকলকে নিয়ে মানবিক সরকার গঠিত হোক। জেলে আমার মতো আরো অনেক মায়েরা আছেন, তারা নিরপরাধ। আশা করি, সরকার তাদের প্রতিও সদয় হবেন।’
আইভীর মুক্তির খবরে রাত থেকেই তার দেওভোগ এলাকার বাসভবন ‘চুনকা কুটির’ এর সামনে নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। মধ্যরাত পর্যন্ত সেখানে বিপুল সংখ্যক সমর্থকের উপস্থিতি দেখা যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও এলাকায় নেন সতর্ক অবস্থান।
এর আগে গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের নিজ বাসা থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ঘটনায় হত্যা ও হত্যাচেষ্টা এবং বিস্ফোরক আইনে ১২টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় তাকে।
গত ৩০ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জ থানার দুই মামলায় রুল দিয়ে আইভীকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট। এই জামিন স্থগিত চেয়ে পৃথক আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। ১৭ মে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন চেম্বার জজ আদালত হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে ‘নো অর্ডার’ দেন।
এর আগে গত ১০ মে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় হত্যাসহ পৃথক ১০ মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। ১২ মামলায় আইভীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখে আপিল বিভাগের দেওয়া আদেশ কারা কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছানোর পর যাচাই-বাছাই শেষে মুক্তি দেওয়া হয় তাকে।
প্রসঙ্গত, ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন আইভী। পরে নবগঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের টানা তিনটি নির্বাচনেও মেয়র পদে জয়ী হন তিনি।




