বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক শনিবার, আলোচনায় রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দলের নীতিনির্ধারকদের বৈঠক ডেকেছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। আগামী শনিবার এই বৈঠকে হতে পারে রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন নিয়ে আলোচনা। রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে হবে এই বৈঠক। বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এতে সভাপতিত্ব করবেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর উত্তরসূরি কে হবেন, দল ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সেই আলোচনার মধ্যে স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডাকল বিএনপি।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। আগামীর সময়কে তিনি বলেছেন, ‘শনিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক। বিষয়টি কমিটির সদস্যদের জানানো হয়েছে।’
গত ২৪ জুলাই মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর সংবিধানের বিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়। জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।
বৈঠকের আলোচ্যসূচি সম্পর্কে বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুজন সদস্য বলেছেন, এদিন রাষ্ট্রপতি নিয়ে ‘সিদ্ধান্তে’ আসতে পারে বিএনপি।
সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। দলটির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্যের সঙ্গে আলাপকালে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে উঠে এসেছে বেশ কয়েকজনের নাম। এ তালিকায় আছেন— ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খান।
অবসরে যাওয়া প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নামও আছে আলোচনায়। এদের বাইরে একজন সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক অধ্যাপকের নামও আলোচনায় এসেছে।
গত শনিবার বগুড়ায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেছিলেন, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় নাকি বাইরের কাউকে প্রার্থী করা হবে, সে সিদ্ধান্ত বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকেই নেওয়া হবে।
এদিকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে অনেকের নাম আলোচনায় থাকলেও এখন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের নামই গুরুত্ব পাচ্ছে সবচেয়ে বেশি। তাকে নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা দলের ভেতরে-বাইরে। অবশ্য মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে দল ও সরকারে একাধিক সাংগঠনিক পরিবর্তন আনতে হবে। সে ক্ষেত্রে তাকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়তে হবে। পাশাপাশি মহাসচিব পদেও নতুন নেতৃত্ব আনতে হবে।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিলে তার ঠাকুরগাঁও-১ আসনও শূন্য হবে, ফলে ওই আসনে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হবে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন মির্জা ফখরুল।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে সমন্বয় করে। বর্তমানে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। গতকাল মঙ্গলবার তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।






