২৫ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগে কার কী ব্যাখ্যা হাসনাত-আসিফের

হাসনাত আবদুল্লাহ, মো. মোস্তাক মিয়া ও আসিফ মাহমুদ (বাঁ থেকে)। ছবি : সংগৃহীত
কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং সংগঠনটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে মোট ২৫ কোটি টাকা নেওয়ার যে অভিযোগ তুলেছেন, সে বিষয়ে দুজনে পৃথক পৃথক ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
গতকাল শনিবার রাতে আসিফ মাহমুদ ও হাসনাত আবদুল্লাহ— উভয়ই নিজেদের ব্যাখ্যায় বলেছেন, মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে এসব টাকা বিভিন্ন উপজেলার ন্যায় দুই উপজেলায় (মুরাদনগর ও দেবিদ্বার) বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয় করা হয়। এসব টাকা জেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব তহবিলের নয়।
হাসনাত কুমিল্লা–৪ আসনের (দেবিদ্বার) সংসদ সদস্য। অপরদিকে প্রশাসক মোস্তাক মিয়া কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংঠনিক সম্পাদকের পদেও আছেন।
ওইদিন দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে মোস্তাক মিয়া বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেছেন, ‘আমার জেলা পরিষদ থেকে মুরাদনগরের আসিফ মাহমুদ আমাদের নিজস্ব রাজস্বের টাকা ১৫ কোটি টাকা নিয়ে গেছেন। আরেকজন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি নিয়ে গেছেন ১০ কোটি টাকা। এটা হলো সমন্বয়ের অবস্থা। তারা চেয়েছিলেন যে বাংলাদেশে বৈষম্যবিরোধী একটা সমন্বয়ের রাজনীতি, কিন্তু তাদের মধ্যে সেটা ছিল না।’
জুলাই আন্দোলনে সামনের সারির দুই নেতার বিরুদ্ধে জেলা পরিষদ প্রশাসকের এমন বক্তব্যের ৫১ সেকেন্ডের বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তার নিজের ফেসবুক পেজে লাইভে এসে বলেছেন, ওনাকে (প্রশাসক) কে বসিয়েছে এই পদে? কোন অর্থ এডিপি আর কোনটি রাজস্ব, এটা জানতে হবে। আমি মন্ত্রণালয় থেকে সব উপজেলায় বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছি। কুমিল্লা জেলা পরিষদের মাধ্যমে মুরাদনগর ও দেবিদ্বারেও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব টাকা বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বিধিমোতাবেক ব্যয় করা হয়েছে। যার নথি জেলা পরিষদে আছে।
আসিফের পাল্টা দাবি, ‘কুমিল্লার প্রশাসক প্রথমত একেবারেই কাঁচা একটা মিথ্যা কথা বলেছেন। সেটি হচ্ছে রাজস্ব খাত। রাজস্ব খাত থেকে কারও এলাকায় কোনো ধরনের বরাদ্দ নিয়ে যাওয়ার কারও কোনো সুযোগ নেই। রাজস্ব খাতের বাজেট বছরের শুরুতেই জেলা পরিষদ ঠিক করে যে তারা কোথায় কতটুকু খরচ করবে। এটা মূলত এডিপির বিশেষ বরাদ্দ। তো উনি এটাকে রাজস্ব খাতের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেছেন।’
অপর দিকে হাসনাত আবদুল্লাহ তার নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, এই বরাদ্দ স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দেওয়া বিশেষ বরাদ্দ, যেটা জেলা পরিষদের মাধ্যমে ব্যয় হয়েছে। দেবিদ্বারে ১০ কোটি টাকা নয়, ৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। যেটা এডিপি প্রকল্পের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের রাজস্বের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নাই।
‘প্রশাসক রাজস্ব খাত আর বিশেষ বরাদ্দ সম্পর্কে জ্ঞান থাকলে এ কথা বলতেন না। আর উনি এমনভাবে বলেছেন মনে হচ্ছে টাকা আমরা নিজেরা পকেটে নিয়ে গেছি। অথচ দেবিদ্বারের বিভিন্ন কাজে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে’, যোগ করেন হাসনাত।
এ প্রসঙ্গে দুজনের কথোপকথনের অডিও রেকর্ড ও অর্থের খাতভিত্তিক ব্যয়ের বিবরণ পোস্ট ও কমেন্টে সংযুক্ত করে দেন হাসনাত আবদুল্লাহ। এ বিষয়ে তার ভাষ্য, ‘রাজস্ব বরাদ্দ ও এডিপি বরাদ্দের পার্থক্য না বুঝে একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিলেন। আর এ দেশে মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করা খুবই সহজ।’







