পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর যাওয়া এখনও চূড়ান্ত নয়

হুমায়ূন কবীর
ভারতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
আজ মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত যাচ্ছেন কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘না, এখনও কোনো তারিখ নির্ধারণ হয়নি।’
আগামী ১২ ও ১৩ ফেব্রুয়ারি ভারতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ব্রিকস জোটের সম্মেলন। এই সম্মেলনে অংশ নিতে বিমসটেক চেয়ারম্যান হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তারেক রহমানকে। পাশাপাশি তাকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছে দিল্লি।
প্রধানমন্ত্রী কবে ভারত সফর করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘একটি উপযুক্ত সময়ে অবশ্যই সফরটি হবে। পারস্পরিক সম্মান ও জাতীয় স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে এবং উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর সময় ও উপস্থিতির ওপর নির্ভর করে আমরা একটি তারিখ ঠিক করব।’
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের কোনো সম্ভাবনা আছে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘না, আমরা এখনও কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক করিনি।
‘দেখা যাক, একটি উপযুক্ত সময় বা পরিবেশ তৈরি হলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই ভারত সফর করবেন। তবে আমরা এখনও কোনো তারিখ নির্ধারণ করিনি।’
দুই দেশের মধ্যে আগে যে আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছিল, তা নতুন করে সচল হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘কোনো তারিখ না ঠিক করা মানেই তো আর আলোচনা থমকে যাওয়া নয়। আমরা কোনো তারিখ নির্ধারণ করিনি ঠিকই, তবে আমাদের আলাপ-আলোচনা চলছে।’
‘আলাপ-আলোচনার সময়ে ৫ আগস্টের মতো একটি ঘটনা ঘটে, যা বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছিল। আপনারা সবাই জানেন, আমরা সেই বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছি। এখন আবারও আমাদের আলোচনা চলছে,’ যোগ করেন তিনি।
বোয়িং কেনার সিদ্ধান্ত
যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং বিমান কেনা নিয়ে দেশটির দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গরের করা টুইট সম্পর্কে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখা হচ্ছে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে আমাদের একটি অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক রয়েছে। আবার বেইজিংয়ের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক রয়েছে। আমরা আমাদের বৈদেশিক সম্পর্কে একটি চমৎকার ভারসাম্য বজায় রাখছি।
‘যেসব দেশের সঙ্গে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রয়েছে, তার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। আমরা তাদের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধি করব।’
বাংলাদেশ এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কিনতে চুক্তি করেছে। এর বাইরে আরো উড়োজাহাজও বাংলাদেশ কিনতে যাচ্ছে বলে গর দুদিন আগে দাবি করেন।
বাংলাদেশের বিমান বহর সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলছেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে এশিয়ায় একটি এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হতে হলে আমাদের আরও বেশি রুটে সেবা দিতে হবে। আর সেজন্য আমাদের একটি বড় এয়ারক্রাফট ফ্লিট প্রয়োজন।’
ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘তাদের বহরে ১৫০টিরও বেশি এয়ারক্রাফট রয়েছে। অথচ আমাদের আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে ৭০ থেকে ৮০টি বা তারও বেশি উড়োজাহাজের চাহিদা রয়েছে।’
বোয়িং নাকি এয়ারবাস—কোন ধরনের উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমরা বোয়িং বিমান কিনব।’
এই সিদ্ধান্ত কোনো চাপের কারণে নেওয়া হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না, কোনো চাপের কারণে নয়। এটি আমাদের এভিয়েশন খাতের চাহিদা অনুযায়ী করা হচ্ছে। বাংলাদেশে আমাদের প্রয়োজনীয় এয়ারক্রাফট ফ্লিট নেই। আমাদের ফ্লিট সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তা না হলে আমরা নতুন রুট চালু করতে পারব না এবং ব্যবসা হারাব।’
দীর্ঘমেয়াদে উড়োজাহাজ কেনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এভিয়েশন হাব হিসেবে রাজস্ব ও যাত্রী সংখ্যা বাড়াতে হলে দীর্ঘমেয়াদে আমাদের এয়ারক্রাফট কিনতেই হবে। আমরা আমাদের প্রয়োজন ও কেনার সক্ষমতা অনুযায়ী কেনাকাটা চালিয়ে যাব।’
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমাদের এভিয়েশন খাতের চাহিদা পূরণ করতে হবে, যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে হবে এবং বাংলাদেশকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও তার বাইরের রুটগুলোর একটি এভিয়েশন হাব হিসেবে তৈরি করতে হবে।’








