মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে সরকার: রিজভী

ফাইল ছবি
বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে সরকার বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
আজ সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমানের ১৭তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে রিজভী বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ড ও হেলথ কার্ড চালুসহ খাল খননের মতো বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে সরকার।
সাইফুর রহমানের মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রিজভী। বললেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা একজন অর্থনীতিবিদের মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন থাকা স্বাভাবিক। তার মৃত্যু নিছক দুর্ঘটনা ছিল, নাকি এর পেছনে কোনো জাতীয় বা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ছিল— তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
‘সাইফুর রহমান ছিলেন জাতির সম্পদ এবং বিএনপির গৌরব। তার অর্জন দেশে-বিদেশে স্বীকৃত। তার মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন’— উল্লেখ করেন রিজভী।
সাবেক অর্থমন্ত্রীর অর্থনৈতিক সংস্কারের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেছেন, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) চালুর সময় ব্যাপক সমালোচনা হলেও পরবর্তী সময়ে কোনো সরকার তা বাতিল করেনি। বরং দেশের অর্থনীতিতে ভ্যাট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
তিনি বলেছেন, সাইফুর রহমানের সময়ে দেশের অর্থনীতি ছিল সুশৃঙ্খল। সে সময় ব্যাংক লুট, ব্যাপক অর্থপাচার কিংবা ব্যাংক থেকে সরকারের ঘাটতি বাজেট পূরণের মতো ঘটনা শোনা যায়নি। তার নীতি ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও শক্ত অবস্থানে ছিল।
রিজভী বলেছেন, ‘সাইফুর রহমান এমন একজন অর্থনীতির ব্যবস্থাপক ছিলেন, যিনি টাকা পাচার বন্ধ করেছিলেন। ব্যাংক লুট করে টাকা নিয়ে যাওয়ার যে লুটপাটতন্ত্র আমরা বিগত ১৭ বছর দেখেছি, তার সময়ে এসব শুনিনি।’
কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে সাইফুর রহমানের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, উত্তরাঞ্চলের মৌসুমি অভাব বা ‘মঙ্গা’ মোকাবিলায় তিনি বিকল্প কর্মসংস্থান ও কৃষির বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, মসলাজাতীয় পণ্যের আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও তিনি ভূমিকা রেখেছিলেন।
রিজভী বলেছেন, সাইফুর রহমান শুধু বাংলাদেশের অর্থনীতিতেই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সম্মানিত ছিলেন। বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা বাংলাদেশের জন্য গৌরবের বিষয়।
তিনি আরও বললেন, বিএনপির জন্য সাইফুর রহমান ছিলেন গৌরবের প্রতীক। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হিসেবে তিনি তার মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে দেশের অর্থনীতিকে একটি মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে ভূমিকা রেখেছেন।
সাইফুর রহমানের সামাজিক নিরাপত্তা ভাবনার কথাও তুলে ধরেন রিজভী। তিনি বলেছেন, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য একটি সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর ধারণা তিনি সামনে এনেছিলেন।
ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং মরহুম এম সাইফুর রহমানের ছোট ছেলে এম. নাসের রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সরকারি তিতুমীর কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি এ জি এম শামসুল হক, জাসাস সভাপতি হেলাল খান প্রমুখ।





