পুনরুজ্জীবন নয়, র্যাব বিলুপ্ত চায় জেএসডি

সংগৃহীত ছবি
র্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের নামে মূলত র্যাবকেই নতুন নামে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন। তিনি বলেন, এ ধরনের নাম পরিবর্তনের সংস্কার মেনে নেওয়া যায় না।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সিরাজুল আলম খান সেন্টারে জেএসডি ও সহযোগী সংগঠনের যৌথ সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
স্বপন বলেন, র্যাবের বিরুদ্ধে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে গুরুতর অভিযোগ ও অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে, সেই বাহিনীর জনবল, সম্পদ, ক্ষমতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা যদি নতুন নামে এসআরবির মধ্যে বহাল থাকে, তাহলে এটি কোনো প্রকৃত সংস্কার নয়। এটি পুরোনো ক্ষমতার কাঠামোর পুনরুজ্জীবন।
তিনি আরও বলেন, র্যাবের নাম বদলানো নয়, র্যাবের ক্ষমতার সংস্কৃতি বিলুপ্ত করতে হবে। রাষ্ট্রের কোনো আইন প্রয়োগকারী বাহিনীই আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না। বিশেষ করে এসআরবির নিজস্ব হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষের বিধান আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে। আয়নাঘর, গোপন আটক ও বন্দিশালার যে দুঃস্বপ্ন থেকে জনগণ মুক্তি চেয়েছে, নতুন নামে সেই সক্ষমতা পুনর্গঠন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে দলের সিনিয়র সহসভাপতি তানিয়া রব বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাস্তবতায় রাষ্ট্র রূপান্তরের লক্ষ্যে অংশীদারত্বের গণতন্ত্রকে সংস্কারের মৌলিক ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করে জেএসডি তার আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত রাখবে। রাষ্ট্রের বলপ্রয়োগের ক্ষমতা হবে জনগণের অধিকার ও আইনের শাসনের অধীন। কোনো বাহিনী বা প্রতিষ্ঠান জনগণের ঊর্ধ্বে থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, নতুন নামে পুরোনো ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস নয়, জনগণের সার্বভৌমত্ব, মানবিক মর্যাদা ও জবাবদিহিভিত্তিক নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই হবে গণঅভ্যুত্থানের রাজনৈতিক অঙ্গীকার।
সভায় আরও বক্তব্য দেন জেএসডির সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ সিরাজ মিয়া, মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন, অ্যাডভোকেট কে এম জাবির, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাইনুর রহমান, অ্যাডভোকেট সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ সিরাজ খান মিন্টু, জাতীয় যুব পরিষদের সভাপতি এস এম সামছুল আলম নিক্সন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক জোটের সাধারণ সম্পাদক মোশারেফ হোসেন মন্টুসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।






