মানিক পশারীর দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করবে জামায়াত

বামে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী, ডানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর লোগো
পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন ও রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতির ঘটনা তদন্তে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জামায়াতে ইসলামী। কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বিশেষ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলটি জানায়, বৈঠকে পিরোজপুরে মানিক পশারীর দাফনসংক্রান্ত বিষয়ে সৃষ্ট বিতর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এর সঙ্গে সংগঠনের কেউ জড়িত কি না খতিয়ে দেখবে কমিটি। এ বিষয়ে স্থানীয় সংগঠনকে সার্বিক সহযোগিতা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন— দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি।
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দণ্ডিত জামায়াত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী ছিলেন মানিক পশারী। গত শনিবার দাফনের জন্য তার লাশ পিরোজপুরে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া ও লাশ দাফনে বাধা দেন জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে পুলিশ লাইনসের ভেতরে অনেকটা গোপনে গার্ড অব অনার দেওয়া হয় তাকে। পরে জামায়াত নেতাদের বাধার মুখে তৈরি হয় লাশ দাফনে জটিলতা।
ওইদিনই রাত ১টার দিকে সদর থানা পুলিশের সহায়তায় মানিক পশারীর লাশ তার বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে তার স্ত্রী, মেয়ে ও বোনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা মিলে কবর খুঁড়ে রাত ২টার দিকে দাফন সম্পন্ন করেন।
সে সময় পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে যারা ‘মানিক পশারীর দাফন পিরোজপুরে হতে দেওয়া হবে না’ বলে মিছিল ও বক্তব্য দিয়েছেন এবং ফেসবুকে ক্যাম্পেইন করেছেন তাদের অনেকেই স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মী হিসেবে চিহ্নিত হন।




