ইউপি ভোট হচ্ছে না এ বছর, প্রতিমন্ত্রীর কথায় ইঙ্গিত

ছবি: আগামীর সময়
ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও জানতে পারেনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। তবে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের ধারণা, এই বছর শুরু হচ্ছে না এই নির্বাচন।
আজ বুধবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেছেন, ‘চূড়ান্ত কিছু এখনও তারা এখনো আমাদের জানায়নি। তারা কবে শুরু করবে, কবে শেষ করবে, তারা এখনো কিছু আমাদের জানায়নি।’
ফেব্রুয়ারিতে সংসদ নির্বাচনের পর এ বছরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের কথা জানিয়েছিল ইসি, যার শুরু হবে ইউপি নির্বাচন দিয়ে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ দিন-তারিখ জানিয়ে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, এবার ইউপি নির্বাচন হবে সাত ধাপে, ১২ নভেম্বর হবে শুরু।
এরপর সরকারের সঙ্গে ইসির টানাপড়েন দেখা দেয়। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম পরদিন বলেন, তারা এ বিষয়ে কিছু জানেন না।
পরে গত ১৭ সেপ্টেম্বর এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার পর সানাউল্লাহ বলেন, নভেম্বরে এই নির্বাচন শুরু করা যাবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাবে না। তবে আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে এই নির্বাচনগুলো শেষ করতে হবে।
সংবিধান অনুসারে সংসদ নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব ইসির। তবে সরকারের অনুরোধে স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন ইসি আয়োজন করে দিয়ে থাকে।
টানাপড়েনের কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় সাংবাদিকরা আজ সংবাদ সম্মেলনে ভোটের দিন তারিখ জানতে চেয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রীর কাছে।
উত্তরে তিনি বলেন, ‘এটা নির্বাচন কমিশনকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কারণ নির্বাচন তো তারা পরিচালনা করবে।’
‘আমার তো মনে হচ্ছে না যে এ বছর হবে। উনারা (ইসি) ৬ জুন শেষ সময় দিয়েছে, আমার মনে হয়, আগামী বছর থেকে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে মনে হয়,’ যোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে সরকার কী ভাবছে- জানতে চাইলে শাহে আলম বলেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বরের সভায় সচিবরা এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন। এ মাস আবার ইসির সঙ্গে সচিবরা বৈঠক করবেন।
‘সরকারের চাওয়া, এই অর্থ বছরের মধ্যে শেষ হবে। কবে শুরু হবে, তা উনারাাই (ইসি) ঠিক করবে। আমি বলে তাদের বিব্রত করতে চাই না,’ বলেন প্রতিমন্ত্রী।
ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য চলতি অর্থ বছরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় অর্থ বরাদ্দ রেখেছে।
ব্যয় নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তারা (ইসি) একটি হিসাব দিয়েছে, ৬ হাজার কোটি টাকার মতো লাগবে। আমরা এই পরিমাণ অর্থ যাতে দিতে পারি, সেই ব্যবস্থা রাখা আছে।’
তিনি জানান, ইউপি নির্বাচনের জন্য ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য ২ হাজার ২০০ কোটি টাকার মতো ব্যয় হতে পারে। পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ব্যয় তুলনামূলক কম হবে।




