তৃণমূল নেতারাই বাছাই করবেন স্থানীয় নির্বাচনের প্রার্থী

রংপুর বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনপ্রিয়তাকে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রধান মাপকাঠি করার নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দলীয় প্রতীক না থাকলেও স্থানীয়ভাবে ঐকমত্যের ভিত্তিতে একক প্রার্থী নির্ধারণ করতে হবে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী বাছাইয়ের দায়িত্ব থাকবে থানা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের ওপর। জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ভালো ফল করতে চায় বিএনপি।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রংপুর বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। প্রথম পর্বে নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাট জেলার নেতাদের সঙ্গে এবং পরে রংপুর জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
বৈঠকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক, আমিনুল ইসলামসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন সাংগঠনিক দিকনির্দেশনা দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, যোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থী নির্বাচনই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী বাছাই করবেন থানা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা। সেখানে মতবিরোধ দেখা দিলে প্রথমে জেলা, পরে বিভাগীয় নেতারা তা সমাধানের চেষ্টা করবেন। এরপরও সমাধান না হলে কেন্দ্র থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বৈঠকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অভিজ্ঞতার কথাও উঠে আসে। অর্ধশতাধিক আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার কারণে তৃণমূলে যে বিভক্তি ও কোন্দল সৃষ্টি হয়েছিল, তা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করেন, দলীয় প্রতীক না থাকলেও স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে সম্মিলিতভাবে এবং সবাইকে একক প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে হবে।
বৈঠকে তৃণমূলের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়। দ্রুত কমিটি গঠনের নামে যাতে বিতর্কিত ব্যক্তি বা অন্য দলের অনুপ্রবেশকারীরা স্থান না পান, সে বিষয়ে দায়িত্বশীল নেতাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সক্রিয়, ত্যাগী ও তুলনামূলক তরুণ নেতাদের নেতৃত্বে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন দলের চেয়ারম্যান।
বৈঠকে উপস্থিত একজন নেতা আগামীর সময়কে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভালো ফল নিশ্চিত করতে আপাতত সাংগঠনিক কার্যক্রম ধীরগতিতে পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নতুন করে কোনো কোন্দল সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিএনপির রংপুর বিভাগের একজন নেতা বলেন, এটি মূলত একটি সাংগঠনিক মতবিনিময় সভা। মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি দলীয়ভাবে অংশ নেবে না এবং দলীয় কোনো প্রতীকও থাকবে না। তবে স্থানীয়ভাবে নেতারা যদি ঐকমত্যের ভিত্তিতে একক প্রার্থী নির্ধারণ করতে পারেন, দলগতভাবে তাকেই সমর্থন দেওয়া হবে।
গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মঈনুল হাসান সাদিক বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে স্থানীয় পর্যায়ের সব কোন্দল ও ভেদাভেদ দূর করার নির্দেশনা দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনি মাঠে কাজ করার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, এটি ধারাবাহিক সাংগঠনিক বৈঠকের অংশ। তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতেই দলের চেয়ারম্যান এ মতবিনিময় সভাগুলো করছেন। তার ভাষ্য, সভায় তারেক রহমান তৃণমূলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।
এর আগে ১৮ জুলাই রংপুর বিভাগের দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তারেক রহমান। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিভাগের নেতাদের সঙ্গেও তার বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।





