রোটনের জানাজার খবরে ধানমণ্ডির তাকওয়া মসজিদে গিয়ে আটক ৪

ঢাকার ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের জানাজার খবর শুনে সেখানে যাওয়া চারজনকে আজ রবিবার বিকালে আটক করে পুলিশ। ছবি: ভিডিও থেকে
নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের জানাজা হবে ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে- এই খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছেন কয়েকজন। পুলিশ আবার হামলার শিকার চারজনকেই আটক করেছে।
দুই বছর আগে জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দলটির অন্য অনেকের মতো রোটনও পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন ভারতে। সেখানে অসুস্থ হওয়ার পর কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার মারা যান তিনি।
রবিবার তার মরদেহ বেনাপোল সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশে আসে। নিজের এলাকা চট্টগ্রামে নেওয়ার পথে ঢাকার ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে তার জানাজা হবে, এমন একটি খবর প্রচার করা হয়েছিল।
তা শুনে বিকালে ওই মসজিদের সামনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ, কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকা আওয়ামী লীগের একদল সমর্থক জড়ো হয়েছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, জানাজায় অংশ নিতে আসা ব্যক্তিদের ওপর আবার একদল হামলা চালায়। হামলার শিকারদের মধ্য থেকে চারজনকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ।
জানাজায় অংশ নিতে যাওয়া মানিক নামের একজন বলেছেন, জানাজায় অংশ নিতে আসা ব্যক্তিদের মারধর করেছে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা।
তবে সেখানে জানাজা হয়নি। নামাজের প্রস্তুতি থাকলেও পুলিশ মরদেহ ধানমন্ডি এলাকায় ঢুকতে না দেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানাজায় অংশ নিতে আসা্ একজন বলেন, মরদেহবাহী গাড়ি পৌনে ৪টার দিকে সাইন্সল্যাব মোড়ে এলে পুলিশ ধানমন্ডির দিকে যেতে বাধা দেয়। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর পুলিশ দ্রুত নিয়ে যেতে বললেও পরে সিদ্ধান্ত বদলে চট্টগ্রামের পথে রওনা হয় গাড়ি।
ধানমন্ডি থানার ওসি ইমদাদুল ইসলাম বলেছেন, তাকওয়া মসজিদের পেছনে মিছিল করার সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
তবে পুলিশ মরদেহ আসতে বাধা দেয়নি বলে দাবি করেন ওসি। তিনি বলেন, ‘যারা রোটনের মরদেহ নিয়ে আসছিলেন, তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে যে ধানমন্ডিতে এসে যেন জানাজা পড়িয়ে যায়। কিন্তু তারা রাজি না হয়ে বলেছে, চট্টগ্রামে যেতে দেরি হয়ে যাবে। এজন্য তারা ওদিক দিয়ে চলে গেছে।’
রোটন ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদে ছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৪৮ বছর।



