সাইফুল হক
ঘাটতি বাজেটের বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের কাঁধেই পড়বে

ছবি: আগামীর সময়
বিএনপি সরকারের কথিত অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেটে দেশের প্রধান উৎপাদক শ্রেণি শ্রমিক ও কৃষকদের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো উদ্যোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেছেন, ‘সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন স্কেল ঘোষণার আলোচনা থাকলেও শ্রমিকদের জন্য জাতীয় ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের কোনো খবর নেই। একই সঙ্গে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার বিষয়টিও উপেক্ষিত রয়েছে। ফলে ঘাটতি বাজেটের বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের কাঁধেই গিয়ে পড়বে।’
আজ রবিবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন।
সমাবেশে সাইফুল হক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিকে জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তাবিরোধী আখ্যা দেন। তিনি দাবি করেন, এ চুক্তি বাংলাদেশের ওপর একধরনের আদেশনামা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তার ভাষ্য, চুক্তিটি বহাল থাকলে বাংলাদেশ অন্য দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সহযোগিতা ও স্বাধীনভাবে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়তে পারে। তিনি সংসদের চলতি অধিবেশনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বন্ধুত্বের বার্তাকে স্বাগত জানিয়ে সাইফুল হক বলেছেন, ‘এ বার্তা আন্তরিক হলে ভারতকে অবিলম্বে সীমান্তে বিএসএফের পুশইন ও হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হবে।’
তিনি অভিযোগ করেন, ভারত এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রতি একজন সৎ প্রতিবেশীর ভূমিকা পালন করতে পারেনি। সমতা, ন্যায্যতা ও পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে দুই দেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানে এগিয়ে আসার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপি সরকারের চার মাসের কার্যক্রম মূল্যায়ন করে সাইফুল হক বলেছেন, ‘সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সরকার কিছুটা অগ্রগতি দেখাতে পারলেও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সে ধরনের অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও বহুত্ববাদী ধারায় দেশকে এগিয়ে নেওয়ার যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তা কোনোভাবেই নষ্ট করা যাবে না।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি সরকারের ইতিবাচক কাজের প্রশংসা করবে, তবে দেশ ও জনস্বার্থবিরোধী যেকোনো পদক্ষেপের বিরোধিতা করবে।
সমাবেশে দলের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী বলেছেন, জনপ্রত্যাশা পূরণে বিএনপি সরকারকে প্রয়োজনীয় ঝুঁকি নিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচিত সরকারের আমলেও মানুষের জান-মাল ও জীবিকা এখনো পুরোপুরি নিরাপদ নয়। নারী ও শিশুরা এখনো নির্যাতন, নিপীড়ন, হত্যা ও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
সাইফুল হকের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় নেতা আকবর খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন দলের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আবু হাসান টিপু, মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক, মাহমুদ হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য স্নিগ্ধা সুলতানা ইভা, সাইফুল ইসলাম, অরবিন্দু বেপারী বিন্দু, রেজাউল আলম, কেন্দ্রীয় সংগঠক জামাল সিকদার, বাবর চৌধুরী প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে দেশের সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা দোয়েল চত্বর, হাইকোর্ট, তোপখানা রোড ও বিজয়নগর প্রদক্ষিণ করে সেগুনবাগিচায় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন নেতাকর্মীরা।


