অবহেলা কাটিয়ে উন্নয়নের পথে রংপুর সিটি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দেশের উত্তরাঞ্চলের অবহেলিত জনপদ রংপুর সিটি করপোরেশনের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে হাতে নেওয়া হচ্ছে দেড় হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রকল্প। এটি বাস্তবায়িত হলে নবগঠিত এ সিটি করপোরেশন এলাকার সার্বিক অবকাঠামোর উন্নয়ন ঘটবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা। এজন্য ‘রংপুর সিটি করপোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন’ নামের একটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
এটি পাওয়ার পর গত ২৩ জুলাই প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা করেছে পরিকল্পনা কমিশন। সেখানে বেশ কিছু সুপারিশ দিয়ে ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) সংশোধনের জন্য ফেরত পাঠানো হচ্ছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের
পরিকল্পনা কমিশনের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আগামীর সময়কে জানালেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকা (সবুজ পাতা) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এ প্রকল্পটি। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাস্তা উন্নয়ন, প্রশস্তকরণ এবং মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে সড়কের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। এতে যান চলাচল আরও সহজ হবে। সড়ক ব্যবহারকারী ও ভ্রমণকারীদের স্বাচ্ছন্দ্যও বাড়বে। একই সঙ্গে উন্নয়ন করা হবে সড়ক নেটওয়ার্কের। এ ছাড়া ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা কমানো হবে। নতুন সেতু নির্মাণের মাধ্যমে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করা হবে। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থারও উন্নতি হবে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে পরিকল্পনা কমিশন।
সূত্র বলছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৫২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকার ঋণ হিসেবে দিচ্ছে ৬৯৪ কোটি ২৩ লাখ এবং অনুদান হিসেবে ৪৬২ কোটি ৮২ লাখ টাকা দিচ্ছে। বাকি ৪৯৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা বাস্তবায়নকারী সংস্থার রংপুর সিটি করপোরেশনের নিজস্ব তহবিল থেকে খরচ করা হবে। এদিকে প্রক্রিয়াকরণ শেষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে শুরু করে ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নে লক্ষ্য রয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট জানান, প্রকল্পের আওতায় ১৮৬ দশমিক ১৭ কিলোমিটার নতুন রাস্তা তৈরি করা হবে। এ ছাড়া ১৩৯ দশমিক ১৫ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার, ১১৮ দশমিক ৬৪ কিলোমিটার রাস্তা মেরামতসহ প্রশস্তকরণ, ৩১ দশমিক ৬০ কিলোমিটার আরসিসি রাস্তা নির্মাণ এবং ১৫৪ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার আরসিসি ড্রেন তৈরি করা হবে। পাশাপাশি ৫৫ দশমিক ৯৯ কিলোমিটার আরসিসি রাস্তাসহ ড্রেন প্রশস্তকরণ এবং ৬৬১ দশমিক ৩৫ মিটার ২২টি ব্রিজ নির্মাণ করা হবে।
পিইসি সভা সূত্র বলছে, প্রকল্পের প্রস্তাবিত মেয়াদকাল জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ডিসেম্বর ২০২৮ অতিক্রান্ত হওয়ায় তা পরিবর্তনপূর্বক জুলাই ২০২৬ থেক জুন ২০২৯ পর্যন্ত নির্ধারণ করা যেতে পারে। এ ছাড়া প্রকল্পের অর্থায়নে সরকারি খাত থেকে ১১৫৭ কোটি ৬ লাখ ৫৭ হাজার টাকার পাশাপাশি রংপুর সিটি করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৪৯৫ কাটি ৮৮ লাখ ৫৩ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এক্ষেত্রে রংপুর সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আয়ের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে নিজস্ব অর্থায়ন যৌক্তিকভাবে কমাতে হবে।
পিইসি সভায় প্রকল্পের কিছু ব্যয় পুনর্বিবেচনার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মূলধন খাতে কম্পিউটার ও ল্যাপটপ বাবদ প্রস্তাবিত ৫ লাখ ৫৮ হাজার টাকার পরিবর্তে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা যেতে পারে। এ ছাড়া প্রকল্পে প্রস্তাবিত পাঁচটি মোটরসাইকেলের পরিবর্তে দুটি মোটরসাইকেল কেনার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী প্রতিটি মোটরসাইকেলের একক মূল্য ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নির্ধারণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পটি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সে বিষয়টি ডিপিপির নির্ধারিত অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করারও সুপারিশ করা হয়েছে।
বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সাবেক সচিব আবুল মনসুর মো. ফয়জুল্লাহ আগামীর সময়কে বললেন, ‘স্থানীয় উন্নয়নের জন্য এ ধরনের প্রকল্পের প্রয়োজন রয়েছে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিটি পর্যায়ে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে বাস্তবায়নের গতি কমে যেতে পারে। বিভিন্ন ধরনের জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।’
‘প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়াও জরুরি।’—যোগ করেন তিনি।






