সামান্তার পদত্যাগে মাহফুজ ও জারা কে কী বললেন

ডা. তাসনিম জারা, সামান্তা শারমিন ও মাহফুজ আলম। (বাঁ থেকে)
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিনের পদত্যাগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দলটির সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা এবং সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলমসহ বেশ কয়েকজন।
সামান্তার আগে তাসনিম জারাও এনসিপির থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। পদত্যাগের আগে তিনি দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ছিলেন। সামান্তার মতো তিনিও দলটির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সংশ্লিষ্টতা মেনে নিতে না পেরে পদত্যাগ করেছিলেন।
অন্যদিকে মাহফুজও একসময় নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদের সঙ্গে এনসিপির আগের সংগঠন জাতীয় নাগরিক কমিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে সেখান থেকে বেরিয়ে যান তিনি।
এরপর নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম অল্টারনেটিভস গঠন করেন মাহফুজ। এনসিপির সঙ্গে জামায়াতের জোটের বিষয়টি তিনিও ভালোভাবে নেননি।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে এনসিপি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন সামান্তা শারমিন। পদত্যাগের কারণ হিসেবে তিনি দলের ভেতরে গণতান্ত্রিক চর্চার অভাব, কাউন্সিল ছাড়াই পুনরায় আহ্বায়ক কমিটি গঠন এবং ভিন্নমত দমনের প্রবণতার কথা উল্লেখ করেছেন।
সামান্তা শারমিনকে খুব কাছ থেকে দেখার কথা উল্লেখ করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন এনসিপির সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা।
তিনি লিখেছেন, রাজনীতিতে কথা বলতে আসা মানুষের অভাব নেই। কিন্তু অন্যের কথা শুনতে আসা মানুষ খুব কম। সামান্তা শারমিন সেই অল্প কয়েকজনের একজন।
জারার ভাষ্য, সামান্তা অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। কিন্তু কেউ কথা বলতে এলে তিনি থামেন এবং পুরোটা মন দিয়ে শোনেন। নিজের ব্যস্ততার কথা মানুষকে বুঝতেও দেন না।
সামান্তা মানুষের জীবনের কথা জানতে তাদের কাছে যান এবং পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন বলেও উল্লেখ করেন তাসনিম জারা।
অন্যদিকে সামান্তার পদত্যাগের পর তাকে নিয়ে ফেসবুকে শুরু হয় বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক প্রচারণা। বিষয়টি ভালোভাবে নেননি অল্টারনেটিভসের সংগঠক মাহফুজ আলম।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ছয় সদস্যের বৈষম্যবিরোধী লিয়াজোঁ কমিটি থেকে চার শতাধিক সদস্যের জাতীয় নাগরিক কমিটিতে উত্তরণ ও এর বিস্তারে যাদের মুখ্য ভূমিকা ছিল, তাদের নিয়ে অপপ্রচার একটি বাজে নজির।
মাহফুজ আলমের ভাষ্য, দল গঠনের শুরু থেকেই এমন নজির তৈরি হয়েছিল। গতকালও সামান্তা শারমিনকে নিয়ে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, লিয়াজোঁ কমিটি ও নাগরিক কমিটিতে মুখ্য ভূমিকা রাখা ব্যক্তিরা না থাকলে এত দ্রুত একটি দল গঠন করা সম্ভব হতো না। যারা দলের ভিত গড়ে দিয়ে জোটের কারণে সরে গেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকার আহ্বান জানান এই সংগঠক।
আর তাসনিম জারার ভাষ্য, ‘সামান্তার রাজনৈতিক পথচলা এখনো অনেক বাকি। এমন মানুষের জায়গা দেশের রাজনীতিতে আরও বড় হওয়া প্রয়োজন।’
সামান্তার পদত্যাগ নিয়ে তার সাবেক রাজনৈতিক সহযোগীরা প্রতিক্রিয়া জানালেও এনসিপির সিনিয়র দায়িত্বশীল কারো কোনো প্রতিক্রিয়া এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি।
দলটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আশরেফা খাতুন ফেসবুকে লিখেছেন, সামান্তা একসময় তাকে বলেছিলেন, পদত্যাগ কোনো সমাধান নয়। তিনি এখনো তার সেই কথায় বিশ্বাস করেন।
তিনি লিখেছেন, ‘পার্টিম্যান’ হওয়া সামান্তার কাছ থেকেই শিখেছেন এবং অপেক্ষা করবেন।
এদিকে, এনসিপির বর্তমান আদর্শ ও কার্যক্রমের সঙ্গে অভ্যুত্থানপন্থী এবং নতুন ধারার রাজনীতিতে আগ্রহী তরুণদের আকাঙ্ক্ষার সমন্বয়ের সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন তৎকালীন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আব্দুল কাদের।
অভ্যুত্থানের পর অনেকেই দেশের জন্য কাজ করতে নিজেদের সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ার ছেড়ে দেশ-বিদেশ থেকে এসেছিলেন বলে ফেসুবক পোস্টে তিনি লিখেছেন। তবে তাদের কাজের সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং হতাশ হয়ে অনেককে ফিরে যেতে হয়েছে বলে ফেসবুক পোস্টে কাদের উল্লেখ করেছেন।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে কাদের বর্তমান এনসিপির শীর্ষ নেতা নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদদের সঙ্গে কাজ করেছিলেন।
কাদের সামান্তার পদত্যাগে দলটির শীর্ষ নেতাদের ইঙ্গিত করে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘মুষ্টিমেয় কিছু লোক বুঝে হোক আর না বুঝে হোক মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষাকে খুব বাজেভাবে ধূলিসাৎ করেছেন। রাজনীতিতে আগ্রহী হওয়া তরুণদেরকে প্রতারিত করেছেন। প্রতারিত তারুণরা রাজনীতি বিমুখ হওয়াতে দেশের জন্য যে কতবড় ক্ষতি হয়েছে তার কোনো ইয়াত্তা নাই।’
এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফেসবুকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। দলের অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক চর্চা না থাকা, কাউন্সিল ছাড়াই পুনরায় আহ্বায়ক কমিটি পুনর্গঠন এবং বিরোধী মত দমনের প্রবণতাকে পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।



