ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ ছাড়া গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে না : এলজিআরডি মন্ত্রী

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। ছবি: সংগৃহীত
তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব বিকেন্দ্রীকরণ ছাড়া দেশে কার্যকর ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেছেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। মানুষকে ছোটখাটো সেবা নিতে কিংবা প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে রাজধানীতে ছুটে আসতে হলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়। জনগণ যেন নিজ নিজ এলাকায় বসেই প্রয়োজনীয় সেবা পায়, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ানের গ্র্যান্ড বলরুমে ‘লোকাল গভর্নমেন্ট কোভিড-১৯ রেসপন্স অ্যান্ড রিকভারি প্রোজেক্ট (এলজিসিআরআরপি)’ আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বললেন, বাংলাদেশে যেকোনো উদ্যোগের সবচেয়ে কঠিন ধাপ হচ্ছে বাস্তবায়ন। এলজিসিআরআরপি প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়নে যারা কাজ করেছেন, বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীসহ সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানাতে হয়। এই প্রকল্পের সাফল্য ভবিষ্যতে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আরও কার্যকর নতুন প্রকল্প গ্রহণের পথ তৈরি করবে।
তিনি আরও যোগ করেন, কোনো প্রকল্প গ্রহণ ও শেষ করাই যথেষ্ট নয়; প্রকল্প বাস্তবায়ন থেকে শিক্ষা নিতে হবে এবং সেই শিক্ষা ভবিষ্যৎ উদ্যোগে কাজে লাগাতে হবে। প্রকল্প যাদের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে প্রকল্পটির মালিকানা তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলছিলেন, ঢাকামুখী মানুষের চাপ কমাতে হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও ক্ষমতাবান করতে হবে। মানুষ কেন রাজধানীতে আসে, সেই প্রশ্নের গভীরে গিয়ে সমস্যার সমাধান করতে হবে। জন্মনিবন্ধনের মতো সাধারণ সেবা পেতেও যদি প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে মন্ত্রণালয়ে আসতে হয়, তাহলে তা দেশের শাসনব্যবস্থার কাঠামোগত সমস্যারই বহিঃপ্রকাশ।
মঈন খান বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে যদি প্রয়োজনীয় ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব দেওয়া না হয়, তাহলে সব কাজের জন্য মানুষকে কেন্দ্রীয় সরকারের দ্বারস্থ হতে হবে। প্রকৃত বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করা গেলে মানুষকে প্রয়োজনীয় কাজের জন্য ঢাকায় আসতে হবে না।
তিনি বললেন, দেশের প্রতিটি অঞ্চলে মানুষকে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর পরিবেশে বসবাসের সুযোগ দিতে হবে এবং স্থানীয় পর্যায়েই তাদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে নাগরিক সেবা—সব ক্ষেত্রেই স্থানীয় পর্যায়ে সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
ড. মঈন খান জানান, স্থানীয় সরকার হচ্ছে গণতন্ত্রের মৌলিক ভিত্তি। গণতন্ত্র শুধু কেন্দ্রীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত হলে হবে না; এর ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে তৃণমূল পর্যায় থেকে। স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার মধ্য দিয়েই একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত্তি আরও মজবুত করা সম্ভব।
নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে নারীদের আরও বেশি সুযোগ দিতে হবে। সংরক্ষিত আসনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে নারীদের সাধারণ আসনেও পুরুষদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জনপ্রতিনিধি হিসেবে উঠে আসার সুযোগ তৈরি করতে হবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় সরকার, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং নারীর ক্ষমতায়ন—তিনটিই শক্তিশালী হবে।
তিনি আরও বললেন, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ উদ্যোগ আরও গতিশীল হবে এবং তৃণমূল থেকে গণতন্ত্রের ভিত্তি শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের প্রধান জেন পেসমি।




