আরও কাছে আসবে ঢাকা-বেইজিং, আশা রিজভীর
- মুদি দোকান ভ্যাটের আওতায় আনা ঠিক হবে না

রুহুল কবির রিজভী- সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। একই সঙ্গে মুদির দোকানকে ভ্যাটের আওতায় আনা উচিত হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেছেন।
রিজভী উল্লেখ করেন, শিল্প, অবকাঠামো ও সেবা খাতে চীনের বড় ধরনের বিনিয়োগ রয়েছে এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলারের মতো। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি যোগ করেন, চীনে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনে বিশ্বনেতারা যে বক্তব্য দিয়েছেন— সেখানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিজ্ঞতা ও উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় তার বক্তব্য এবং এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন বিশ্বনেতারা।
‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের ওপর কর-সুবিধা প্রদান জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বড় উদ্যোগ। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ২০ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ থেকে পাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী’, যোগ করলেন রিজভী।
চীন সম্পর্কে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বললেন, চীন এমন একটি দেশ, যারা অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে না।
বাংলােদশের পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রিজভীর ভাষ্য, অতীতের একমুখী পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তে এখন বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতির সূচনা করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই ধারাই অনুসরণ করছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অটুট রেখে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নের যে নীতি গ্রহণ করা হয়েছে, বর্তমান কূটনৈতিক কার্যক্রমে তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক বিষয় নিয়েও কথা বলেছেন রিজভী। তিনি জানান, এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে যাতে সাধারণ, গরিব ও নিম্ন আয়ের মানুষের ভরণপোষণ নিশ্চিত হয়।
মুদির দোকানকে ভ্যাটের আওতায় আনার বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেছেন, ছোট ছোট মুদির দোকানের আয় খুবই সীমিত। তাই তাদের ভ্যাটের আওতায় আনা উচিত হবে না। তবে যারা কর দেওয়ার সক্ষমতা রাখেন, কিন্তু বিভিন্ন কারণে করের বাইরে থেকে যাচ্ছেন, তাদের করের আওতায় আনার পক্ষে মত দেন তিনি।
বর্তমান সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার এমনটা জানিয়ে রিজভী বলেছেন, জনগণের সুখ-দুঃখ ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়েই সরকার পরিচালিত হবে। তার দাবি, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে জনগণের বড় ধরনের ক্ষতি হয়— এমন কোনো নীতি কখনো গ্রহণ করেনি।
রিজভীর ভাষ্য, নানা ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের পরও বিএনপিকে ধ্বংস করা যায়নি এবং দলের জনপ্রিয়তায়ও ধস নামানো সম্ভব হয়নি।






